নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহের প্রাপ্তি ও আগামীর প্রত্যাশা

অনেক প্রত্যাশা ও আশা নিয়ে ২০১৮ সালের পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে পুঁজিবাজার বেশ চাঙ্গা থাকলেও শেষ দিনে কিছুটা সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইএক্স এর মূল সূচকে ৫৮.৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক দাঁড়িয়েছে ৬২৫৪ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয়েছে ৩৭৪ কোটি টাকা। দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচক বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৮০ পয়েন্টে অবস্থান করে। এদিন লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০৬ কোটি টাকা। তৃতীয় কার্যদিবসে সূচক বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩১৮ পয়েন্টে দাঁড়ালেও লেনদেন হয় ৫৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের সমন্বয় হয়ে ৬৩০৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১৮ কোটি টাকা।

দেখা গেছে, বছরের প্রথম দিনে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অপেক্ষাকৃত কম লেনদেন হয়। তবে ২০১৮ সালের প্রথম সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল জুট স্পিনার্স, ড্রাগন সোয়েটার, দুলামিয়া কটন, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, বঙ্গজ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, মেঘনা পেট, ইষ্টার্ন ক্যাবলস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, ফার্মা এইড ইত্যাদি কোম্পানি। এর মধ্যে জুট স্পিনার্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৩৪.১৭ শতাংশ, ড্রাগন সোয়েটার প্রায় ২৩.৫৪ শতাংশ, দুলামিয়া কটন ১৭.৭৪ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ১৬.১৬ শতাংশ, বঙ্গজ ১৫ শতাংশ এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলে শেয়ার দর বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

এদিকে লেনদেনের দিক থেকে হিসাব করলে ইউনাইটেড পাওয়ার ছিল শীর্ষে। এর সঙ্গে ড্রাগন সোয়েটার, লাফার্জ সুরমা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং ইসলামী ব্যাংকের বিশাল অংকের লেনদেন লক্ষ্য করা যায়। এদিকে গেল সপ্তাহে টানা তিন কার্যদিবসে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির ব্লকে বড় লেনদেন লক্ষ্য করা যায়। গত ২ জানুয়ারি কোম্পানিটির ৭৭ হাজার প্রতিটি ১২০ টাকা করে ৫০০ বার হাতবদল হয়ে লেনদেন হয়। যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৯৩ লাখ টাকা। ৩ জানুয়ারি কোম্পানিটির আরো ২ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার প্রতিটি ১২২ টাকা মূল্যে লেনদেন হয় যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ৪ জানুয়ারি কোম্পানিটির আরো  ১ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ শেয়ার প্রতিটি ১২০ টাকা মূল্যে লেনদেন হয় যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ০.৯০ টাকা বা ০.৭৫ শতাংশ কমে সর্বশেষ ১১৯.৪০ টাকায় লেনদেন হয়।

অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে সূচক যেভাবে বেড়েছে সেভাবে লেনদেন বাড়েনি। গত বছরের অর্থাৎ ২০১৭ সালের জানুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেখানে হাজার কোটির ওপর লেনদেন হয়েছিল সেখানে ২০১৮ প্রথম চার কার্যদিবসে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা (২ জানুয়ারি)। অর্থাৎ বছর শুরু থেকেই বাজারে তারল্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে যা কাটিয়ে উঠার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসা বা সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ঘন ঘন ব্যাংকগুলোর ওপর পুঁজিবাজার এক্সপোজার ইস্যুতে নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি করছে তাতে বাজারে লেনদেনের পরিমাণে আঘাত আসবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই বিনিয়োগকারীদের আগামীর প্রত্যাশা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের প্রতি আরো আন্তরিক হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকৃত শেয়ারের বর্তমান মূল্য হিসেবে বিবেচনা না করে ক্রয়মূল্য হিসেবে গণনা করা প্রয়োজন। এছাড়া তালিকাভুক্ত নয় এমন ইস্যুগুলো পুঁজিবাজার এক্সপোজার থেকে বাদ দিয়ে গণনা করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

 

তামান্না প্রিয়ান, এমবিএ।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

Top