পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত

মার্কেটে এখন আর পলিটিক্যাল কোনো প্রভলেম নেই। বিএনপিও শান্ত অবস্থায় রয়েছে এখন প্রয়োজন শুধু কোম্পানির রিয়েল অবস্থার ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা। তবে মার্কেটে লিক্যুইটিডি ক্রাইসিস রয়েছে কারণ মাত্র ৩০০ কোটি টাকার লেনদেনে বাজারে তারল্য সংকটের চিত্র ফুটে উঠে গত কয়েকদিন দরপতন না হওয়ার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়তা থাকলেও তারল্য সংকট ছিলো প্রবল। আর এই তারল্য সংকট কাটাতে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিলে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কেটে গতিশীল হবে।

প্রথমত পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাজার মূল্যে নয় বরং ক্রয় মূল্যে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বা স্ট্রেটেজিক বিনিয়োগ এক্সপোজার গণনার বাইরে রাখা।

তৃতীয়ত অ-তালিকাভুক্ত শেয়ার যেহেতু বাজার মূল্য পরিবর্তন বা প্রভাবিত করে না তা তাই এগুলো পুঁজিবাজার এক্সপোজার গণনায় বাদ দেয়া।

চতুর্থত ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সামষ্টিক এক্সপোজার রিপোর্টিং বাদ দেয়া প্রয়োজন। এ রিপোর্টিং পদ্ধতি বলবৎ থাকলে পুঁজিবাজারের পরিধি বৃদ্ধি ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। কারণ এ রিপোর্টিং এর ফলে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানসমূহ অন্য কোন সূত্র থেকে অর্থের যোগান সম্ভব হলেও তা বিনিয়োগ করতে পারবে না। 

এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) মার্কেট মেকার রুলসটিও দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর যে বিনিয়োগ রয়েছে তা বিবেচনা করা হচ্ছে মার্কেট প্রাইসের ওপর অথচ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবমহল থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হচ্ছে যে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ যেন কষ্ট প্রাইসের ওপর বিবেচনা করা হয় এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পুঁজিবাজারে আসবে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা নতুন করে পুঁজিবাজারে আসবে।

একটি ব্যাংক যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে সেটিই তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ মার্কেট প্রাইসের ওপর গণনা করার কারণে ঝুঁকি না বাড়লেও এক্সপোজার বেড়ে যায়। দেখা গেছে, কোনো একটি কোম্পানির ১০ টাকা করে ১ লাখ শেয়ার কেনা হলো। এই ১০ লাখ টাকা হচ্ছে ব্যাংকের বিনিয়োগ। কিন্তু কিছুদিন পর ঐ শেয়ারের দর ২০ টাকায় দাঁড়ালে ব্যাংকের এক্সপোজার ২০ লাখ টাকা দেখানো হচ্ছে। আর তখনই ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সেল প্রেসার চলে আসে। অথচ এই ২০ লাখ টাকা ব্যাংকের ঝুঁকি নয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো ২০ লাখ টাকাকেই পুঁজিবাজারের এক্সপোজারের অন্তর্ভুক্ত করছে। এতে বাজার একটু গতিশীল হলেই ব্যাংকগুলো শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার মধ্যে নিয়ে আসছে। ফলে বাজারে বিক্রি চাপ বেড়ে যাচ্ছে। আর বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের আশা রাখলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নিয়মনীতির কারণে তারা পারছে না।

মার্কেট এখন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মার্কেট মেকারের দায়িত্বও কেউ পালন করছে না। ফলে বাজার গতিশীল হচ্ছে না। যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কষ্ট প্রাইসের ওপর নির্ধারণ করা হয় তাহলে বাজারে নতুন বিনিয়োগ আসবে। এছাড়া উপরোক্ত বিষয়াদি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সবগুলোই বাস্তবায়ন সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top