এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে সরকার

indexশেয়ারবাজার রিপোর্ট : চলতি অর্থবছরের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় সরকার। আবার আগামী মাস থেকে শুরু হচ্ছে নতুন বছরের বাজেট প্রণয়নের কার্যক্রম।
এদিকে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ৮ জানুয়ারি চুক্তিভিত্তিক মেয়াদও শেষ হয়েছে। তার মেয়াদ বাড়ানোর কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি। আজ তিনি অফিসে আসেননি।
সিপিডির দাবি অনুযায়ী বছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ আশংকার মুখে ভবিষ্যতে সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদের জোগান বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এই বাস্তবতায় এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে গভীর সংকটে সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
অপরদিকে অর্থমন্ত্রী লিখিতভাবে যে নাম প্রস্তাব করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসন ক্যাডারের সচিবরা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে জোর তদবির শুরু হয়েছে। এ পদে যাওয়ার জন্য একাধিক আমলা চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে আজকালের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে ঘোষণা করা হতে পারে।
এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের জন্য যাদের নাম বিবেচনায় রয়েছে তারা হলেন সমবায় সচিব এম কাদের সরকার, বাণিজ্য সচিব হেদায়েত আল মামুন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম, বন ও পরিবেশ সচিব নজিবুর রহমান এবং এনবিআরের সদস্য শুল্কনীতি ফরিদ উদ্দিন।
এদের মধ্যে একজনকে এনবিআরের চেয়ারম্যান হতে পারেন।
সমবায় সচিব হওয়ার আগে এম কাদের সরকার এনবিআরই সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়ে তার একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের একনিষ্ট সর্মর্থক হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তার পরিচিতি আছে। বিসিএস ট্যাক্সেশন ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা অন্যান্য শীর্ষ ক্যাডার কর্মকর্তাদের কাছেও গ্রহণযোগ্য। তবে তাকে নিয়ে রাজস্ব প্রশাসনে কিছুটা বিতর্ক আছে। অর্থমন্ত্রী নিজেও এই কর্মকর্তাকে এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে পছন্দ করছেন না।
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে গত মাসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এনবিআরের সদস্য শুল্কনীতি ফরিদ উদ্দিনকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রস্তাব করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পত্র দেন। এর আগে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। ফরিদ উদ্দিন কাস্টমস ও এক্সাইজ ক্যাডারের ১৯৮৩ ব্যাচের কর্মকর্তা। এই মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তার পুরো রাজস্ব প্রশাসনেই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তবে ফরিদ উদ্দিনকে চেয়ারম্যান নিয়োগে অর্থমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসন ক্যাডার। তাদের দাবি প্রশাসন থেকেই রেওয়াজ অনুযায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হোক।
একইভাবে বাণিজ্যসচিব হেদায়েত আল মামুনকে এ পদে নিয়োগের জন্য অন্য একটি মহল থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য দিকে দক্ষ আমলা হিসেবে বিবেচিত বর্তমান ব্যাংকিং সচিব এম আসলাম আলম এবং বন ও পরিবেশ সচিব নজিবুর রহমানকে এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে বেশ সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে গোলাম হোসেনকেই আরও ৬ মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তার পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৮ জানয়ারি গণমাধ্যমকে বলেছেন, এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থবছরের ছয় মাস বাকি রয়েছে। এ মুহূর্তে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
এনবিআর নতুন চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন তার পুরোটাই নির্ভর করছে সরকারের শীর্ষ মহলের ওপর। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দু-একদিনের মধ্যেই সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে।

আপনার মন্তব্য

Top