ওইম্যাক্স এগিয়ে যাচ্ছে- এম.এ. মালেক

oimax mdওইম্যাক্স ইলেকট্রোড লিমিটেডের আইপিও আবেদন শুরু হয়েছে। ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোড, জিআই ওয়্যার এবং নেইল (পেরেক) এই তিনজাতের পণ্য উৎপাদন করা ওইম্যাক্স পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন ওইম্যাক্সের জন্ম হয়েছে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম.এ. মালেকের হাত ধরে। সরকারি চাকরি ছেড়ে সফল উদ্যেক্তা হওয়ার প্রয়াসে শুরু করে ইলেকট্রোডের ব্যবসা। প্রচন্ড পরিশ্রম, ধৈর্য্য আর মেধার জোরে কোম্পানিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। সম্প্রতি ওইম্যাক্সকে ঘিরে শেয়ারবাজারনিউজের সঙ্গে খোলামেলায় আলোচনায় অংশ নেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম.এ. মালেক। নিম্নে তার সঙ্গে কথার চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনার হাত ধরেই মূলত ওইম্যাক্স ইলেকট্রডের জন্ম। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এই সেক্টরে আপনার স্বরব উপস্থিতি রয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা যদি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতেন….

এম.এ. মালেক  প্রথমেই ওইম্যাক্সের জন্মের কথা দিয়ে শুরু করি।  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স,মাস্টার্স শেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেই। কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে দুই বছর পরই চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করি। ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ওইম্যাক্স ইলেকট্রোড আমার হাত ধরেই পথচলা শুরু করে। অক্লান্ত পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে অর্জিত আজকের এই ওইম্যাক্সের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১০ সালে। তারপর ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট এটিকে প্রাইভেট কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করে পুঁজিবাজারে আসার রাস্তা সহজ করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ এই সেক্টরের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চাই…

এম.এ. মালেক   আমরা মূলত ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড, জিআই তার ও তারকাঁটা প্রস্তুত করি। যেহেতু বর্তমানে এগুলো মানুষের কর্মজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। তাই এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর যেহেতু ব্যাপক চাহিদা সেহেতু এর ভবিষ্যত উজ্জল হবে সেটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে এ ধরনের কোম্পানির সম্ভাবনা অনেক ভালো। কারণ এ খাত সেভাবে বিস্তৃত হয়নি। এ বাজারের আকার এখনও অনেক ছোট। অন্য অনেক খাত প্রসারিত হলেও এটি এখনও বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে এখন অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। পণ্যের চাহিদার কারণে এ ব্যবসার প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অদূর ভবিষ্যতে এ ব্যবসার ক্ষেত্র আরও বাড়বে। এখানে উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হচ্ছে, প্রযুক্তি খাতের পণ্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। নতুন নতুন আপডেট আসে। কিন্তু এ খাতের বিষয়টি ভিন্ন। এখানে তেমন পরিবর্তন করতে হয় না। তাছাড়া পণ্যের চাহিদাও একই রকম থাকে।

শেয়ারবাজারনিউজ আপনার মূল প্রতিযোগী হিসেবে লিন্ডে বিডি রয়েছে। বিডি ওয়েল্ডিং রয়েছে। এছাড়া তালিকায় নাভানা ওয়েল্ডিং, যমুনা ওয়েল্ডিংও রয়েছে। এসব কোম্পানির সঙ্গে আপনার কোম্পানির অবস্থায় কোথায়? চাহিদার তুলনায় আপনার কোম্পানির যোগানের সামঞ্জস্য কেমন?

এম.এ. মালেক একটি ঘটনা বললে অবশ্য আমাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। সেটা হচ্ছে: যে ইলেকট্রড আমরা সাপ্লাই দেই সেটাই মার্কেটের সবচেয়ে কম দাম। চায়না থেকে যে মাল কমদামে আসে তারচেয়েও আমাদের পণ্যের দাম কম। অর্থাৎ আমাদের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। মাসে ২০০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করলেও এর চাহিদা শেষ হবে না। এই সেক্টরে আমরাই সেরা অবস্থানে রয়েছি।

শেয়ারবাজারনিউজ  আপনার ফ্যাক্টরীর ক্যাপাসিটি অনুযায়ী কি পরিমাণ প্রডাকশন হচ্ছে?

এম.এ. মালেক ফ্যাক্টরীর যে ক্যাপাসিটি রয়েছে তার সম্পূর্ণই ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরতিহীনভাবে বিভিন্ন শিফটে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ারবাজারনিউজ  আপনারা পুঁজিবাজারে আসছেন। ইতিমধ্যে আইপিও আবেদন শুরুও হয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীদের আপনাদের কোম্পানির ওপর কিভাবে আস্থা রেখে বিনিয়োগে অংশগ্রহন করতে পারে?

এম.এ. মালেক  প্রথমেই বলতে চাই কোম্পানির ভীত অত্যন্ত মজবুত। পণ্যের গুণগত মানের কারণে বর্তমানে আমরা দেশের নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে কোম্পানিটি লম্বা সময় কাঙ্খিত লক্ষ্যে চলতে পারবে। প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে চলার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। এতে কোম্পানিকে প্রতিষ্ঠিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সঙ্গে থাকলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতি আসবে। এখানে জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি হবে। এতে পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে। কোম্পানিকে সব সময়ে এগিয়ে রাখার তাগিদ কাজ করবে। কারণ কোম্পানি খারাপ করলে বিনিয়োগকারীদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ওইম্যাক্স এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগে অংশগ্রহন করতে পারে।

শেয়ারবাজারনিউজ আপনার কোম্পানির প্রসপেক্টাসে দেখা যায়, ২০১৪ সালে কোম্পানির মুনাফা হয়েছিল ১ কোটি ১৯ লাখ। সেখানে তারপরের বছরই মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৮৯ লাখ। সর্বশেষ ৩০ জুন, ২০১৬ সালে মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। একবছরের ব্যবধানে ১ কোটি থেকে মুনাফা প্রায় ৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। এ বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করুন।

এম.এ. মালেক আমরা ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করে আমরা ব্যয় কমিয়েও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করছি। যে কারণে এগিয়ে যেতে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে কাঁচামাল না এনে বিকল্প ব্যবস্থায় দেশেই কাঁচামালের ব্যবস্থা করছি। আর মুনাফা বৃদ্ধির বিষয় হচ্ছে আমরা নতুন মেশিনারি স্থাপন করে উৎপাদন বাড়িয়েছি।

শেয়ারবাজারনিউজ আপনাদের আইপিও কমিশন সভায় অনুমোদনের পর অনেকদিন অনুমোদনপত্রের জন্য আটকে ছিলো। সেটার কারণ সম্পর্কে একটু বলুন। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় আইপিও’র বিষয়টি ঝুলে ছিলো। সে বিষয়ে কিছু বলুন…

এম.এ. মালেক   এ বিষয়ে শুধু এতটুকুই বলবো যে বা যারা এই বিষয়টি নিয়ে প্যাচিয়েছেন তারা আসলেই জানেই না যে পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা যায় না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের অনুমোদন দিয়েছে।  আমাদের নিয়ে পরিবেশ দপ্তরের কোনোদিনই কোনো ঝামেলা ছিলো না।

শেয়ারবাজারনিউজ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে আপনার মতামত….

এম.এ. মালেক কোম্পারি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস),নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস), পিই রেশিও এক কথায় মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার জন্য সবাই বলে থাকে। আমি শুধু এর সঙ্গে যোগ করবো যে, আপনারা যদি কোনো কোম্পানির ভেতরগত নিউজ পান তাহলে অবশ্যই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে নেবেন। আপনি হয়তো জানেন না অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে একটি পক্ষ আপনার কাছ থেকেই পুঁজি হাতিয়ে নিচ্ছে।  বিনিয়োগকারীদের প্রতি শুভ কামনা রইল।

শেয়ারবাজারনিউজ এতোক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এম.এ. মালেক আপনাকেও ধন্যবাদ।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top