স্টক মার্কেট যে ‌রিটার্ন দেয় সেটা ব্যাংক দিতে পারবে না

Pathok_2স্টক মার্কেট নিয়ে অনেকের নেতিবাচক ধারণা আছে। তারা মনে করেন স্টক মার্কেট মানে লস আর লস। হয়তো এমনও মানুষ আছেন, যে শেয়ারবাজারের ধারে কাছে যায় নাই, সেও বলবো শেয়ার মার্কেট, এটা কোনো মার্কেট ? এটাতো ভাই জুয়ারিদের জায়গা।

আমাদের সমস্যা হলে না বুঝে, না শুনে বিবেচনা কিংবা জাস্টমেন্ট করি ফেলি। একটা মতামত দিয়ে ফেলি। তেমনি শেয়ারবাজার উপরের কথার সাথে মিলে যায়, আপনি না বুঝে শেয়ার কিনলে আগুনে পড়বেন। দেখা যায় অধিকাংশ মানুষ কোনো কিছু শিখতে চায় না। পরের উপর নির্ভরশীল। সো কলড বড় ভাই, তমুক ভাই, আমাকে একটা আইটেম দেন। এরপর শুরু হয়ে যায়.. হুড়োহুড়ি।

দেখা গেলো একটায় লাভ আর সাতটায় লস। এভাবে আদৌ ব্যবসা করা সম্ভব ? কখনও নয়। হয়তো আপনাকে বিষয়গুলো শিখতে হবে। না হলে প্রফেশনাল হ্যান্ডের মাধ্যমে বিষয়টি ম্যানেজ করতে হবে। অনেকেই এ মাকেট থেকে ভালো প্রফিট করেছেন। আমাদের সমস্যা হলো এক জায়গায় স্টাক হয়ে থাকা। বদ্ধমূল ধারণায় আটকে থাকা। যেমন “ক” নামে একটি স্টক ২০১০ সালে ৫০০ টাকা ছিলো। আমি আবারও ধারণা করছি সেটা ৫০০ টাকায় যাবো। কোনো অ্যানালা্ইসিস ছাড়া কিংবা বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া, কমে গেলে অ্যাভারেজ করি। যার দরুণ হয়তো আমি কিংবা আপনারা কেউ বের হতে পারি না।

তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে মার্কেট ধসে অনেকে বিশাল লস করেছেন। শুধু ব্যক্তি বিশেষ না, অনেক অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তবে যারা ব্লু স্টক চিপস স্টকে ইনভেস্ট করেছেন তারা কখনও লস করেননি। লাইক ম্যাল্টিন্যাশনাল, ওষুধ খাত ইত্যাদি। অনেকের মনে হয় টাকা থাকলেই বুঝি স্টক মাকেটে টাকার পাহাড় বানানো যায়। কথাটা পুরোপরি সত্য না হলে কিছুটা হলেও সত্য।

এ সেক্টরে যদি সত্যিই জেনে বুঝে করেন, তাহলে ভালো মানি মেক করার সুযোগ রয়েছে। এখন বিষয় হলো আপনি কি বুঝেন, কিভাবে বোঝেন, কিংবা কিভাবে বুঝতে চান। আমি এমন একজনকে জানি যিনি বছরে তিনটা ট্রেড করেন। তার শেয়ার সিলেকশান কিংবা ধৈর্য, পোর্টফোলি ম্যানেজমেন্ট দারুণ। গত তিনবছরে প্রফিটও ভালো। আবার এমনও মানুষ আছেন, যারা পাঁচবছর কিংবা দশবছর পর স্টকের খবর নেন। আবার কিছু মানুষ আছে দেখবেন যেটা বাড়বে শুধু সেটাই কিনবে। বাদ বিচার ছাড়াই। প্রতিদিন কিনবে। প্রতিদিন বিক্রি করবো।
স্টক মাকেট যে ‌রিটার্ন দেয়, সেটা ব্যাংক কখনও দিতে পারবে না। আমার মনে হয় কোনো কিছুই স্টক মার্কেটের মতো রির্টান দেয় না। তবে আপনি বিচার করবেন আপনি কোন দলে পড়বেন। প্রতিদিন বেচাকেনা করবেন নাকি ধৈর্য ধরবেন। তবে এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য, ধৈর্য ধরার সময়ে আপনার স্টক সিলেকশান ঠিক হতে হবে। সেটার প্রাইজ রেঞ্জ, কি ব্যবসা করে কোম্পানি, আমি কি সেই ব্যবসাটা দেখি, তাদের প্রোডাক্ট কি বাজারে ভালো চলে… তাদের পরিচালকরা কেমন মানুষ, বাজারে তাদের কোম্পানির কেমন সুনাম। এসব বিষয় ছাড়া অপরাঅপর বিষয় রেখে মাথায় রেখে ইনভেস্টে যান, আপনি লস করবেন না।

লেখক: জিনিয়া আক্তার

শেয়ার বিনিয়োগকারী

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top