শেয়ারবাজার শিক্ষা: পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিনিয়োগের বৈচিত্র আনয়ন দ্বারা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা যায়। কিন্তু সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে ‘এক ঝুঁড়িতে সব ডিম না রাখার” নীতি মেনে চলা উচিত।

পোর্টফোলিও গঠণ: পোর্টফোলিও হলো ঝুঁকি বিবেচনায় বিনিয়োগের পরিমাণ এবং ধরণের মিশ্রণ। বিনিয়োগকারী পোর্টফোলিও গঠন করে ঝুঁকির পরিমাণ হ্রাস করতে পারেন। একজন বিনিয়োগকারী যদি তার সম্পূর্ণ বিনিয়োগ বিভিন্নখাতে এবং কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে তাহলে, একটি খাতের লোকসান হলে অন্য খাতের লাভে পুষিয়ে যাবে।

বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিজ্ঞান ও কৌশল হচ্ছে প্রথমেই বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্পর্কে জানা এবং তার নীতি অনুসরণ করা। দ্বিতীয়ত লক্ষ্যের সাথে বিনিয়োগের সামঞ্জস্য কতটুকু রয়েছে সে বিষয়ে জ্ঞান রাখা। এছাড়া প্রাপ্তির সাথে ঝুঁকির সমন্বয়ও করতে হবে।

এক্ষেত্রে বিনিয়োগ বিন্যস্তকরণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। কিন্তু অধিক বিন্যস্তকরণ মুনাফা কমিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক বিন্যস্তকরণের কৌশল আয়ত্ব করতে হবে।

* বিনিয়োগের জন্য অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। আর অর্থের উৎস হতে পারে আয়ের অংশ, সঞ্চয়, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, ঋণ ইত্যাদি।

* বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। কেন বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক যেমন: জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ, ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটানো, অবসর জীবনের ব্যয় নির্বাহ, সন্তানদের শিক্ষা, বিবাহ ইত্যাদি। প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করুন কিন্তু ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

* বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট ব্যবহার দুই ভাবে হতে পারে। একটি হচ্ছে  প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ অন্যটি হচ্ছে আয়ের জন্য বিনিয়োগ। যদি প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ করা হয় সেক্ষেত্রে উচ্চ মুনাফা ও প্রবৃদ্ধির ব্যবসা, ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য, লভ্যাংশের স্বল্পহার, সম্পদের তুলনামূলক উচ্চ মূল্যায়ন, অবসর জীবন বা সুদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজন মেটানোর জন্য উপযুক্ত ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

এছাড়া আয়ের জন্য বিনিয়োগ করা হলে স্বল্প মুনাফা ও স্বল্প প্রবৃদ্ধির ব্যবসা, বিদ্যমান ব্যবসা প্রধান লক্ষ্য, উচ্চ লভ্যাংশ হার, সম্পদের তুলনামূলক স্বল্প মূল্যায়ন, জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য উপযুক্ত ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনা করতে হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top