এডি রেশিও আতঙ্ক দূর হোক: পুঁজিবাজারে আসবে বড় বিনিয়োগ

প্রতিদিন যদি একই লেবু কচলাতে থাকে তখন ঐ লেবু তিতা হয়ে যায় যার রসও থাকে না। ইদানিং আমাদের পুঁজিবাজারে প্রতিদিন মনে হয় সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুদ্রানীতি আর এডি রেশিও’র চর্চা করা হচ্ছে। এডি রেশিও কমিয়ে দিলে মার্কেটে নেগেটিভ প্রভাব পড়বে। সেই আতঙ্কে এখনই শেয়ার বিক্রি করে মার্কেটে আগাম নেগেটিভ বার্তা দেয়া হচ্ছে। এগুলো সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করছে।

বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর এতো তলানিতে এসে ঠেকেছে যে সাধারণ মানুষের বিক্রির ক্ষমতা নেই। এসব ভীতি আর আতঙ্কে বড় বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমেই ব্যাপক সেল প্রেসার আসছে। আর তাদের তালে তালে আরো দরপতনের আশঙ্কায় লোকসানেই শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। যার নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে।

কিন্তু বিগত সময়ে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ শুরু হয় সাধার‌ণত জানুয়ারির ১৫ তারিখের পর থেকে হয়। কারণ জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহ তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতেই সময় চলে যায়। এখন ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগ আসবে সেটাই স্বাভাবিক। যদিও অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মুদ্রানীতির অপেক্ষায় বসে রয়েছে। মুদ্রানীতির পর তারা বিনিয়োগে আসবে।

কিন্তু যতই মুদ্রানীতি হোক না কেন পুঁজিবাজারের বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ার এতো নিচে নেমে এসেছে যে কোম্পানিগুলোর দেয়া ডিভিডেন্ডে বিনিয়োগকারীরা অনেক লাভবান হবেন। কারণ ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর এতো তলানীতে চলে এসেছে যে এগুলোর ডিভিডেন্ডেই বিনিয়োগকারীরা আলোর মুখ দেখতে পারবেন। ২০ টাকার শেয়ার কিনে যদি ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাওয়া যায় নি:সন্দেহে তা অনেক লাভজনক। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড ইয়ল্ড অনেক অনুকূলে থাকবে।

কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকগুলোর এডি রেশিও নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে প্যানিক সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে,  যদি  দ্য এডভান্সড টু ডিপোজিট রেশিও বা এডি রেশিও বাংলাদেশ ব্যাংক কমিয়ে দেয় তাহলে অনেক সিকিউরিটিজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, অনেক লিজিং কোম্পানি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ কম পাবে। এতে করে বাজারে তারল্য সংকট থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে গেল ছয় মাসের চিত্রে দেখা যায়, মার্কেটে যে এতো বড় বড় লেনদেন হয়েছে এর ৯০ শতাংশই এসেছে  বড় বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে, বিদেশিদের ফান্ডের মাধ্যমে। বর্তমানে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী বর্তমানে এডি রেশিও নিয়ে মার্কেটে এক ধরণের প্যানিক সৃষ্টি করছে যাতে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দেন। এতে তারা আবার কম দামে শেয়ার কিনে বেশি মুনাফার স্বাদ নিবেন।

যেহেতু বিনিয়োগ আপনার,তাই সিদ্ধান্তও আপনার। এডি রেশিও নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুগপোযোগী মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে যা সকলের জন্য মঙ্গলজনক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে ভিলেন বানিয়ে অন্তরালে অন্যপক্ষের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া বিনিয়োগকারীদের ঠিক হবে না।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top