আপনার শেয়ারের সঠিক রিটার্ন যেভাবে বের করবেন

dse-cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারের বাজার মূল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেসভ্যালুর চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই ডিভিডেন্ডের হার প্রকৃত রিটার্ন নির্দেশ করে না। এরজন্য আপনার প্রয়োজন ডিভিডেন্ড ইল্ড বের করা। এটাই হচ্ছে আপনার শেয়ারের সঠিক রিটার্ন।

বাজার মূল্যের ভিত্তিতে প্রাপ্য লভ্যাংশ বিনিয়োগের কত শতাংশ তাই হচ্ছে ডিভিডেন্ড ইল্ড। ঘোষিত লভ্যাংশকে ১০০ দিয়ে গুন করে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের বাজার মূল্য দিয়ে ভাগ করলে ডিভিডেন্ড ইল্ড পাওয়া যায়। এই ইল্ড যত বেশি হবে বিনিয়োগকারীর প্রাপ্তিও তত বাড়বে।

ধরা যাক, মেরিকো বাংলাদেশ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৫০০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এতো বিশাল পরিমাণ ক্যাশ ডিভিডেন্ডে আপনার রিটার্ন কত শতাংশ তা বের করে ফেলুন। মেরিকো বাংলাদেশের শেয়ার দর বর্তমানে ১ হাজার ২৪ টাকা। এখন কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারে ৫০০ শতাংশ মানে প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারে ৫০  টাকা পাবেন। এবার ঘোষিত লভ্যাংশকে ১০০ দিনে গুন দিয়ে বর্তমান শেয়ার দর দিয়ে ভাগ করুন (৫০*১০০)/১০২৪= ৪.৮৮%। অর্থাৎ এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে আপনার ডিভিডেন্ড ইল্ড হচ্ছে ৪.৮৮ শতাংশ

এবার আসি অন্য কোম্পানির কথায়। ডাচবাংলা ব্যাংক ২০১৬ অর্থবছরের জন্য মোট ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। আপনি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা করে পাবেন। এ কোম্পানির শেয়ার দর বর্তমানে ১২৫ টাকা। এখন কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশকে ১০০ দিনে গুন দিয়ে বর্তমান শেয়ার দর দিয়ে ভাগ করুন (৩*১০০)/১২৫= ২.৪%। অর্থাৎ এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে আপনার ডিভিডেন্ড ইল্ড হচ্ছে ২.৪ শতাংশ

ইনভেষ্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) মোট ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এ কোম্পানির শেয়ার দর বর্তমানে ১৮৫ টাকা। এখন কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশকে ১০০ দিনে গুন দিয়ে বর্তমান শেয়ার দর দিয়ে ভাগ করুন (৩*১০০)/১৮৫= ১.৬২%। অর্থাৎ এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে আপনার ডিভিডেন্ড ইল্ড হচ্ছে ১.৬২ শতাংশ

এভাবে আপনি যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চান সেখান থেকে কি পরিমাণ রিটার্ন আসবে সেটা সহজেই বের করে ফেলুন। মনে রাখবেন, যে কোম্পানিতে রিটার্ন যত বেশি পাওয়া যায় সেখান থেকে বিনিয়োগকারীর প্রাপ্তিও অনেক বড়।

বেশি ডিভিডেন্ড দিলেই যে তার রিটার্ন বেশি হবে এমনটা নয়। এটা নির্ভর করবে কি পরিমাণ দরে আপনি শেয়ার কিনলেন তারওপর।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top