বিদ্যুতের দাম বাড়ছে: ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে গণশুনানি শুরু

powerশেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রায় দুই বছর পর বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঈদের পর থেকে কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাইকারি ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের ওপর সব স্টেকহোল্ডারের মতামত শুনতে এই শুনানির আয়োজন করেছে কমিশন।

বৃহষ্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ৭২ পয়সা (১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ) বাড়ানোর প্রস্তাব করে। আর মার্চ ও এপ্রিলে ৬ বিতরণ কোম্পানি সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে ছয় থেকে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাবের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে পাইকারি ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর বিষয়ে পিডিবির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। পিডিবি গ্রাহক পর্যায়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবির ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর শুনানি করা হবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি-ডিপিডিসির প্রস্তাবের ওপর। ডিপিডিসি বিদ্যুতের চলমান পাইকারি মূল্যকে ভিত্তি ধরে ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে পাইকারি মূল্য বৃদ্ধি পেলে দাম আরও বাড়াতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ-ডেসকোর ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর ২ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। তারাও চলমান পাইকারি মূল্যকে ভিত্তি ধরে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। তাদের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ৩ অক্টোবর। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জন্য নবগঠিত কোম্পানি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। তাদের গণশুনানির তারিখ পড়েছে ৪ অক্টোবর। শুনানির পর বিইআরসি দাম বাড়ানোর ওপর সিদ্ধান্ত জানাবে।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৪ টাকা ৮৭ পয়সা (পাইকারি দাম)। কিন্তু প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ৫ টাকা ৫৯ পয়সা। এই মূল্য বাড়িয়ে উৎপাদন ব্যয়ের সমান (৫ টাকা ৫৯ পয়সা) করার প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এদিকে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৬ টাকা ৭৩ পয়সা দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। দাম ছাড়াও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি গ্রাহক পর্যায়ে ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছে। বর্তমানে প্রতিটি মিটারে মাসে ৩০ টাকা ডিমান্ড চার্জ ও ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয় গ্রাহকদের। এটি বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪০ টাকা ও ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগে ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে ছয়বার এবং খুচরা পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top