জাঙ্ক শেয়ার থেকে বাঁচতে করণীয়

Pathok_2চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন বুঝিতে কি পারে? কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে….কবি কথার মতই আমাদের দেশের শেয়ার বাজারে যারা ২০১০ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হননি তারাই বর্তমানে শেয়ার বাজারে সূচক সামান্য  বাড়লেই এই বাবল গাম বাবল হয়ে গেল বলে বিভিন্ন পত্রিকায় ও সভা সমাবেশে গলা ফাটান। হতে পারে তারা শেয়ার কৌশলীদের পেইড এজেন্ট কারন তারা মূল বিষয়গুলোকে আড়ালে রেখে পাবলিকের চোখকে ধুলা দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হন।

বর্তমানে বেশ কিছুদিন ধরে যেভাবে ব্যাংক Fundamental শেয়ার গুলি move করছে তাতে শিঘ্রই আবার ঐ সব তথাকথিত শেয়ার কৌশলী পেড এজেন্টগুলো পুনরায় গলা ফাটাবেন । তাই এখনই সময় BSEC এবং DSE এর উচিত নিন্মে বর্নিত বিষয়গুলি বাস্তবায়ন করা।

আমাদের শেয়ার বাজারে যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন তারা সবাই জানেন জাঙ্ক শেয়ার কি। পরিষ্কার কথা small capital শেয়ার গুলোকেই জাঙ্ক ধরা হয়। এখানে বিষয় হচ্ছে এই শেয়ার গুলোর জন্যে বাজারের fundamental  শেয়ারগুলোর দাম সঠিক হয়না। জাঙ্ক শেয়ারের দামকে সহজেই কারসাজি করা যায়। আর এগুলো বাজারের বিনিয়োগকারীদেরকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে। অবস্থা এমন হয় যে তখন Fundamental শেয়ারগুলো ছেড়ে ঐগুলোতে প্রবেশ করে। আর তখনই বাজার অস্থিতিশীল পর্যায়ে চলে যায় । তবে বেশ কিছু দিন ধরে DSE ও BSEC এর কিছু বিনিয়োগ শিক্ষা সচেতন মূলক কর্মসূচির ফলে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ম্যাচিউড হচ্ছে যা DSE এবং BSEC ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য ।

যার ফলশ্রুতিতে অনেক দিন ধরেই বিনিয়োগকারীরা Fundamental শেয়ারের প্রতি ঝোঁক লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা বাজারের জন্য শুভ লক্ষণ। সুতরাং এই প্রবাহটিকে ধরে রাখতে হবে। আর এই প্রবাহটিকে ধরে রাখতে হলে এখনই উপযুক্ত সময় small capital শেয়ারগুলোকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে অতিদ্রুত আলাদা EXCHANGE করে ঐগুলোকে আলাদা করা। তারা দীর্ঘদিন ধরে EXCHANGE পরিচালনা করে আসছেন । তারা জানেন এই জাঙ্ক শেয়ারগুলো দিয়ে খুব অল্প টাকাতেই জাঙ্ক  শেয়ার গুলোর যেকোন একটিকে মেকানিজম করা যায়। আমার মতন অল্প জানা গবেষকের পক্ষেও মাত্র চার কোটি টাকা দিয়েই এই জাঙ্কগুলোর অধিকাংশটিকে মেকানিজম করা সম্ভব।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক: কোন একটি পরিষ্কার স্থানের পাশে মানুষের মলের ভাগাড় রাখা যায় তবে ওটা থেকে যে দুর্গন্ধ বাহির হবে তা দূর করতে যদি ঐ স্থানে ঘেরার ব্যবস্থা করা হয় তবে সাময়িক গন্ধ বন্ধ হলেও কিছু দিন পুনরায় গন্ধ বাহির হবে। কিছু বিনিয়োগকারীরা হয়তো ঐসব junk শেয়ার দিয়ে মাঝে মধ্যে লাভ করেন কিন্তু junk গুলো আমার বর্নিত উদাহরণ মতে সেগুলি junk শেয়ারগুলি মানুষের মল। সুতরাং ঐ মলের ভাগাড়কে না ঘিরে ভাগাড়কেই হটিয়ে দিতে হবে।

stock exchange থেকে junk শেয়ার গুলোকে হটিয়ে আলাদা exchange এ গঠন করতে হবে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে fundamental এর ঝড় তুলুন এবং জাঙ্ক শেয়ারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিন এবং শেয়ারগুলোর জন্যে আলাদা EXCHANGE গঠন করে বর্তমানের বিনিয়োগকারীদের এই fundamental  বিনিয়োগ প্রবাহকে উৎসাহিত করুন।

বিনিয়োগকারীদেরকে স্থায়ী স্থিতিশীল বাজার উপহার দিতে দুটো সিদ্বান্ত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। প্রথমত:  T+0 কার্যকরা করা। অর্থাৎ শেয়ার কিনেই বিক্রি করতে পারা। দ্বিতীয়ত: small capital শেয়ারের জন্য আলাদা EXCHANGE গঠন করা। কারন T+0 বাস্তবায়ন হলে এবং জাঙ্কগুলো আলাদা করলে শেয়ার কৌশলীরা অল্প টাকাতেই যেভাবে  গ্যাম্বলিং করতে পারে সেটি আর পারবেনা।

সুতরাং পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

লেখক ও শেয়ার গবেষকঃ মোঃআব্দুল মতিন চয়ন।

গ্লোব সিকিউরিটিজ লিঃ রাজশাহী।ও ICML রাজশাহী শাখা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top