নেগেটিভ ইক্যুইটি: এখন থেকেই অ্যাডজাষ্ট করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন

Editorialবিশ্বের সকল পুঁজিবাজারেই উত্থান-পতন রয়েছে এবং বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। আর পুঁজিবাজার উত্থান পতনের সাথে যারা সমন্বয় করতে পারেন তাদেরকেই সফল বিনিয়োগকারী বলা হয়। যদিও পুঁজিবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় ঋণ করে বিনিয়োগ সঠিক সিদ্ধান্ত নয় তবুও অনেক বিনিয়োগকারী নানা সময়ে মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকেন। ২০১০-১১ সালে পুঁজিবাজার ধ্বসের পর কোনো কোনো স্মার্ট বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ থেকে বেরিয়ে গেলেও অনেকে আটকে পড়ে গেছেন। দিন যত অতিবাহিত হয়েছে ততই বিনিয়োগকারীদের ইক্যুইটি নেগেটিভে পরিণত হয়েছে। ফোর্সসেলের আওতায় চলে আসে অনেক বিনিয়োগকারীর পোর্টফলিও। কিন্তু তা যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হওয়ায় মার্জিন ঋণদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই দিশেহারা হয়ে পড়ে।

এরকম পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের দিক বিবেচনা করে ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল মার্জিন রুলস,১৯৯৯ এর রুল ৩(৫) এর আইনটি স্থগিত করে বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিনিয়োগকারীরা আবারও লেনদেনে সক্রিয় হয়। যার ফলে কিছু বিনিয়োগকারী নেতিবাচক অবস্থার সমন্বয় ঘটিয়েছেন কিন্তু বেশিরভাগ এখনো অস্থিত্বহীন অবস্থায়।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত বারংবার আইনটি স্থগিতের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে শেষ বারের মতো একটা লম্বা সময় দিয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর,২০১৮ পর্যন্ত আইনটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এসময়ের মধ্যে ট্রেকহোল্ডাররা মার্জিন অ্যাকাউন্টের প্রোগ্রেস রিপোর্ট ও ওয়ার্ক প্লান তিনমাস অন্তর অন্তর অর্থাৎ কোয়াটার্লিভিত্তিক তৈরি করে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেবে। আর আগামী মাস থেকেই এর কার্যকারিতা শুরু হবে।

মার্জিনধারী যেসকল বিনিয়োগকারীর পোর্টফলিওতে এখনো নেগেটিভ ইক্যুইটি রয়েছে দিন যত যাবে ততই চক্রবৃদ্ধির সুদের চাপে এই নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ বেড়ে যাবে। যেহেতু প্রতিটি জিনিষেরই একটা শেষ রয়েছে সেই বিবেচনায় বিএসইসিও আর সময় বাড়াবে না বলে জানিয়েছে। তাই এখন থেকেই অল্প করে হলেও বিনিয়োগকারীদের নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাডজাষ্টমেন্ট শুরু করা দরকার। ট্রেকহোল্ডারদের ওয়ার্ক প্লানের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও একটি ওয়ার্ক প্লান তৈরি করা উচিত। কিভাবে নেগেটিভ ইক্যুইটি থেকে বের হওয়া যায় সে বিষয়ে হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গেই পরামর্শ করা যেতে পারে। কারণ পোর্টফলিও ফোর্সসেল হবে কি হবে না সে বিষয়ে তারাই ওয়াকিবহাল।

উল্লেখ্য, আইনে {মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এর রুলস ৩ (৫) ধারা} বলা হয়েছে, যখনই ইক্যুইটি ক্লায়েন্টের মার্জিন অ্যাকাউন্ট ডেবিট ব্যালেন্সের ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসে তখন হাউজগুলো ঋণ সমন্বয়ের জন্য ক্লায়েন্টকে অবহিত করবে। যাতে কোনোভাবেই ইক্যুইটি মার্জিন ঋণের ১৫০ শতাংশের কম না হয়। হাউজ কর্তৃপক্ষের ক্লায়েন্টের প্রতি এ সংক্রান্ত চিঠির ৩ দিনের মধ্যে নগদ অর্থ কিংবা মার্জিনেবল সিকিউরিটিজ দিয়ে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় করবে। যে পর্যন্ত ইক্যুইটি সন্তোষজনক অবস্থায় না আসে সে পর্যন্ত ক্লায়েন্টের লেনদেন বন্ধ থাকবে।

ধরুন, একজন বিনিয়োগকারী ১০০ টাকা জমা দিয়ে শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে একটি বিও অ্যাকাউন্ট খুললেন এবং ১:১ অনুপাতে আরো ১০০ টাকা ঋণ নিলেন। এক্ষেত্রে ঋণসহ মোট ২০০ টাকার শেয়ার ক্রয় করা হলো। পরবর্তীতে মার্কেট খারাপ হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীর পোর্টফলিওতে থাকা শেয়ারের দর ১৫০ টাকায় নেমে এলো। তখন মার্জিন রুলস অনুযায়ী হাউজ বিনিয়োগকারীকে মার্জিন কল করবে। দেখা গেছে, বিনিয়োগকারী হাউজে টাকা জমা দিলো না এবং পরবর্তীতে ঐ শেয়ারের বাজার মূল্য ২০০ টাকা থেকে কমে ১২৫ টাকায় নেমে এলো। তখন হাউজ বিনিয়োগকারীর সম্মতি ছাড়াই উক্ত শেয়ার বিক্রি করে তার দেয়া ঋণ সমন্বয় করে ফেলবে। তখন দেয়া যায়, হাউজ ঋণ ও ঋণের চক্রবৃদ্ধির সুদসহ কেটে বাকি টাকা বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে রেখে দেয়। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী যে পরিমাণ পুঁজি নিয়ে মার্কেটে এসেছে তার কিছুই থাকে না। এমনও সময় আসে যে হাউজ উল্টো বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা পায়। ইক্যুইটি মাইনাসে চলে আসে। তখন বিনিয়োগকারীদের আর কোনো গতি থাকে না।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় যদি নেগেটিভ হিসাবসমূহ এখন থেকেই সমন্বয়ের বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয় তবে সময় শেষে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এছাড়া পুনরায় এ আইন স্থগিতের জন্য উদ্যোগ নেয়ারও প্রয়োজন হবে না।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top