মৃতপ্রায় বাজার : মমতাময়ী মা হয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই নিশ্চুপ থাকবেন না

Editorialদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে শেয়ার বাজারের অবস্থান। অর্থনীতির যতগুলো শাখাপ্রশাখা আছে তার মধ্যে সম্মৃদ্ধ এবং নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে  সব দেশের জন্য সব সময় শীর্ষস্থানে থাকে শেয়ার বাজার। বর্তমানে আমাদের দেশের মৃতপ্রায় শেয়ার বাজার নিভু নিভু করে খুড়িয়ে চলছে। তারপরও এর দৈনিক লেনদেন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। আর সুস্থ-সবল বাজারে এই লেনদেন হয়েছে ২০০০ থেকে ৩০০০ কোটি টাকার মধ্যে। এই বাজার থেকে সরকারের কোষাগারে প্রতিবছর জমা হচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব। আমাদের দেশে প্রচলিত একটি কথা আছে, যে গরু দুধ দেয় তার লাথিটাও মজা। কিন্তু আমরা অবাক হচ্ছি এই বাজার নিয়ে সরকারের অবস্থান এবং আচরণে। ২০১০ সালের ধস পরবর্তী সময়ে শেয়ার বাজার সূচক কমতে কমতে এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। তৎকালীন সময়ে একজন বিনিয়োগকারী যে শেয়ার ১০০ টাকার বেশি দিয়ে কিনেছেন তার দাম এখন ১০ টাকার নিচে কিংবা কাছাকাছি। শেয়ারের দর কমতে কমতে বিনিয়োগকারীরা এখন একেবারেই পুঁজিশুণ্য হয়ে পড়েছে। একসময় ধসের মাত্রা সহ্য করতে না পারলে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামতো। কিন্তু সেটিও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৫ বছরের টানা পতনে বহু নামি দামি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর ফেস ভ্যালুর নিচে নেমে গেছে। এমনকি আট থেকে নয়টি ব্যাংকই রয়েছে এখন ফেস ভ্যালুর নিচে। আর বহু ব্যাংকের শেয়ার দর ফেস ভ্যালুর সামান্য ওপরে। ইতিমধ্যে মূলধন হারিয়ে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে আমাদের কাছে খবর আছে। আর সরাসরি শেয়ার ব্যবসার সাথে জড়িত হাজার হাজার বিনিয়োগকারী মানবেতর জীবন যাপন করছে বলেও নানা পত্র-পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। অথচ আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এমনি একটি নাজুক পরিস্থিতিতেও সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই বাজারটিকে রক্ষার কোন উদ্যোগই নেয়া হচ্ছে না। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের শেয়ার বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মতো বড় ধরণের ধসের খবর আমাদের জানা আছে এবং সেই ধস কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শুধু অর্থমন্ত্রীই নয় খোদ রাষ্ট্র প্রধানগণ যে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তার প্রেক্ষিতে তাদের বাজারগুলো যেভাবে গতি পেয়েছে সে উদাহরণ আমাদের অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী কেনো গ্রহণ করছেননা সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। বরং আমরা অবাক হচ্ছি এই দেখে যে, অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ এখাত সংশ্লিষ্ট নেতারা সময় সুযোগ পেলেই এই বাজার নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করতে ভুল করছেননা। আমরা মনে করি তারা বুঝতেও পারছেননা যে, দুধ দেয়া গরুটিকেই তারা তাদের মনের অজান্তে গলা টিপে হত্যা করছেন। আমাদের অনুরোধ থাকবে এই আত্মঘাতী পথ আপনারা পরিহার করুন। এখনো সময় আছে বাজারটিকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান। বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, আসিবি, সিডিবিএল, লিস্টেড কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীসহ এই বাজারের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় ৫০ লাখ লোক। এই লোকগুলোর ওপর নির্ভরশীল অন্তত দুই থেকে আড়াই কোটি লোক। এতগুলো লোকের জীবনমরণ প্রশ্ন নিয়ে একজন মমতাময়ী মা হয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চুপ থাকবেন এটা আমরা কিছুতেই বিশ্বাস করিনা। আমরা নিশ্চিত অচিরেই তিনি এই বাজারটি রক্ষায় হস্তক্ষেপ করবেন এবং অসহায় নি:স্ব বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফোটাতে কিছু একটি পদক্ষেপ নিবেন।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top