তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে এডিএন টেলিকম অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: হেনরী হিলটন

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার ছেড়ে ৫৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের এডিএন টেলিকম লি:। সে লক্ষ্যে গত ১৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে আইপিও রোড শো করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেনরী হিলটন। এক বিকেলে শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের সঙ্গে সাক্ষাতকালে হেনরী হিলটন তাঁর মিশন ও ভিশন নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। এর চুম্বক অংশ শেয়ারবাজারের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো:

শেয়ারবাজার নিউজ: বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর কাছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। তাঁদের প্রত্যাশা মেটাতে আপনার প্রতিষ্ঠান কতটুকু প্রস্তুত?

হেনরী হিলটন: ২০০৩ সালে একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। এবং ওই বছরই বাণিজ্যিক অপারেশনে যাই। আজ আমরা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছি। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছে ডাটা, ভয়েস এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদানে আমরা দেশ-সেরা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের গোটা টিমের সম্মিলিত শ্রম আজকে এই প্রতিষ্ঠানকে সফলতার শীর্ষে এনেছে।
ফাইবার, ওয়্যারলেস, এবং স্যাটেলাইট সেক্টরে আমাদের অবকাঠামোগত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই আমাদের হয়ে কথা বলছে। বিনিয়োগকারীরা জানেন, আমাদের পরীক্ষিত টিম এতদিন যে সুনাম অর্জন করেছে, সেই সুনাম ধরে রেখে তারাই সামনের দিনগুলোতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে রাজত্ব করবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

হেনরী হিলটন: আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এদেশে গত ১৯৯৬ সাল থেকে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে আসছে। শুরুতে ডায়াল-আপ অ্যাক্সেসের মাধ্যমে মাত্র ৫০০ জন ই-মেইল ব্যবহার করেছিলেন। স্থানীয় কিছু সার্ভিস প্রোভাইডারের বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম ব্যবহার করেছিলেন তখন। সেই মার্কেটটা এখন ক্রমেই বাড়ছে। আজকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের প্রথম ছয় মাসের বিটিআরসি নিবন্ধিত প্রায় ৬.৭২ মিলিয়ন নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে। মার্কেটটার এখন সুস্থ পরিচালনা হচ্ছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ২০২০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপিতে ২.৬০ শতাংশ অবদান থাকবে বলে আশা করছি। খাতটি এই সময়ে ১২৯ হাজারের বেশি নতুন চাকরি তৈরিতে অবদান রাখবে যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ইন্টারনেটের সম্প্রসারণে আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংকস), ডিসরাপটিভ ইনোভেশন, বিগ ডাটা এনাল্যাটিক্স, ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুসিভ অ্যাকটিভেশন-এর মত বেশকিছু সেক্টরের বিকাশে আমাদের সাহায্য করবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম গতি পাচ্ছেন। তার পিছনে কি কারন থাকতে পারে?

হেনরী হিলটন: বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা বিস্তারের প্রধান বাধা হল বিতরণ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা। এখনো শহর আর শহরের বাইরে নেটওয়ার্ক সুবিধার ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। পরিণতিতে এ দেশে ইন্টারনেটের পর্যাপ্ত বিকাশটা এখনো অংকুর দশায়ই আছে।
বাংলাদেশ সরকার ব্রডব্যান্ডের সর্বনিম্ন গতি নির্ধারণ করেছে ৫-এমবিপিএস। নিংসন্দেহে খুবই সময়োপযোগী একটা পরিকল্পনা। ‘আকামাই টেকনোলজিস’- এর পরিসংখ্যানগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন আরো অনেক পথ যেতে হবে আমাদের। এদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাত্র ২৯.৩০ শতাংশ পাচ্ছে ৪-এমবিপিএস স্পীড। ৬.৪০ শতাংশ পাচ্ছে ১০-এমবিপিএস, ২.৯০ শতাংশ পাচ্ছে ১৫-এমবিপিএস এবং মাত্র ১ শতাংশ ২৫-এমবিপিএস গতি পাচ্ছে। বাকি ৬০ শতাংশ এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে না। আইএসপি সেক্টরে বাংলাদেশের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে আমাদের মনোযোগী হতে হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে কতটা এগিয়ে নেবে?

হেনরী হিলটন: ২০০৫ সালে এসইএ-এমই-ডাব্লিউই-৪ এর প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এনেছে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এসইএ-এমই-ডাব্লিউই-৫ চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লি: (বিএসসিসিএল) এই দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আরো উন্নত আন্তর্জাতিক সংযোগ সেবা নিশ্চিত করেছে। এখন, এসইএ-এমই-ডাব্লিউই-৪ আমাদের ১৮০-জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সেবা দিতে পারছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আরো ২৬২-জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করা হচ্ছে। আগামীতে এসইএ-এমই-ডাব্লিউই-৫ সাবমেরিন ক্যাবলটি পূর্ণাঙ্গ চালু হওয়ার পর নির্ভরশীলতাগুলো আরো কমতে থাকবে।
২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহ চালু হওয়ার পর দেশব্যাপী ইন্টারনেট ও তথ্য সংযোগ সেবা আরো সহজতর হবে। যা দেশের সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট সেবাকে অধিকতর সহজলভ্য করতে সহায়ক হবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top