যে শর্তে ঋণাত্মক ইকুইটির বিওতে লেনদেনের সময় বাড়বে

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে ঋণাত্মক ইকুইটির বিও হিসাবে লেনদেন অব্যাহত রাখার সময়মীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল। বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেষবারের মতো এ সময়সীমা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে এজন্য ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ সমস্যা সমাধানের একটি পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। আগামীতে পুঁজিবাজারের ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, বিনিয়োগকারী ও বাজারের স্বার্থে আমরা শেষবার ছয় মাস সময় বাড়িয়েছিলাম। এ সময় আগামীকাল শেষ হচ্ছে। স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে এ সময়সীমা আরো বাড়ানোর সুপারিশ আসছে। তারা জানিয়েছেন, বিও হিসাবে লেনদেন চালু রাখা গেলে অনেক বিনিয়োগকারীর ইকুইটি ধনাত্মক ঘরে উন্নীত হবে। সবদিক বিবেচনা করে কমিশন এ সময়সীমা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এজন্য ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ পরিস্থিতি উত্তরণের একটি ব্যবহারিক পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। কারণ এ ছাড় অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতে পারে না।

তিনি আরো জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সমর্থনে চলমান কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় আগামীতে পুঁজিবাজারের ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তার আগে ঋণাত্মক ইকুইটির সমস্যাটির একটি গঠনমূলক সমাধান হয়ে যাওয়া দরকার।

কতদিন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হবে— এ বিষয়ে বিএসইসি মুখপাত্র বলেন, এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার অন্তত এক বছরের জন্য সময় বাড়ানো হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঋণাত্মক ইকুইটির বিও হিসাবগুলোতে লেনদেন বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে তারল্য কমতে পারে। আবার ঋণ সমন্বয়ে শেয়ার বিক্রির চাপও বেড়ে যেতে পারে— এমন আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরেই বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। গতকাল সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচক টানা কমার পাশাপাশি লেনদেনও আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে।

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমস্যাটিকে ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখায় গত তিন বছরে ঋণাত্মক ইকুইটির মোট অংকটি অনেক কমে এসেছে। আমার ধারণা এখন তা ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে না। মার্জিন ঋণ নিয়ে আটকে যাওয়া বিনিয়োগকারীরা আরো কিছুটা সময় পেলে চাঙ্গা বাজারে এটি শূন্যে নেমে আসা খুব বেশিদিনের ব্যাপার হবে না।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, ঋণাত্মক ইকুইটির বিও হিসাবগুলোয় আরো এক বছর লেনদেন চালিয়ে গেলে মোট অংকটি ২-৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে আশা করছি। তাই আমরা এক বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি।

বিএসইসি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনিও জানিয়েছেন, এবারই শেষবারের মতো সময়সীমা বাড়ানো হবে এবং এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ কীভাবে তাদের ঋণাত্মক ইকুইটি সমন্বয় করবে— তার একটি বিষদ পরিকল্পনা বিএসইসিতে জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার বিএসইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে মার্জিন রুলসের ৩ (৫) ধারার স্থগিতাদেশের মেয়াদ ১ বছর বাড়ানোর অনুরোধ করে ডিবিএ ও বিএমবিএ নেতারা।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর ৩(৫) ধারা অনুযায়ী মার্জিন ঋণধারী কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ওই হিসাবে শেয়ার কেনা-বেচা বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু ২০১০ সালের ধসপরবর্তী বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক দফা ধারাটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে স্থগিতাদেশের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে আরো ৬ মাসের জন্য ধারাটি স্থগিত করে কমিশন, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top