আইনগত পরিবর্তন হলেও চরিত্রগত পরিবর্তন হয়নি: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

siulতত্ত্বাবাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম । ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এ অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। দেশের পুঁজিবাজারের এ পুরোধা ব্যাক্তি সম্প্রতি পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমের সাথে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমের নিজস্ব প্রতিবেদক আহসান হাবিব ও ওয়াহিদুল হক।

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থাকে আমি লোয়ার লেভেলের ইকুইলিব্রিয়াম হিসেবে আখ্যায়িত করছি। অর্থাৎ বাজারে নিম্ন পর্যায়ের মোটামোটি স্থিতিশীলতা আছে। আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি, সূচককে যদি আমরা বিবেচনায় আনি তাহলে দেখা যাবে তা পাঁচ হাজারের আশেপাশেই থাকছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: মাঝে মাঝেই তো সেটা কমে আসছে

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: না, কমে আসছে ঠিকই কিন্তু মাঝে মাঝেই তা আবার বাড়ছে। এখন সূচক মোটামোটি ৪ হাজার ৯শর কাছাকাছি আছে।যদি ডে টু ডে ভেরিয়েশন দেখি অর্থাৎ প্রতিদিনের লেনদেন, যখন কমছে তখন যেমন ৮ বা ১০ শতাংশ কমছে না, আবার যখন বাড়ছে তখনও ৮ বা ১০ শতাংশ বাড়ছে না।এই বাড়া-কমার হার ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যেই থাকছে। মাঝে ৪ হাজার ৬শ’র কাছাকাছি এসেছিলো তাই এ বাজারকে আমি লোয়ার লেভেলের স্টেবল বলছি।

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজার তো উর্ধগতির দিকে থাকছে না

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: কোনো বাজারই একদিকে যেমন ক্রমাগত উর্ধগতির দিকে থাকে না তেমনিভাবে অব্যাহতভাবে নিম্নগতির দিকেও থাকে না।

শেয়ারবাজার নিউজ: বর্তমান বাজারের স্টেবিলিটিকে লোয়ার লেভেল বলছেন কেন?

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: প্রশ্ন আসতে পারে আমি এ বাজারকে কেন লোয়ার লেভেলের স্টেবল বলছি । আমি যেটা মনে করি, বাজারে বর্তমানে নাম্বার অব শেয়ার অর্থাৎ শেয়ার সংখ্যা যা আছে এবং গত বছরও বেশ কিছু কোম্পানি বাজারে এসেছে তাতে করে বাজারের ইনডেক্স ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি থাকার কথা যা এখন পাঁচ হাজারের আশেপাশে থাকছে। এ কারনে বাজারকে আমি লোয়ার লেভেলের বলছি।

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজারের লেনদেন তো ওইভাবে বাড়ছে না

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: হ্যাঁ, বাজারের আরেকটি নির্নায়ক হচ্ছে টার্নওভার বা লেনদেন কতটা হচ্ছে। লেনদেনের পরিমান ভালো থাকার অর্থ হচ্ছে বাজারটা লিকুইড আছে। অর্থাৎ মানুষ কিনছে আবার বিক্রিও করছে। বাজারটা মুভমেন্ট করছে। ইদানিং স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে লেনদেনের পরিমান খুব বেশি হচ্ছে না। যেমন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেন ৩শ কোটি টাকার আশে পাশেই থাকছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: বেশিরভাগ সময়ই তা ৩শ কোটি টাকার কম হচ্ছে

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: হ্যাঁ তা হচ্ছে। লেনদেনের এ পরিমান বাজারে কোনো শুভ ইঙ্গিত বহন করে না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি এটি লেনদেনের কম পরিমান থেকে বোঝা যায়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসলে বাজারে মানুষ শেয়ার কেনার ব্যাপারে আগ্রহি হতো ফলে স্বভাবতোই দর কিছুটা বাড়তো। পাশাপাশি বাজারের ইনডেক্সটা বাড়তো। আর বাজারে লেনদেনও বাড়তো। এই হচ্ছে মোটামুটি বাজারের অবস্থা।

শেয়ারবাজার নিউজ: ডি-মিউচুয়ালাইজড্ হবার পর কি তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে?

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: না, সেরকম কোনো ইঙ্গিত তো দেখতে পাচ্ছি না। আর অন্যদিকে ডি-মিউচুয়ালাইজেশন তো এখনও পুরোপুরি ইফেক্টিভ হয়নি। এটা পুরোপুরি ইফেক্টিভ করতে স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর থাকতে হবে। এখনও এমন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এখনও সম্ভবত কেউ আগ্রহ দেখায়নি। ফলে আইনগত পরিবর্তন হলেও চরিত্রগত পরিবর্তন এখনও খুব একটা হয়নি।

শেয়ারবাজার নিউজ: আইনগত পরিবর্তনের কারনে কোনো সুফল কি এসেছে?

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: কিছু ব্যাপার তো আছেই। যেমন ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টরের সংখ্যা বেড়েছে। আর অন্যদিকে ইদানিং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও (বিএসইসি)কিছুটা প্রো-একটিভ হতে দেখা গেছে। তারা ইদানিং বেশকিছু কোম্পানিকে জরিমানাও করছে। ট্রেডিং বা অন্যান্য কারনে দোষিদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: এর মধ্যে তো আইপিওর কিছু ধারাও পরিরর্তন করা হয়েছে

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: কিছু আইন পরিবর্তন হচ্ছে ।কিছু ধারাও পরিবর্তন হচ্ছে। এগুলো বাজারে দীর্ঘমেয়াদে সুফল আনবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: বিএসইসির বিরুদ্ধেও তো কিছু অভিযোগ মাঝে মাঝে আসছে

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: হ্যাঁ, এটা অনেকেরই অভিযোগ ইদানিং বিএসইসি যেসব কোম্পানিকে অনুমোদন দিচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই স্মল ক্যাপ কোম্পানি অর্থাৎ ছোট কোম্পানি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যেসব কোম্পানিকে প্রিমিয়াম দেয়া হয়েছে সেখানে এক দুই মাস বা খুব কম সময়ের মধ্যেই শেয়ারের দর ফেসভ্যালুর নিচে নেমে এসেছে। এটা ইন্ডিকেট করে স্ক্রিনিং খুব একটা বেশি ইফেক্টিভ হচ্ছে না। কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল কতটা ডিপেন্ডেবল এ প্রশ্ন থাকছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: বিএসইসি তো এ দায় নিচ্ছে না

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: বিএসইসি এক্ষেত্রে বলছে তারা তো কোম্পানির কাগজপত্র দেখেই অনুমোদন দিচ্ছে। কিন্তু বিএসইসি তো তদারকি সংস্থা । সুতরাং যা আমাকে দেয়া হবে তাই আমি গ্রহন করবো তা না। তাই অন্তত স্ক্রিনিংটা আরও জোরদার করা উচিৎ।

শেয়ারবাজার নিউজ: এ সময়ের মধ্যেই কিছু ইস্যু ম্যানেজারদের ও জরিমানা করা হয়েছ

 

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: সেটাই বলছি। যদিও কোম্পানির এসব রিপোর্ট সার্টিফাইড বাই অডিটর এন্ড অল দ্যাট তারপরও বিএসইসির এ ব্যাপারগুলোতে তদারকি বাড়াতে হবে। আর এর পাশাপাশি যদি তারা মনে করে তাদের সীমাবদ্ধতা আছে তাহলেও তো সমস্যা নেই। কারন তাদের এখন এ স্বাধীনতা আছে যে তারা বাইরে থেকে কনসালটেন্ট এনে এক মাস বা দু মাস যাই লাগুক ভালো ফি দিয়ে রিপোর্টগুলো এক্সামিন করাতে পারে।

শেয়ারবাজার নিউজ: অনেকেই তো বাজারের এ অবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতিমালাকে দায়ি করছে, আপনার কি মনে হয়…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: না, তা অনেকেই করতে পারে, তবে তা খুব একটা ডিফেন্সেবল না। কারন কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং তাদের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংকেগুলোর সলভেন্সি দেখার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু বানিজ্যিক ব্যাংকের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। এর মধ্যেই অনেকগুলো স্ক্যাম হয়েছে। এর মধ্যে শ্রেনিকৃত ঋণের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে। সুতরাং ব্যাংকগুলো যদি এ নতুন কোনো ঝুঁকি নেয়, কারন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ তো অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণই, তাহলে এর ফলে তারা এফেক্টেড হতে পারে।

এটা বলা যেতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার কারনে হয়তো বাজারে লিকুইডিটি বাড়ছে না। কিন্তু লিকুইডিটি তো বড় সমস্যা না। কারন বাজারে একটা থার্ড গ্রেড আইপিও ইস্যু করলেওতো তা ৮ গুন ১০ গুন সাবসক্রাইবড হচ্ছে। তার মানে তো লোকের হাতে টাকা আছে। কিন্তু তা আর সেকেন্ডারি মার্কেটে থাকছে না। তারা প্রাথমিক অবস্থায় শেয়ার নিয়ে দাম ভালো থাকে, তখন এটি বিক্রি করে চলে যাচ্ছে আর ফেরত আসছে না।

শেয়ারবাজার নিউজ: এ ক্ষেত্রে কি আস্থার সংকট বড় কারন হিসেবে কাজ করছে না? এক্ষেত্রে করনীয়ই বা কি আছে

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এ ক্ষেত্রে ইনভেস্টর্স এডুকেশন আরও জোরদার করা যেতে পারে। কিন্তু আইপিও আর সেকেন্ডারি মার্কেট সবই তো ইন্টারকানেকটেড। বিনিয়োগকারীদের কাছে এটা এখনও অনেকটা হুজুগের মতো। কারন আইপিও মার্কেটে আস্থা থাকলে তো তা সেকেন্ডারি মার্কেটে রিফ্লেক্ট করার কথা। অতীতে দেখা গেছে নতুন আইপিও আসলে তার দাম ভালো থাকে। আর এ কারনে কোনো আইপিও অনেক প্রিমিয়াম নিয়ে আসলেও তা ওভার সাবসক্রাইবড হচ্ছে। কারন সবাই মনে করছে প্রাথমিক অবস্থায় তা ক্যাপিটাল গেইন করবে এবং করছেও।

শেয়ারবাজার নিউজ: মার্চেন্ট ব্যাংকে ঋণ খেলাপিদের সিআইবি রিপোর্টিয়ের ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? বাজারের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য কি এটা ভালো কিছু…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: সিআইবি রিপোর্টিং এর মানে হলো তথ্যতে অন্য কেউ একসেস পাবে। এটা তাৎক্ষনিক কিছু না, এখন যদি কেউ এক জায়গায় ঋণ খেলাপি হয় তাহলে অন্য কোথাও ঋণ নিতে গেলে তারা তা ডিটেক্ট করতে পারবে। এটা বাজারের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য ভালো কিছু হবে। কিন্তু এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়া ঠিক হবে না যা বাজারের জন্য খারাপ কোনো সংবাদ বহন করে।

শেয়ারবাজার নিউজ: সম্প্রতি কমিশন কমোডিটি মার্কেট ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করার জন্য কমিটি গঠন করে, কিন্তু এরপর কমিশনকে আর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আমি এ ব্যাপারে খুব আগ্রহি না। আমার সময়ও আমাকে বলা হয়েছিলো। আমার সময় তো আমরা গভর্মেন্ট বন্ড চালু করলাম। গভর্মেন্ট বন্ড তো এখন কোনো লেনদেনই হচ্ছে না। এখানে আবার সমস্যা হচ্ছে এসব বন্ডের ডিনোমিনেশন অনেক বেশি প্রায় ১ লাখ । মার্কেট লটটাও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এটা কমাতে চেয়েছিলাম তাও যেকোনো কারনে আর হয়নি। এটাও আসলে স্বাভাবিক। কারন ভারত বা পাকিস্তানের এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাথেও কথা হয়েছে, তারাও বলেছে যে এসব বন্ডে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই দাড়ায়। ব্যাক্তি বিনিয়োগকারীরা সেভাবে দাঁড়ায় না।

শেয়ারবাজার নিউজ: এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কি করা উচিৎ বলে মনে করেন…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: বিনিয়োগকারী বা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তারা যদি স্টকের দিকে এভাবে না গিয়ে লোয়ার গেইন বাট নো রিস্ক পলিসির দিকে যেত তাহলে এমন পরিস্থিতি হয়তো হতো না।

শেয়ারবাজার নিউজ: মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোও তো ইদানিং বন্ড ছাড়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে, এটি বাজারের জন্য কেমন ফল বয়ে আনবে…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এটা তো মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর নিজেদের ক্যাপিটাল রেইজ করার জন্য। কিন্তু কথা হচ্ছে এখন এপ্রোপ্রিয়েট সময় কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কারন মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নিজেরাই তো লাভজনক না। এমন অবস্থায় যদি তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় আর যদি বন্ডগুলো আনসোল্ড থাকে, তাহলে এটা তাদের ইমেজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলো লিস্টেড হচ্ছে না বা এ ব্যাপারে আগ্রহও দেখাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কি বলবেন…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: সরকারি কোম্পানির বাজারে আসার বিষয়টাতো অর্থ মন্ত্রনালয়ের ব্যাপার। অর্থমন্ত্রি তো বলেছিলেন যে ২২টা সরকারি কোম্পানি মার্কেটে আসবে। কই সেগুলো তো আসলো না। আমার সময় যে কোম্পানিগুলো এসেছিলো তার পর তো আর ওইভাবে সরকারি কোম্পানি বাজারে আসেনি।

শেয়ারবাজার নিউজ: এক্ষেত্রেও তো অনেকে কমিশনকে দায়ি করেন

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এখানে একটু সমস্যা কমিশনের আছে। একদিকে যেমন তাকে রেগুলেটরের ভূমিকা পালন করতে হয় অন্যদিকে তাকে প্রমোটরের ভূমিকাও পালন করতে হয়। এখন কোনো কোম্পানিকে আমি ডেকে নিয়ে আসলাম, এরপর আমিই তাকে নিয়ন্ত্রন করতে গেলে একটু সমস্যা হবে। এটা করা যাবে কিন্তু একটু সাবধানে করতে হবে। আমার সময় আমি মাল্টিন্যাশনাল কিছু কোম্পানিকে এনেছিলাম এবং আশা করেছিলাম যেহেতু এসব কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল ভালো তাই এরা আমার কাছে অনাকাঙ্খিত কিছু চাইবে না এবং আমিও তাদেরকে অনৈতিকভাবে কিছু দেবোনা।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইদানিং মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে বে-মেয়াদি করা হচ্ছে, এর কি কোনো সুফল আসবে…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আমার কাছে আসলে এর যৌক্তিকতা খুব একটা পরিষ্কার না। এমন হতে পারে যেহেতু তাদের অবস্থা খুব একটা ভালো না, তাই হয়তো তাদের একটু বেশি সময় দেয়া হচ্ছে যাতে করে তারা আরেকটু ভালো করতে পারে।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইদানিং তো ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিগুলোকে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে যে তারা অর্থের বিনিময়ে রেটিং করে দিচ্ছে। আর এসব কোম্পানির আচরনবিধিও তৈরী করা হয়নি…

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এক্ষেত্রে বিএসইসি’র অনেক দায়িত্ব আছে। কারন লাইসেন্সটা তো কমিশনই দিচ্ছে। এখন সবাই বেশি বেশি কোম্পানি খুলছে। আমার সময় আমি একটির অনুমোদন দিয়েছিলাম। আমার ওপর চাপ ছিলো আরও কিছু কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়ার কিন্তু আমার যে বাজার সেখানে দুইটির বেশি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির দরকার নেই তাই আমি আর কোনো লাইসেন্স দেইনি।

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজার নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদি

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আশাবাদ করা ভালো। আমি আশাবাদি সামনে ভালো কিছু হয়তো হবে।কিন্তু বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নির্ভর করবে আসলে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। যদিও সে অর্থে আমাদের বাজার তেমন সংবেদনশীল না কারন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় এখন আর পুঁজিবাজারে তেমন প্রভাব পড়েনা। অবরোধের মধ্যে বরং উল্টো বাজার ভালো লেনদেন ও সূচক দেখাচ্ছে।তারপরও বাজারের ব্যাপারে আমি সার্বিকভাবে আশাবাদি।

শেয়ারবাজার/শি/অ

আপনার মন্তব্য

Top