লোন উল্ফ খ্যাত বার্নার্ড বারুকের শেয়ার ব্যবসায়ের ১০ নিয়ম

baruch 4বার্নার্ড এম বারুক (মার্কিন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক) শেয়ারবাজার লেজেন্ড হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। ১৮৭০ সালের ১৯ আগষ্ট সাউথ ক্রোলিনার ক্যামডেন শহরে এক ইহুদি পরিবারে বার্নার্ড বারুক জন্মগ্রহন করেন। ১৮৮১ সালে বারুকের বাবা ক্যামডেন থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলে আসেন এবং সেখানেই তার লেখাপড়া শুরু হয়। তিনি নিউ ইয়র্কের সিটি কলেজ থেকে স্মাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। বার্নার্ড পড়াশুনা শেষে এ.এ. হাউজম্যান অ্যান্ড কোম্পানিতে পার্টনারশীপে ব্রোকারেজ ব্যবসা শুরু করেন।

এই ব্যবসা থেকে আয় ও কমিশন দিয়ে বার্নার্ড নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ১৯ হাজার ডলার (বর্তমানে সাড়ে ৫ লাখ ডলারের বেশি) খরচ করে শেয়ার ব্যবসায়ের লাইসেন্স কিনে নেন।

baruch 2বার্নার্ডের বয়স যখন ৩০ তখন এ ব্যবসা থেকে তিনি প্রচুর মুনাফা অর্জন করে মিলিনিয়র হন। ১৯০৩ সালে নিজের ব্রোকারেজ হাউজের এতো উন্নীত হয় যে তখন সবাই তাকে  “The Lone Wolf of Wall Street” অর্থাৎ ওয়াল ষ্ট্রিটের একচেটিয়া ব্যবসায়ী বলা শুরু করে। ১৯১০ সালে ওয়াল ষ্ট্রিটে তাকে বেষ্ট ফিন্যান্সিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি আমেরিকার রাষ্ট্রনায়ক উডরো উইলসনের অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রেসিডেন্ট রোজভেল্টের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।

বার্নার্ড ‍বারুকের শেয়ার ব্যবসায়ের ১০ নিয়ম:

০১. আপনি যদি ফুল টাইম জব হিসেবে সময় দিতে না পারেন তাহলে শেয়ার ব্যবসা আপনার জন্য নয়।

০২. নাপিত,বিউটিশিয়ান,ওয়েটার থেকে শুরু করে যেই হোক না কেন যদি কেউ আপনার কাছে শেয়ারব্যবসায়ের কোনো গোপন তথ্য (ইনসাইডার ট্রেডিং) বা পরামর্শ প্রদান করতে চায় তাহলে তাদের থেকে সাবধান থাকুন।

০৩. কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে কোম্পানির নাড়ি-ভুড়ি পর্যন্ত যাচাই করুন। কোম্পানি ম্যানেজমেন্টে কারা আছে,কাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, কোম্পানির আয় এবং সামনে কেমন গ্রোথ হতে পারে ইত্যাদি বিবেচনা করুন। baruch 3

০৪. আপনি সর্বনিম্ন দামে শেয়ার কিনবেন বা সর্বোচ্চ দামে শেয়ার বিক্রি করবেন এমন চিন্তা মাথায় আনবেন না। মিথ্যাবাদী ছাড়া কারো পক্ষেই এটা সম্ভব নয়।

০৫. আপনি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বিষয়টা এমন নয়। আপনারও লস হতে পারে। যদি মনে করেন আপনার ভুল হয়েছে তাহলে যতদ্রুত সম্ভব লসকে রিকভার করে ফেলুন।

০৬. বিভিন্ন আইটেমের বেশি কোম্পানির শেয়ার কিনবেন না। আপনি যতগুলো কোম্পানি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে পারবেন সেগুলোতেই বিনিয়োগ করুন।

০৭. আপনার বিনিয়োগগুলো পুন:মূল্যায়ন করুন। যেহেতু ওয়েদার চেঞ্জিংয়ের একটা প্রভাব রয়েছে তাই মেয়াদি ভিত্তিতে বিনিয়োগকে রদবদল করতে পারেন।

০৮. কখন শেয়ার বিক্রি করলে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যাবে সেজন্য আপনার ট্যাক্স পজিশন নিয়ে পড়াশুনা করুন।

০৯. সবসময় আপনার হাতে ভালো পরিমান নগদ টাকা রেখে দিন। কখনোই ফান্ডের সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগ করবেন না।

১০. সব তরকারির জিরা হতে যাবেন না। অর্থাৎ অল্প অল্প জানেন একারণে সবখানেই ইনভেষ্ট করবেন না। যে বিষয়ে আপনি খুবই পারদর্শী সেগুলো নিয়েই থাকুন।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

Top