পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব

saifur rahman mozumder

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং নতুন ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করে সৃষ্টির পর থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ সকল প্রকার আধুনিকায়নে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। তারই ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আধুনিক সকল প্রকার তথ্যপ্রযুক্তি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালের ২ জুনে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিপ্লব ঘটে যায় যেদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (সিএসই) দেশে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের (অটোমেটেড ট্রেডিং) প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করে। সেদিন থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রযুক্তি (ইনফরমেশন টেকনোলজি) প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত কয়েক বছরে দেশের পুঁজিবাজার বড় বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।

লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট খোলার সময় থেকে শেয়ার লেনদেনের পুরো বৃত্তটি সম্পূর্ণরূপে অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বয়ংক্রিয় লেনদেন প্রক্রিয়া শুরু হয় সিএসই যখন, ১৯৯৮ সালে, WAN backbone way back-এর ওপর পুরোপুরি কম্পিউটার অ্যাপলিকেশনভিত্তিক লেনদেন পদ্ধতি সূচিত করে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকার বিনিয়োগকারীগণ প্রথম অনলাইন ট্রেডিং সিস্টেমে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। অনতি পরেই, ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ)-দেশের অপর বোর্স, অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি চালু করে। ২০০৪ সালে এতে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেম প্রবর্তন এবং কাগুজে শেয়ারের নির্বস্তুকরণ (ডিম্যাটারিয়ালাইজেশন) শুরুর মাধ্যমে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। ‘ইলেক্ট্রনিক শেয়ার’ দ্বারা ‘কাগুজে শেয়ার’ প্রতিস্থাপিত হয়। একই বছরে সিএসই বিনিয়োগকারীদের জন্যে রিয়েল টাইম ইন্টারনেট ট্রেডিং চালু করে যা ছিলো সিএসইর, এর ব্রোকারদের পক্ষে, সাহসিক পদক্ষেপ। দ্রুত লেনদেন বৃদ্ধি এবং নতুন প্রোডাক্ট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে সিএসই এর পুরাতন লেনদেন পদ্ধতির স্থলে, ২০১১ সালের অক্টোবরে, ‘নেক্সট জেনারশেন ট্রেডিং সিস্টেম (এনজিটিএস)’ প্রবর্তন করে। সিএসই প্রবর্তিত এই এনজিটিএস খুবই শক্তিমান ট্রেডিং ইঞ্জিন যা প্রতি সেকেন্ডে কযেক হাজার ক্রয়-বিক্রয় আদেশ গ্রহণে সক্ষম। এই পদ্ধতি উচ্চ পরিমাপক এবং উচ্চতর অর্ডার এবং কনট্রাক্ট রেট পরিমাপে সক্ষম। এই পদ্ধতি স্টেট অফ দ্য আর্ট ট্রেডিং সিস্টেম ‘মিলেনিয়াম এক্সচেঞ্জ’ দ্বারা প্রযুক্তিগত সহায়তা লাভ করে। পৃথিবীর অন্যতম প্রধান বোর্স লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জও একই পদ্ধতিতে পরিচালিত। সেই সঙ্গে একই বছর ২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে সিএসই, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, অরিজিনেটর হিসেবে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার চালু করে।

বর্তমান কম্পিউটার অ্যাপলিকেশনভিত্তিক ট্রেডিং ইঞ্জিন স্ক্রিন-বেজড ও কোট-ড্রাইভেন লেনদেন সুবিধা দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ক্রয়-বিক্রয় আদেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত দর উল্লেখ এখন অনুমোদিত। মেশিন ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সর্বোৎকৃষ্ট দরের সামঞ্জস্য বিধান করে। দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর বর্তমান প্ল্যাটফর্মগুলো মাল্টিপল অ্যাসেট ক্লাস, মাল্টিপল মার্কেট স্ট্রাকচার ইত্যাদির সহায়ক এবং অর্ডার বা আদেশের ধরনের অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন আওতা নিশ্চিতকরণে সক্ষম। এই পদ্ধতি মাল্টিপল ট্রেডিং পদ্ধতি এবং ট্রেডিং অ্যাক্রস মাল্টিপল অর্ডার বুকস্-এরও সহায়ক। এই স্বয়ংক্রিয় লেনদেন-পদ্ধতির অন্যান্য প্রধান ফিচারগুলো হলো: অ-সীমাবদ্ধ অথবা নিয়ন্ত্রিত লেনদেন (প্রাইস ব্যান্ডস্, সার্কিট ব্রেকারস্ ইত্যাদি), স্থিতিস্থাপক আদেশ বহি অগ্রাধিকারকরণ পরিকল্প (প্রাইস-টাইম, প্রাইস-ক্যাপাসিটি-টাইম, সাইজ-টাইম ইত্যাদি), অফ-বুক ট্রেডস্, আদেশ বহির রিয়েল টাইম প্রকাশনা, লেনদেন সময় ও বিক্রয় তথ্য, পরিসংখ্যানের ব্যাপক আওতা (হাই/লো, ঠডঅচ, ভলিউম, ইন্ডিকেটিভ অকশন প্রাইস ইত্যাদি), ব্যবহারকারীর স্থিতিস্থাপক অনুমতি পরিকল্প, বাজার পরিচালনার অধিক কার্যকারিতা (ম্যানেজ অর্ডারস্, ক্যানসেল ট্রেডস্, হল্ট/রিজিউম ট্রেডিং, এক্সটেন্ড/ শর্টেন সেশনস্, সাসপেন্ড পার্টিসিপেন্টস্, ম্যানেজ স্ট্যাটিক ডাটা প্রভৃতি), অর্ডার সাবমিশনের ফিক্স ও ফাস্ট ভিত্তিক ইন্টারফেস, লেনদেন প্রতিবেদন, ড্রপ কপিস এবং বাজার উপাত্ত (মার্কেট ডাটা)।

আজকের বাজারে লেনদেনের গতি ও পরিমাণ বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তকরণে মার্কেট মনিটর ও রেগুলেটরদের অধিকতর ক্ষমতাবান ও বিশ্বাসযোগ্য নিরীক্ষণ উপকরণ (সার্ভেইল্যান্স ইনস্ট্রুমেন্টস্) প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। বাজার নিরীক্ষণ পুঁজিবাজারের অখ-নীয় অংশ। দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সিএসই ও ডিএসই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সকলেরই আধুনিক সার্ভেইল্যান্স মডিউল রয়েছে যা রিয়েল টাইম ও অফলাইন এনালিসিস এবং প্যাটার্ন কনফিগারেশনে সহায়ক। সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম বা নিরীক্ষণ পদ্ধতিগুলো উদ্যোগহীন মার্কেট রিপ্লে, ব্যাপক কেইস ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সম্পাদনে সক্ষম। এই নিরীক্ষণ পদ্ধতিগুলোর রয়েছে ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের যোগ্যতা, বর্ধিত সম্পর্ক শনাক্তকরণ, স্থিতিস্থাপক ও ক্ষমতাধর নকশা প্রণয়ন এবং বিধি পরিপালনের সামর্থ্য।

সিএসই ২০০৪ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্যে রিয়েল টাইম ইন্টারনেট ট্রেডিং চালু করে। ২০১১ সালে এনজিটিএস চালুর পর, রিয়েল টাইম ইন্টারনেট ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম অধিকতর ক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরাপদ হয়ে ওঠে। এটা একটা ওয়েব অ্যাপালিকেশন যার রয়েছে ক্রয়-বিক্রয় আদেশ পেশ, এর সম্ভাব্য পরিবর্তন-পরিমার্জন ও বাতিলের বিনিয়োগকারী-বান্ধব, সহজে ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেস। আইটিএস বিনিয়োগকারীদের অর্ডার বুক, ট্রেড বুক, ক্যাশ ও স্টক লিমিট ইত্যাদির যথার্থতা প্রতিপাদন অনুমোদন করে। একজন বিনিয়োগকারী নিজ বিনিয়োগের আগ্রহের ভিত্তিতে কাস্টমাইজড মার্কেট ওয়াচ উইনডো সৃষ্টি করতে পারেন। সিএসই মোবাইল অ্যাপলিকেশন ‘চিত্রা’র সাহায্যে যেকোনো অ্যান্ড্রইড স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে সিকিউরিটিসমূহের রিয়েল টাইম ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা যায়। ‘চিত্রা’ এভাবে ‘অন দ্য গো’ বিনিয়োগে সহায়ক। সিএসই মোবাইল অ্যাপলিকেশন ‘সি-ক্লাউড’-এর সাহায্যে একজন বিনিয়োগকারী বাজারের রিয়েল টাইম গতি এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের পরিসংখান দেখতে পারেন। স্মার্ট ফোনভিত্তিক অ্যাপলিকেশনের এই সূচনা পুঁজিবাজারে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই ব্যবস্থা শেয়ার লেনদেনে নমনীয়তা দান করে, বিনিয়োগকারীগণের প্রত্যাশা। দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ইন্টারনেট ও মোবাইল ট্রেডিংয়ের এই উত্থান নতুন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) স্টক ব্রোকারদের জন্যে বিনিয়োগকারীদের স্টক, ক্যাশ, মার্জিন ও রিস্ক প্যারামিটারসমূহের ব্যবস্থাপনার সুবিধা সৃষ্টি করে। সহায়ক (কোল্যাটারাল) মার্জিন, স্টক মার্জিন, রিসিভেবল মার্জিন ইত্যাদিতেও সহায়ক এই আরএমএস। ইনট্রাডে/ডেলিভারি, শর্ট সেল প্রভৃতি রিস্ক প্রোডাক্টের সমাধানও নিশ্চিত করে আরএমএস। অটো স্কয়ার অফ ফাংশন ও রিস্ক স্কয়ার অফ ফাংশনসমূহকেও সহায়তা দেয় এই আরএমএস। এতে মার্কেট এলার্ট, ক্যাশ এলার্ট, মার্জিন এলার্ট ও স্টক এলার্টগুলির প্রতি মার্ক রয়েছে। এই পদ্ধতিতে মার্কেট টু মার্কেট এবং মার্জিন ব্লকিং ও স্কয়ার অফ সাপোর্টের রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ সংযোজিত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি পুঁজিবাজারে তথ্যের প্রচারকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। অতীতের হস্তচালিত পদ্ধতির তুলনায় তথ্য এখন অনেক কম খরচে সংগ্রহ ও সংরক্ষণীয় এবং প্রবেশযোগ্য। তাই এতে সুলভ তথ্যের গুণ ও পরিমাণই কেবল বাড়বে এমন নয়, বরং অধিকতর তথ্য সংগ্রহের চাহিদা সৃষ্টি হবে। বর্ধিত তথ্যের পর্যাপ্ততা হেতু বিনিয়োগকারীগণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাজারে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হয়তো উন্নততর ও অধিক সন্তোষজনক বিনিয়োগ-সিদ্ধান্ত গ্রহণের আশায়। স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ওয়েবসাইটগুলো বাজারে অংশগ্রহণকারীদের জন্যে তথ্যরাজির স্বাগতিক সংরক্ষক হিসেবে কাজ করে। বাজারের তথ্য ও বিশ্লেষণ ছাড়াও ওয়েবসাইটগুলো কোম্পানি, স্টক ব্রোকার ও বাজারে সদা আগত ঘোষণাসমূহ সংক্রান্ত তথ্যও পরিবেশন করে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যে ওয়েবসাইটগুলোতে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধিমালাও প্রকাশিত হয়। এখন একজন বিনিয়োগকারী ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ-সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে সহজে ওয়েবসাইটগুলোতে সুলভ কোম্পানি ও বাজার সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্যরাজিতে প্রবেশ করতে পারেন।

অবাধ এই তথ্যপ্রবাহের ফলে সঙ্গত কারণেই চলে আসে কিছু নিরাপত্তা-ঝুঁকি। সামান্য কিছু অবহেলা বা অসাবধানতার কারণে হয়ে যেতে পারে বড়সড় কোনো আর্থিক বিপর্যয়। আইসিটি (তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি) খাতে সংঘটিত বিস্ময়কর উন্নয়ন স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর নানা চ্যালেঞ্জ আরোপ করেছে। এই খাত পৃথিবীর অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত বাজারের মতো তথ্যের গোপনীয়তা, অখ-তা ও সুলভতা থেকে সৃষ্ট হুমকিও আরোপ করে বোর্সগুলোর ওপর। এভাবে, অনেক স্তর সম্পন্ন নিরাপত্তার প্রশ্নে, নেটওয়ার্ক, হোস্ট ও অ্যাপলিকেশনের আক্রমণ-প্রতিরোধক আইসিটি অবকাঠামো লাভের লক্ষ্য অর্জনই এখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি কর্পোরেট রিসোর্স সংক্রান্ত তথ্যে দ্রুত প্রবেশ, ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেসগুলো সক্ষমকরণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের উন্নয়ন সাধনকে অনায়াসসাধ্য করে তুলেছে। একই কারণে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন পদ্ধতিও বাজারের জন্যে গুরুতর নিরাপত্তা-ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। ওয়েবসাইট নিরাপত্তার প্রতি নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। ইন্টারনেটের উন্মুক্ত প্রকৃতি ব্যবসার জন্যে আইসিটি অবকাঠামোর নিরাপত্তা বিষযে মনোযোগ দেওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে।

তবে এই ঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে রাখার জন্যে তথা পুঁজিবাজারে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদ্ধতিগতভাবে আন্তর্জাতিক মানসম্মত বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করা যায়। যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইটি সিস্টেম, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুকরণ, নিয়মিত আইটি অডিট সম্পাদন, আইটি কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি।

পুঁজিবাজারের তথ্যপ্রবাহে প্রযুক্তির বড় একটা প্রভাব রয়েছে এবং বিরুদ্ধ শক্তির প্রভাবে সংঘটিত পরিবর্তনগুলোরও প্রভাব পড়ে মার্কেট অপারেশন ও পুঁজিবাজারের গঠনের ওপর। আমাদের পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্যে অনেক প্রোডাক্ট ও প্রযুক্তি পাইপলাইনে রয়েছে। এই প্রোডাক্টগুলো স্বয়ং প্রযুক্তির ওপর খুবই নির্ভরশীল। ‘স্মল-ক্যাপ’ বা ‘ক্ষুদ্র-মূলধন’ বাজার সৃষ্টির প্রস্তাব এরইমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। বিএসইসি এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং ফান্ড (ইটিএফ) চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। ডেরিভেটিভস্ আমাদের বাজারকে সমৃদ্ধ করতে অপেক্ষমান। এই প্রোডাক্টগুলো ভীষণভাবে আইসিটি প্রোডাক্ট ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বিএসইসি বাজারের জন্যে একক ও অখ- ‘সেন্ট্রাল ক্লিয়ারিং কাউন্টারপার্টি (সিসিপি)’ চালুরও পরিকল্পনা করছে। সেন্ট্রাল ক্লিয়ারিং কাউন্টারপার্টি ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্টের শৃঙ্খলার প্রতি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করবে।

উপযোগী, আরোহণ(পরিমাপ) যোগ্য (scalable)) এবং আন্তঃসংযোগপূর্ণ প্রযুক্তিই পুঁজিবাজারকে পরবর্তী যুগে উত্তীর্ণ করবে। স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের পক্ষে, আয় ও দক্ষতা বাড়ানোর সক্ষমতার জন্যে প্রযুক্তির ব্যবহার জটিল হয়ে উঠবে। আগামী বছরগুলোর জন্যে বাজারকে আকৃতি দিতে প্রযুক্তিপ্রবণতা অব্যাহত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি পরিপালন ও সাইবার নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলোর শীর্ষে অবস্থান অব্যাহত থাকবে। মোবাইল অ্যালিকেশন ও ডাটা এনালিটিকস্য়ের অগ্রাধিকারও অব্যাহত থাকবে। অদূর ভবিষ্যতে প্রোডাক্ট ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটতে যাচ্ছে। আমাদের পুঁজিবাজারের উন্নততর অবস্থার জন্যে আমাদেরকে এই পরিবর্তনগুলো সাদরে মেনে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অগ্রদূত হিসেবে যুগোপযোগী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ সকল আধুনিক পদ্ধতি চালুকরণ, নতুন পণ্য ও ফিচার চালুকরণ, বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ, ক্রমান্বয়ে বাজারে দক্ষতা আনয়ন ইত্যাদি বিষয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

লেখক:

এম সাইফুর রহমান মজুমদার,এফসিএ,এফসিএমএ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লি:

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top