ভালো মুডে থাকবে পুঁজিবাজার- আরিফ খান

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক কমিশনার ও  আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেছেন, ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ২৫ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। যদি টাকা ব্যাংকে রাখা হতো তাহলে এফডিআরের মাধ্যমে ৭ শতাংশ বাড়তো। এখন গভর্ন্যান্স অনেক ভালো হচ্ছে, রেগুলেটর আগের তুলনায় ভালো মনিটরিং করছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ হয়েছে।২০১০ সালে যেখানে গুজব ভিত্তিক বিনিয়োগ হয়েছিল সেখানে এখন বিশ্লেষণ বেজড বা অ্যানালাইটিক্যালভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে।

এখানে ১০০ জনের বেশি প্রফেশনাল ছেলে-মেয়ে কাজ করছে। এসব বিষয় বিবেচনায়  ২০১৮ সালে মার্কেট ভালো মুডে থাকবে। এখনো ইন্টারেষ্ট রেট ৮ শতাংশে রয়েছে। মানুষ চিন্তা করবে এফডিআরে না রেখে ক্যাপিটাল মার্কেটে টাকা রাখলে আয় বেশি হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর আর্নিংস অনেক বেড়েছে। ২০১৮ সালে কতো কম-বেশি হবে তা বলা না গেলেও সামগ্রিক পুঁজিবাজার পজেটিভ থাকবে। প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। আমাদের স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশিদের কাছে অনেক প্রত্যাশিত বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আমাদের সাথে ইতিমধ্যে ৫০জন বিদেশি বিনিয়োগকারী মিটিং করেছে। ক্যাপিটাল মার্কেটে ইনভেষ্টের জন্য প্রচুর আগ্রহ তারা দেখিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় লোকদেরও এ মার্কেটে বিনিয়োগের অনেক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাই সামনে বাজার ভালো থাকবে বলে জানান আরিফ খান।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ে বিডিনিউজকে দেয়া এক ভিডিও সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফ খান বলেন, গত ২৭ বছরে পুঁজিবাজারে অনেকগুলো জিনিষ হয়েছে। আমাদের স্টক মার্কেটের রেগুলেটর অনেক শক্তিশালী করেছে সরকার। পুরো মার্কেটকে প্রফেশনালিজম করা, নিজস্ব বিল্ডিং তৈরি করে দেয়া ইত্যাদি কাজ করেছে সরকার। যে কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বিএসইসি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। আমাদের সরকার স্টক এক্সচেঞ্জকে ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড করেছে যা আরেকটি বড় অর্জন। এছাড়া অনেক সময় আর্থিক প্রতিবেদনে দুর্নীতি করার জন্য উদ্যোক্তরা বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে এবং অডিটররাও তা সার্টিফাইড করে। এসব অনিয়ম বন্ধ করার সরকার ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট চালু করেছে। যদি সামনে এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন শুরু হয় এবং জেল জরিমানা হয় তাহলে কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা চলে আসবে বলে মনে করেন আরিফ খান।

তিনি আরো বলেন, তবে আমি বলবো সব মার্কেটেই কিছু ভালো থাকবে কিছু মন্দ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধভাবে বিনিয়োগ করলে চলবে না। আমাদের মার্কেটের আরো উন্নীতির জন্য দেশে বিদ্যমান অনেক ভালো ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে হবে। অনেক ভালো ভালো কোম্পানি আমাদের দেশে রয়েছে যারা স্টক এক্সচেঞ্জে নেই। তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে মার্কেটে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের মার্কেট শুধু ইক্যুইটি বেজড মার্কেট। এখানে নতুন নতুন প্রডাক্ট আনতে হবে। যদিও ডেরিভেটিবস প্রডাক্ট চালুর এখনো সময় আসেনি কিন্তু এখন থেকেই সেটির পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখতে হবে।

মার্কেটে যেসব ম্যানুপুলেশন হয় সেগুলো প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সার্ভিল্যান্সকে আরো শক্তিশালী হতে হবে। যদিও অনেক ষ্ট্রং ইতিমধ্যে হয়েছে কিন্তু অগ্রগতিরতো শেষ নেই। বিএসইসি গত ৫ বছরে অনেক ভালো জায়গায় চলে এসেছে। আমরা যদি হংক,সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে সার্ভিল্যান্স ইমপ্রুভমেন্টের  আরো অনেক জায়গা রয়েছে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে ইনসাইডার ট্রেডিং। বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের যেসব অনিয়ম হয় এগুলোর খবরাখবর কোম্পানির উদ্যোক্তা, স্পন্সর, সিইও, অডিটর তারা আগে পান। তাদের কাছ থেকে খবর নিয়ে ম্যানুপুলেশন করা হয়। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিদেশেও আইন রয়েছে আমাদের আইনও রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের আইনটি অত্যন্ত দুর্বল। এই আইনের মাধ্যমে ইনসাইডার ট্রেডিং যারা করে তাদেরকে চার্জসিটের মধ্যে আনা যায় না।অন্যান্য উন্নত দেশের ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের আইনগুলো পর্যবেক্ষণ করে আমাদের আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। ইনসাইডার ট্রেডিং যারা করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এতে আস্থা অনেক বেশি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি আমাদের রেগুলেটর আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে যাবে।

সর্বশেষ আরিখ খান বলেন, গত ২৭ বছরে আমরা অনেক এগিয়ে এসেছি আরো এগিয়ে যাচ্ছি। ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রতিবছর আমাদের রাস্তা,ঘাট,ব্রিজ,কালভার্ট ইত্যাদি উন্নয়নে ২০ বিলিয়ন ডলার দরকার হয়। আমাদের ইনফ্রাস্টাকচারের জন্য প্রতিবছর যে ২০ বিলিয়ন ডলার লাগবে এই অর্থ সংগ্রহের জন্য বিদেশিদের কাছ থেকে যেমন নিতে হবে স্থানীয়ভাবেও যোগান দিতে হবে। আর স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের একই লেভেলের দেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে যদি তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে, আমাদের ইনফ্রাষ্টাকচার উন্নয়নে জিডিপির ২২.৩০ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু ভিয়েতনাম সেক্ষেত্রে আমাদের তুলনায় দুই থেকে তিনগুন বেশি খরচ করে। তাই এতো বেশি অর্থ সংগ্রহের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেটই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন তিনি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top