ব্যবসা বাড়াতে সাত কোম্পানির হাতে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

Textileশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ব্যবসা ও মুনাফা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের সাত কোম্পানির হাতে ১ হাজার ২২ কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকার প্রকল্প রয়েছে। কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন (বিএমআরই) ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে এ অর্থ ব্যয় করবে কোম্পানিগুলো।

ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া কোম্পানিগুলো— প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, সিএমসি কামাল, স্কয়ার টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, রহিম টেক্সটাইল ও হা-ওয়েল টেক্সটাইল। সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল: কোম্পানিটি বিএমআরই প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে ১০৩ কোটি ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৬০ টাকার মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করেছে। জাপান, জার্মানি, ইতালি, কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও সুুইজারল্যান্ড থেকে এসব যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সব যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষে উৎপাদন-সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস: উন্নত মানের সুতা উৎপাদনে নতুন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং। প্রচলিত সুতার বাইরে বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদামতো সুতা উৎপাদনে কারখানা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনে ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের রূপনগরে বর্তমান কারখানার পাশে নতুন একটি কারখানা করা হবে। কারখানা স্থাপন ও যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শেষ করে চলতি বছরের শেষ দিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিক্রমে সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) বেসরকারি বিনিয়োগ উইং ইসলামিক করপোরেশন ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব দ্য প্রাইভেট সেক্টর (আইসিডি) থেকে ১০৬ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ নেয়ার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ)। বাকি অর্থ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে।

বর্তমানে কোম্পানির উৎপাদিত সুতা প্রতি কেজি আড়াই ডলারে রফতানি করা যায়। নতুন কারখানায় উৎপাদিত সুতা সাড়ে ৩ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হবে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলসের বার্ষিক উৎপাদন-সক্ষমতা ৬৬ লাখ থেকে ১ কোটি ৩৬ লাখ কেজিতে উন্নীত হবে বলেও জানিয়েছেন কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিএমসি কামাল: বিএমআরইর জন্য প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক বন্ড ইস্যু করে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি। প্রথমে বন্ডের মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সংশোধনের মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের ঘোষণা দেয় সিএমসি কামালের পর্ষদ।

সিএমসি কামালের সিএফও মোহাম্মদ হানিফ জানান, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেয়া হলেও এখনো এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বিএমআরই ও যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানির।

স্কয়ার টেক্সটাইল: ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ২০১৬ সালের আগস্টে ২৫ কোটি টাকায় বিএমআরই ও জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটির পর্ষদ। এতে উৎপাদন ও আয় বাড়বে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

মালেক স্পিনিং: মূল কোম্পানি এবং দুই সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সালেক স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও জেএম ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের ব্যবসা সম্প্রসারণে ২৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করবে মালেক স্পিনিং মিলস লিমিটেড। এর মধ্যে ৩২ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় মালেক স্পিনিংয়ের বিএমআরই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সাবসিডিয়ারি কোম্পানি সালেক টেক্সটাইল লিমিটেডের ফ্যাব্রিকস ইউনিটের সম্প্রসারণে ১৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

অপর সাবসিডিয়ারি জেএম ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের পর্ষদ নিজেদের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১ কোটি ৩০ লাখ পিস বাড়াতে ৯২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের (বিএমআরই) পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান কারখানায় নতুন একটি প্রডাক্ট লাইন চালু করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কোম্পানিটির বার্ষিক উৎপাদন-সক্ষমতা ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার পিস থেকে বেড়ে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার পিসে উন্নীত হবে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে অধিক মূল্যসংযোজনের সুবাদে কোম্পানির মুনাফা মার্জিনও বাড়বে। ফলে কোম্পানির উৎপাদন-সক্ষমতা, বিক্রি ও মুনাফায় প্রভাব পড়বে। সাবসিডিয়ারি কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংকঋণের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কারণে এ প্রকল্পে মূল প্রতিষ্ঠান মালেক স্পিনিংয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

উল্লেখ্য, সালেক টেক্সটাইলের ৯৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও জেএম ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে মালেক স্পিনিংয়ের কাছে।

রহিম টেক্সটাইল: বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ২ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার গজ থেকে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার গজে উন্নীত করার লক্ষ্যে কারখানার বিএমআরই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কোম্পানির পর্ষদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানিটি জমি ক্রয়, নতুন ভবন নির্মাণ, নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করবে। আর এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটি নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, কোম্পানির উৎপাদনক্ষমতা বাড়বে বলে কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান।

হা-ওয়েল টেক্সটাইল: ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানিটি বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয় বাবদ কোম্পানিটি এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

Top