ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি-পর্ব ১১: কিভাবে কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি কোম্পানিকে বিভিন্ন কর্ম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমেই যে কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চাইবে সেটিকে অবশ্যই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। নিম্নে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিভিন্ন কর্ম প্রক্রিয়া বর্ননা করা হলো:

* পাবলিকের কাছে শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ:

০১। পাবলিকের কাছে শেয়ার ছাড়ার জন্য পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

০২। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তালিকার আওতায় যেকোনো এক বা একাধিক ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ।

০৩। ইস্যু ম্যানেজারের পরামর্শে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) যেকোনো একটি পদ্ধতি অবলম্বন (ফিক্সড প্রাইস/বুক বিল্ডিং)। এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম নিতে চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি এবং প্রিমিয়াম ছাড়া ফেসভ্যালুতে আসতে চাইলে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি কার্যকর হবে।

০৪। বিএসইসির অডিটর প্যানেলের মধ্য থেকে একটি অডিটর দিয়ে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করা।

০৫। ক্রেডিট রেটিং প্রস্তুত করা। ব্যাংক,বীমা, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রিমিয়াম নেয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ক্রেডিট রেটিং করা বাধ্যতামূলক।

০৬। কোম্পানি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা।

* প্রসপেক্টাস/রেড-হেরিং প্রসেপেক্টাস/ ইনফরমেশন মেমোরেন্ডাম ড্রাফট করা:

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির ক্ষেত্রে:

০১। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (পাবলিক ইস্যু) রুলস,২০১৫ অনুযায়ী প্রসপেক্টাস তৈরি করতে ইস্যু ম্যানেজারকে কোম্পানি সহায়তা করবে।

০২। আন্ডাররাইটার নিয়োগ দেয়া।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে 

০১। রেড-হেরিং প্রসপেক্টাস (প্রিলিমিনারি প্রসপেক্টাস) তৈরি করা।

০২। রোড শো’র জন্য ইলিজিবল ইনভেষ্টরদের আমন্ত্রণ জানানো।

০৩। রোড শো সম্পন্ন করা।

০৪। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (পাবলিক ইস্যু) রুলস,২০১৫ অনুযায়ী, যেসব ইলিজিবল ইনভেষ্টর রোড শো’তে অংশগ্রহণ করবে তাদের মতামত এবং অবজারভেশন সংগ্রহ করা।

০৫। রেড-হেরি প্রসপেক্টাস ফাইনালাইজ বা পরিপূর্ণ করা।

*প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের জন্য বিএসইসিতে আবেদন 

ফিক্সড প্রাইসের ক্ষেত্রে

০১। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (পাবলিক ইস্যু) রুলস,২০১৫ অনুযায়ী বিএসইসিতে আইপিও’র জন্য আবেদন করা। ড্রাফট প্রসপেক্টাস/রেড-হেরিং প্রসপেক্টাস এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য ডকুমেন্টস বিএসইসিতে জমা দেয়ার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জেও জমা দিতে হবে।

০২। দাখিল করা ডকুমেন্টস স্বত্ত্বেও যদি বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো বাড়তি দলিলের প্রয়োজন অনুভব করে তাহলে সেই দলিলাদি ইস্যু ম্যানেজারকে প্রদান করে ড্রাফটকৃত প্রসপেক্টাস আপডেট করা।

০৩। ড্রাফটকৃত প্রসপেক্টাস কোম্পানি এবং ইস্যু ম্যানেজারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে

০১। বিডিং করার জন্য বিএসইসির অনুমোদন নেওয়া।

০২। বিএসইসির অনুমোদনপত্র নিয়ে বিডিংয়ের আয়োজন করার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করা।

০৩। বিডিংয়ে বুক বিল্ডিং সফটওয়্যার ব্যবহার করার জন্য চুক্তি করা এবং ফিস প্রদান করা।

০৪। বুক বিল্ডিং সফটওয়্যারের মাধমে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণ করা।

০৫। বিডিং সম্পন্ন হওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ইলিজিবিল ইনভেষ্টরদের জন্য অ্যালটমেন্ট লিষ্ট এবং কাট অফ প্রাইস নিতে হবে।

০৬। বিএসইসির অনুমোদনের জন্য ড্রাফট প্রসপেক্টাসের সঙ্গে বিডিংয়ের ডিটেইলস প্রদান করতে হবে।

*আইপিও অনুমোদন 

০১। বিএসইসির কনসেন্ট লেটার সংগ্রহ।

০২। অনুমোদিত এবং পুন:নিরীক্ষিত প্রসপেক্টাসের সংক্ষিপ্ত অংশ (এব্রিজড ভার্সন) দুটি বাংলা ও দুটি ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশ করা।

০৩। ফাইনাল প্রসপেক্টাস প্রিন্ট করা।

০৪। কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে পুন:নিরীক্ষিত প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা।

০৫।  বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (পাবলিক ইস্যু) রুলস,২০১৫ এবং স্টক এক্সচেঞ্জে লিষ্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আবেদন জানানো।

*সাবস্ক্রিপশন এবং লটারি

০১। মনোনীত স্টক ব্রোকার/মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিও সাবস্ক্রিপশনের তারিখ নির্ধারণ করা।

০২। সাবস্ক্রিপশন, লটারি, রিফান্ড এবং শেয়ার ক্রেডিট করার ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজার এবং রেজিষ্টার টু দ্য ইস্যু ম্যানেজার/ পোষ্ট ইস্যু ম্যানেজারকে সহায়তা করা।

০৩। সাবস্ক্রিপশনের সময় শেষ হওয়ার পর সাবস্ক্রিপশন স্ট্যাটাস বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেয়া।

০৪। জেনারেল পাবলিক ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন জমা পড়লে লটারির আয়োজন করা।

০৫। ইলিজিবল ইনভেষ্টরদের ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন জমা পড়লে প্রো-রাটা ভিত্তিতে শেয়ার ডিষ্ট্রিবিউট করা।

*অ্যালটমেন্ট এবং রিফান্ড

০১। ইলেকট্রনিক ফর্মের মাধ্যমে অ্যালটমেন্ট লেটার ডিষ্ট্রিবিউট করা এবং রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

০২। অ্যালটমেন্ট লেটার এবং রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট করা।

*লিষ্টিংয়ের অনুমোদন

০১। অ্যালটমেন্ট লেটার এবং রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট প্রদান করে স্টক এক্সচেঞ্জে লিষ্টিংয়ের আবেদন করা।

০২। লিষ্টিং অনুমোদন অথবা রিজেক্ট।

*ক্রেডিট শেয়ার/ইউনিট

০১। স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লিষ্টিংয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টে লেনদেনকৃত শেয়ার/ইউনিট প্রদানের জন্য সিডিবিএলের কাছে আবেদন।

*লেনদেন শুরু

০১। সিডিবিএলের মাধ্যমে শেয়ার/ইউনিট বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জে ঐ কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের তারিখ নির্ধারণ করে দেবে। অতপর কোম্পানিটির শেয়ার পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top