শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি: যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন

Financial-Litaracy-1শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন ঝুঁকির চূড়ান্ত বাহক। যদি কোন কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায় বা অবসায়ন হয় তাহলে শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের সম্পূর্ণ বা একটি অংশ হারানোর সম্ভাবনা থাকে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যদি কোন কোম্পানির লাভ কমে যায় তবে লভ্যাংশ বিতরণ এবং শেয়ারের দাম আরো পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও অন্যান্য কারণে কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা কমে গেলে বাজারমূল্য পড়ে যায়। ফলে শেয়ারহোল্ডাররাই ঝুঁকির চূড়ান্ত ভার বহন করে থাকে।

ঋণদাতারা লভ্যাংশ পরিশোধের পূর্বেই মুনাফার অধিকারী হয়ে থাকে বিধায় ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে ঋণদাতাদের আয় ঝুঁকি অনেক কম। এছাড়াও কোম্পানির অবসায়ন হলে ঋণদাতারা বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।

এখন বিষয় হলো আপনাকে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। আপনি কি বেশি ঝুঁকি নিতে চান নাকি কম ঝুঁকি নিতে চান?

এছাড়া আপনার সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা, বয়স, সঞ্চয়ের পরিমাণ, সম্পদের পরিমাণ, আয়ের উৎস, অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে ঝুঁকি গ্রহনের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

বিনিয়োগকারীরা যেসব ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়

ক) কোম্পানির স্ব আয়ের কারণে মুনাফা কমে যাওযার ফরে লভ্যাংশ না পাওযা বা কম পাওয়ার সম্ভাবনা এবং শেয়ারের দাম কমে গেলে।

খ) লাভ এবং লভ্যাংশ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে।

গ) কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে বা দেউলিয়া হলে।

ঘ) অন্যান্য কারণে যেমন: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি।

যেসকল কোম্পানির প্রতি বছর লাভ, লভ্যাংশ এবং শেয়ারের মূল্য ব্যাপক উঠা-নামা করে, সেসকল কোম্পানির ঝুঁকির সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে।

ঝুঁকির প্রকারভেদ

অপদ্ধতিগত ঝুঁকি: বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছুটা ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। সিকিউরিটিজ/বিনিয়োগের বৈচিত্রতা দ্বারা যে ধরণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব তা অপদ্ধতিগত ঝুঁকি।

পদ্ধতিগত ঝুঁকি: বিনিয়োগের বৈচিত্র আনয়নের মাধ্যমে এই ঝুঁকি দূর করা যায় না। উদাহরণ: নতুন আইন প্রণয়নের ফলে কোন একটি খাতের ব্যবসায়ে ধ্বস নামল। ঐ খাতের কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ থাকলে, এটা বিনিয়োগকারীর জন্য একটি পদ্ধতিগত ঝুঁকি।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পদ্ধতিগত ঝুঁকি প্রাসঙ্গিক। বিনিয়োগকারীদের এই ধরণের ঝুঁকি সম্পর্কে সজাগ থাকা উচিত, কারণ এই ধরণের ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী সকর কৌশল অবলম্বন করেও ঝুঁকির মাত্রা কমাতে পারে না। পদ্ধতিগত ঝুঁকি এবং রিটার্ণ পরিমাণ মূলধন সম্পদ মূল্য মডেল পদ্ধতির মাধ্যমে নিরুপন করা হয়।

তাই বিনিয়োগের বৈচিত্র আনয়ন দ্বারা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে এক ঝুঁড়িতে সব ডিম না রাখার নীতি মেনে চলা উচিত।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top