সাইকোলজিক্যাল গেমে ধরা খাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

Pathok_2পুঁজিবাজারে বিডি অটোকারস তালিকাভুক্ত হয়েছে অনেক বছর আগেই। ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির ব্যবসা বলতে তেজগাঁওতে সিএনজি স্টেশন রয়েছে। তারওপর নড়ে চড়ে অবস্থা। বছরে মুনাফা করে মাত্র ১৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসানের এ কোম্পানি গতবছর নামেমাত্র ৩ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। মাথা খারাপ করার মতো পিই রেশিও (২১৫.৪৩)। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ার দর অতিরিক্ত অতিমূল্যায়িত হয়ে রয়েছে। তারপরেও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর এ শেয়ারটি নিয়ে কয়েকদিন পরপরই খেলে যাচ্ছে।

আর বেজ ছাড়া দর বৃদ্ধির চমক দেখে ঐ শেয়ারে অতিরিক্ত দরে বিনিয়োগ করে ধরা খাচ্ছেন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীরা। নিজেদের মধ্যে লেনদেন করে এ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়িয়েই যাচ্ছে কেউ কেউ। কিন্তু একসময়ের ২০ টাকার শেয়ার কেন আজ ১১৩ টাকায় লেনদেন হয় সে বিষয়ে কোনো তদন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেই। আজো কোম্পানিটির শেয়ার হল্টেড হয়েছে।

পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেডে কি আছে যে ১০ টাকার শেয়ার কয়েকদিনের ব্যবধানেই ১০ গুনের বেশি ১১২ টাকা হয়ে যাবে? কোম্পানি এমন কোনো আলাদ্বীনের চেরাগ পায়নি যে এটাকে নিয়ে মাথায় তুলে নাচতে হবে। আজ কোম্পানিটির পিই রেশিও ৫৪.৪৪। অর্থাৎ তালিকাভুক্তির পরপরই কোম্পানির শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

সামনে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড দেবে। এখন এসব কোম্পানির টার্নওভার বাড়ার কথা। এগুলো নিয়ে রিসার্চ করার সময়। কিন্তু বাস্তবিকে বাড়ছে ডিসেম্বর ক্লোজিং ব্যাংক,ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর। তাহলে এ মার্কেটে কি অ্যানালাইসিস করবো।

এবার আসি মূল আলোচনায়। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী মনে করেন “ভাবি এক, আর হয় আর এক”। অর্থাৎ সাধারণ বিনিয়োগকারীর ভাবনা আর মার্কেট মেকারদের ভাবনার পার্থক্য অনেক। মার্কেটের গতির সাথে খুব কম সংখ্যক বিনিয়োগকারীই গতি মিলাতে পারেন। যারা মার্কেট মেকার তারা সাধারন বিনিয়োগকারীর সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন বিবেচনা করেই সব প্লান করে থাকেন। বিনিয়োগকারী ভাবলেন জুন ক্লোজিং শেয়ারগুলো ভালো করবে, সুতরাং ভালো ইপিএস, পূর্বের ডিভিডেন্ড ধারা ভালো দেখে বিনিয়োগ করতে হবে এবং বিনিয়োগ করলেন।

এই সময়ে মার্কেট মেকারদের নজরে পড়লো সবচেয়ে পচা জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দিকে। মার্কেট ট্রেন্ড গেলো জেডের দিকে। অনেক সাধারন পাবলিক উচ্চ মূল্যে জেড ক্রয় করে তাদের পোর্টফলিও সাজালেন। মার্কেট মেকাররা এখানে চরমভাবে সফল হলেন। এরপর মার্কেট মেকারদের দৃষ্টি গেলো ডিসেম্বর ক্লোজিং শেয়ারের দিকে। কোন যৌক্তিকতা ছাড়াই ব্যাংক ইন্সুরেন্স শেয়ারগুলো বাড়া শুরু করলো। এবার সাধারন পাবলিক ছুটলেন জুন ক্লোজিং শেয়ার ছেড়ে ডিসেম্বর ক্লোজিং শেয়ারের দিকে। এখানেও মার্কেট মেকাররা সফল। ১৮ আগস্ট মার্জিন লোনের ইস্যুটি আগে থেকেই ঝুলানো আছে। অনুমান করা যাচ্ছে এই ইন্টারিম সময়ে মার্কেট মেকাররা বড় বড় জাংক শেয়ার নাড়াচাড়া করতে পারে যার নমুনা আজ কিছুটা বুঝা গেছে। হয়তো এখানেও মার্কেট মেকাররা সফল হবেন। একবার ভেবে দেখুন সাধারন বিনিয়োগকারীগন এইভাবে লাফালাফি করে কতটুকু লাভবান হতে পেরেছেন। বেশী লাফালাফি করা কোন ভাবেই লাভজনক হতে পারে না-এর প্রমান আপনার পোর্টফলিও।

সর্বশেষের কথা হলো কোনো একটি কোম্পানির শেয়ার আপনি কিনে মনে মনে ভাবলেন দুই টাকা বাড়লেই বিক্রি করে দেবো। কিন্তু যখন শেয়ারটি টানা হল্টেড হয় বা দুই টাকা বেড়ে যায় তখন আপনি চুপটি মেরে বসে থাকেন। আর একসময় যখন সেই দুই টাকাই পান না তখন আফসোস করেন। আপনার এই মানষিকতাকে কেন্দ্র করেই মার্কেট মেকাররা দিনের পর দিন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। তাদের সাইকোলজিক্যালে গেমে আপনি হেরে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

বাবু মোল্লা

রাজশাহী

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

২ Comments

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top