বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই নিতে হবে

পুঁজিবাজারের গভীরতা এবং পরিধি বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন IPO পুঁজিবাজারে আসা জরুরি। তবে সেই কোম্পানিগুলো কতটুকু মান সম্পন্ন তা ডিএসইতে তালিকাভুক্তির আগেই খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া ডিএসইতে তালিকাভুক্তির পর প্রতিটি কোয়াটারের আর্নিংও খতিয়ে দেখার দায়-দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার | লভ্যাংশ দিবে এই মর্মে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়ার পরের বছর থেকেই প্রায় প্রতিটি কোম্পানির আর্নিং কমে যাচ্ছে। কিছু কিছু কোম্পানি লভ্যাংশ না দিয়ে Z group এ চলে যাচ্ছে।

এখানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন তদন্ত টিম নেই। শুধু secondary market মনিটরিং করে কোন শেয়ার দু তিন দিন বাড়লেই গদ বাধাঁ দর বাড়ার কারন জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হচ্ছে। এখানে মেনুপুলেশন করে IPO তে প্রথমদিনের শেয়ার মুল্য ১০০০% বৃদ্ধির পরে আর কোনদিন ঐ মূল্যে ফেরত আসতে পারে না। একবার টাকা তুলে নেওয়ার পর থেকে কোম্পানিটির যেন কোন জবাবদিহিতাই থাকেনা।

এসব দেখার দায়-দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এড়িয়ে যেতে পারে না। ব্যাবসায় লাভ লস হতে পারে কিন্তু বিনিয়োগকারিদের লভাংশ দিতে হবে বলে লাভকে লস দেখিয়ে আবার প্রয়োজনে লসকে লাভে রুপান্তরিত করা হচ্ছে। IPO পাওয়ার জন্য একজন বিনিয়োগকারী নিজ এবং বিভিন্ন নামে ৫০০ থেকে ১০০০ বা তার বেশি আবেদন জমা দেন। এজন্য সব সময় নতুন কোম্পানির বহুগুণ আবেদন জমা পড়ে। একেবারে শুরু থেকেই মিথ্যা demand তৈরী হয় কোম্পানিটির। যেখানে মার্কেটে আসা ঐ কোম্পানির শেয়ার মূল্য ১০/টাকা,সেখানে ২০/টাকা ২৫/টাকায় প্রথমদিন ট্রেড হলেই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অনেক খুশী সেখানে মিথ্যা demand তৈরী করে ১০০০% উচ্চমুল্যে শেয়ারটি সাধারন বিনিয়োগকাপরীদের হাতে তুলে দিচ্ছে এক শ্রেনীর অসাধু মেনুপুলেটর। অনেকে বলবেন বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মূল্যে শেয়ারটি কিনছে কেন? বাজারে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনবেই সেটা যে মূল্যেই থাকুকনা কেন। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।

এক এক জন বিনিয়োগকারী হচ্ছে পুঁজিবাজারের এক একটি এলিমেন্টস। তাই বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায় দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই নিতে হবে। এই বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রথম থেকে শেষ পযর্ন্ত প্রতিটি প্রয়োজনীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। পুঁজিবাজারে উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা একদিনেই জন্মায় না। আস্থার জন্য ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই পরিবেশ তৈরী করে দিতে হয় যা সুদীর্ঘ ৮ বছরেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা পারেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার কারনে Dhaka Stock Exchange আজ পুরাপুরি জুয়ার বাজারে পরিণত হয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিতর্কিত না হয়ে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে হবে।

আহমেদ শাওন, ঢাকা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top