জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করুন: বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

imageশেয়ারবাজার ডেস্ক: জ্বর হলে আর দেরি নয়। দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন। কারন ইদানিং ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তাই জ্বর হলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বাংলাদেশের চেয়ে ডেঙ্গুর প্রভাব ভারতে বেশি পড়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকা সূ‌ত্রে জানা গেছে, ৮ নম্বর গলির পরে এ বার ১ নম্বর গলি। নিউ টাউনের প্রমোদগড়ের ৮ নম্বর গলির বাসিন্দা মাধুরী বৈদ্যর ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল গত বুধবার। সেই মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতে ফের সোমবার ডেঙ্গিতে মৃত্যু হল ১ নম্বর গলির বাসিন্দা বছর উনিশের রিয়া সরকারের।

রিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নভেম্বরের ৯ তারিখ জ্বর আসে তাঁর। রিয়ার মামা বুড়ো দাস বলেন, ‘‘১০ তারিখেই রিয়াকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। রক্ত পরীক্ষায় এনএস-১ পজিটিভ আসে।’’ বুড়োবাবু জানান, রিয়াকে আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক আউটডোরে দেখে কিছু ওষুধপত্র দিয়ে ছেড়ে দেন। বাড়ি ফেরার পরে শনিবার জ্বর ছেড়ে যায়। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা থেকে ফের জ্বর আসে। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ রিয়ার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়। পেটে ব্যথার সঙ্গে শুরু হয় ডায়রিয়া। সোমবার সকালে রিয়াকে ফের আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিজনেদের অভিযোগ, হাসপাতালে রিয়াকে বেশ কিছুক্ষণ ফেলে রাখায় ওর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। রিয়ার মামার অভিযোগ, ‘‘চিকিৎসকেরা রিয়াকে ডায়রিয়ার ওয়ার্ডে ঢুকিয়ে ডায়রিয়ার চিকিৎসা শুরু করেন। সাড়ে বারোটা নাগাদ মৃত্যু হয় রিয়ার।’’ মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ডেঙ্গির উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা ডেঙ্গি লিখতে রাজি হচ্ছিলেন না। রিয়ার মামা বলেন, ‘‘অনেক টালবাহানার পরে ডেথ সার্টিফিকেটে এনএস-১ লেখা হয়।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’মাস আগে রিয়ার বিয়ে হয়েছিল। এলাকাতেই তাঁর একটি পোশাক তৈরির দোকান ছিল। রিয়ার মা শ্যামলীদেবী এ দিন হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘‘ওকে ছাড়া একটা দিনও কী ভাবে বাঁচব জানি না।’’

প্রমোদনগর এলাকায় একের পর এক ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনায় সত্যিই কতটা টনক নড়েছে পুরসভার? বিধাননগর পুরসভার অধীনে ওই এলাকার কাউন্সিলর চামেলি নস্করের দাবি, ‘‘পুরসভার তরফে নিয়মিত ব্লিচিং ছড়ানো ও মশার তেল স্প্রে করা হয়। মশা মারার কামানও দাগা হয়।’’ যদিও এলাকাবাসীর অভিযোগ, জঞ্জালের গাড়ি নিয়মিত আসে না। ঝোপজঙ্গল গজিয়ে কার্যত মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। পুরসভা শুধু ব্লিচিং ছড়িয়েই দায় সারছে।

এ দিনই রাজারহাটের কাদিহাটি এলাকায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় সুমন দে নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবকের। সুমনের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ অক্টোবর তাঁর জ্বর আসে। ২৭ তারিখ স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি রক্ত পরীক্ষা করতে বলেন। ২৮ তারিখ রক্ত পরীক্ষা করা হলে তাঁর এন এস ওয়ান পজিটিভ আসে। এর পরে ২৯ তারিখ সুমনকে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ডায়রিয়া শুরু হয়। আই ডি হাসপাতাল ডায়রিয়ার চিকিৎসা করে সুমনকে ৩০ তারিখ ছেড়ে দেয়। কিন্তু পরিজনেদের অভিযোগ, বাড়ি ফিরতেই সুমনের ফের জ্বর আসায় তাঁকে আবার নিয়ে যাওয়া হয় বাঙ্গুর হাসপাতালে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা রাখার পরে সুমনকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকেরা। সুমনকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তার পর থেকে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুমন। সুমনের দিদি শম্পা সরকার বলেন, ‘‘তিন দিন আগে ওকে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে দেওয়া হয়। ফের ভাইয়ের জ্বর আসে। ১০৪ ডিগ্রি জ্বরে প্রায় বেহুঁশের মতো হয়ে যায় ভাই। গত কাল সন্ধ্যা থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাত আটটা নাগাদ ভাইয়ের মৃত্যু হয়।’’ সুমনের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসাবে হাসপাতাল ডেঙ্গি লিখেছে।

সোমবার আরজিকর হাসপাতালে মৃত্যু হয় দমদম রোডের বাসিন্দা জ্বরের রোগী ৪৫ বছরের কিরণ জয়সোয়ারার। কাশির সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top