লাফার্জ-হোলসিম: জয়েন্ট স্টক থেকে শেয়ার স্থানান্তর সংক্রান্ত ফাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: হোলসিম কিনতে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে শেয়ার স্থানান্তর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ফাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, হোলসিম কেনার জন্য হোল্ডারফিনের শেয়ার বিক্রি এবং ক্রয়ের চুক্তির সংশোধনী অনুসারে তার সহকারী হোলচিন বি.ভি. সাথে ৮৮ হাজার ২৪৩টি শেয়ার হস্তান্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শেয়ার ট্রান্সফার সম্পন্ন করা হয়েছে। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড এবং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাজেশ কে সূরানা নামে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে শেয়ার স্থানান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারণ করে দেওয়া ৫০৫ কোটি টাকায় হোলসিম বাংলাদেশের শতভাগ শেয়ার কিনছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড।

বিশ্বজুড়ে লাফার্জ-হোলসিমের একীভূত হওয়ার অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হোলসিমকে কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল লাফার্জের পরিচালনা পর্ষদ।

পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে ( ডলারের মান ৮০ টাকা ধরে ৯০০ কোটি টাকার বেশি) হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের শতভাগ সম্পদ কিনে তা একীভূত করে দেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডাররা।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংক হোলসিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০৫ কোটি টাকা। তাতে দুই কোম্পানির মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৩১ কোটি টাকা দাম কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিয়ে দেওয়া এ দামে কোম্পানি দুটির মালিকানা বদল হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দামে তা বিক্রি নিয়ে তৈরি হয়েছিল নতুন জটিলতা। সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে, অবশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া মূল্যেই হোলসিমকে কিনে নিচ্ছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৪০ টাকায় হোলসিমকে কিনতে সম্মতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে বৈশ্বিকভাবে লাফার্জ ও হোলসিম একীভূত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে কোম্পানি দুটির একীভূত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলে বিশ্বের সিমেন্ট খাতে জায়ান্ট দুই কোম্পানি এক ছাতার নিচে এসে ‘লাফার্জহোলসিম’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এতে করে দুই কোম্পানি মিলে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিমেন্ট কোম্পানি।

বৈশ্বিকভাবে একীভূত হওয়ার পর বাংলাদেশেও কোম্পানি দুটি একীভূতকরণের বিষয়টি সামনে আসে। কারণ, এ দেশেও দুই কোম্পানির আলাদা কার্যক্রম ছিল। এর মধ্যে লাফার্জ সুরমা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও হোলসিম তালিকাভুক্ত নয়। তাই বৈশ্বিকভাবে একীভূত হওয়া লাফার্জ হোলসিম গ্রুপ থেকে হোলসিম বাংলাদেশের সব শেয়ার কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় লাফার্জ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top