শেয়ার কেনার নিরাপদ কৌশল

investorবিনিয়োগকারীকে তার বিনিয়োগ মূলধনকে ৩টি ধাপে বিনিয়োগ করতে হবে যার প্রথম ধাপ হল দীর্ঘমেয়াদি ।  ২য় ধাপ হল মিডল টার্ম এবং ৩য় ধাপ হল সর্ট টার্ম। ১ম ধাপ বা লং টার্মে বিনিয়োগকারীকে যেসব বিষয় অনুসরণ করতে হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 কঃ  প্রথমেই দেখতে হবে ছোট মূলধনী A ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর কোনটির দাম দীর্ঘদিন ধরে স্হিরমান বা সামান্য ব্যবধানে উঠানামায় আছে এবং তুলনামুলক ভাবে কম PE নিয়ে দাম স্হির আছে।

 খঃ  অবশ্যই উক্ত শেয়ারটি বোনাস ঘোষনায় বোনাস শেয়ার ঢুকার কমপক্ষে ২০ দিন পর ক্রয় করতে হবে এবং উক্ত শেয়ারটি কোয়াটার্লি ঘোষণার প্রচারিত DATE এর দিন বিক্রয় করে দিতে হবে।

এবার আসি ২য় ধাপ বা মিডল টাম ঃ কঃ মাসের যেকোন দিনকে প্রথম দিন ধরে প্রথম দিন শেয়ার ক্রয় করতে হবে পরবর্তী ৩০ দিনে লাভ নিতে হবে।

খঃ আপনার বিনিয়োগকৃত মূলধনকে পাঁচ ভাগে ভাগ করতে হবে।

গঃ দুই ভাগের বিনিয়োগ করতে হবে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারে যার PE থাকতে হবে ১৫ এর নিচে।

ঘঃ এক ভাগ বিনিয়োগ করতে হবে A ক্যাটাগরির জান্ক শেয়ারে যেগুলি স্মল ক্যাপ ।

ঙঃ এক ভাগ বিনিয়োগ করতে হবে মিউচুয়াল ফান্ডে।

চঃ এবং সর্বশেষ ভাগ বিনিয়োগ করতে হবে Z ক্যাটাগরির শেয়ারে।

 এই পাঁচ ভাগের শেয়ার কিনার ক্ষেত্রে প্রথম যেটি অনুসরন করতে হবে তাহল সব শেয়ারগুলোর বটম প্রাইেস বা এর চাইতে  সামান্য কম বা বেশী দামে শেয়ার কিনতে হবে।

জঃ প্রতিটি ভাগের শেয়ার কিনার ক্ষেত্রে মূল যেটি খেয়াল রাখতে হবে তাহল উক্ত শেয়ারটির মূল্য অল্প ভলিউমেই বাড়ছে কিনা।

এবার আসা যাক সব শেষ ধাপ বা সর্ট টার্ম: এই ধাপে আপনাকে অনেক কৌশলী হতে হবে এবং রিস্ক নিতে হবে। আমাদের শেয়ার বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যারা ডেইলি ট্রেড করে বা এই সর্ট টার্ম বিনিয়য়োগ করে  অল্প দিনে লাভ পেতে চায় তারাই অধিকাংশ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার জন্য কয়েকটি কারন রয়েছে ।

প্রথম কারণ: সঠিক সময়ে শেয়ার কিনতে না পারা ।কারন লাভ বা ক্ষতি সব সময় ক্রয় মূল্যের উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে যারা শেয়ার গ্যাম্বলিং বা শেয়ার মেকানিজম করে তারা মেকানিজম পলিসি দ্রুত পরিবর্তন করে আর তাদের এই রং বদলানোর জন্য প্রভাবক হল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যারা ডেইলি ট্রেড করে বা অল্প দিনে লাভ পেতে চায় । যদি কোন বিনিয়োগকারী অল্প দিনে লাভ পেতে চায় তবে তাকে খুবই কৌশলী হতে হবে কারন যারা গ্যাম্বলিং করে তাদের কৌশল আপনার চাইতে অনেক বেশী।

যার জন্যে কিছু টিপস অনুসরণ করা যেতে পারে।

কঃযদি কোন শেয়ার কিনতে চান তবে প্রথমেই দিনের শুরুতে  টপ-২০ তে আসল কিনা ।

খঃ গত দিনের হাই প্রাইস পার করে লেনদেন হচ্ছে কিনা।

গঃ যদি দেখেন হাই প্রাইস পার করে এসেছে তবে ঐ শেয়ারটির ক্লোজ প্রাইজ  ইতিমধ্যে দীর্ঘ তিন মাসের মধ্যে প্রাইস লেবেল খুবই সামান্য উঠানামা আছে কিনা ।

ঘঃ শেয়ারটির ওপেন প্রাইস অনেকখানি বেশী দামে লেনদেন হল কিনা এবং একাধিকবার  শেয়ারটির হাতবদল হল কিনা।ঙঃ অল্প ভলিউমেই শেয়ারটির দাম বৃদ্ধি পেল কিনা এবং অল্প ভলিউমেই দাম ‍বৃদ্ধি পেয়ে শেয়ারটির কেনাবেচা বা ট্রেড কম হচ্ছে এবং দাম স্হির বা বাড়তির দিকে আছে কিনা ।

চঃ বিগত দিন গুলোর চাইতে কেনার দিনের ট্রেড এভারেজ সামান্য তারতম্য আছে কিনা ।

ছঃ শেয়ারটির দাম অনেকাংশ বৃদ্ধি পেয়েও দিন শেষে স্বাভাবিক ভলিউমে থাকল কিনা ।

লেখক ও গবেষকঃ  মোঃ আব্দুল মতিন চয়ন ।

ইনভেষ্টর, গ্লোব সিকিউরিটিজ ও icml রাজশাহী শাখা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

২ Comments

*

*

Top