আতঙ্ক কাটলেও বাজারে লিক্যুইডিটি ক্রাইসিস

শেয়ারবাজার রিপোর্টঃ দেশের রাজনৈতিক আতঙ্ক কেটে গেছে। ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে গেছে গোটা দেশ। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব মার্কেটে নেই। কিন্তু এতো বিশাল বড় মার্কেটে মাত্র ৩০০ কোটির ঘরে লেনদেন হওয়া বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া মার্কেটকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য আইসিবি ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। তবে বাজারে সৃষ্ট তারল্য সংকট কাটাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সাপ্তাহিক ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক নেতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৩দিনই কমেছে সূচক। বাকি দুই কার্যদিবস বাড়লেও এর মাত্রা ছিলো সামান্য। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের উভয় শেয়ারবাজারে প্রায় সব ধরনের সূচক কমেছে। এদিকে সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। আর গত সপ্তাহে লেনদেনের পরিমান ৭.৪২ শতাংশ কমেছে। আলোচিত সপ্তাহটিতে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ  ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৮ কোটি ৫৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা। সে হিসেবে সপ্তাহশেষে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৮৭১ কোটি ৬৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ০ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ৫৫ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই৩০ সূচক কমেছে ০ দশমিক ১১ শতাংশ বা ২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। অপরদিকে, শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে ০ দশমিক ৫৪ শতাংশ বা ৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে। আর সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬২টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ২৬৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭টির। আর লেনদেন হয়নি ১টি কোম্পানির শেয়ার। এগুলোর ওপর ভর করে গত সপ্তাহে লেনদেন মোট ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৭ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। তবে এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯৭৩ কোটি ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৯ টাকার। সেই হিসাবে সমাপ্ত সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ১৪৬ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩২২ টাকা বা ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।

আর সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২ দশমিক ৬১ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

সপ্তাহশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচঞ্জের (সিএসই)সার্বিক সূচক সিএসইএক্স ১২০ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ১.০৭ শতাংশ কমে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১২৮ পয়েন্টে। আর সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে হাত বদল হওয়ার ২৭২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৯টির, কমেছে ২০২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির দর। এগুলোর ওপর ভর করে বিদায়ী সপ্তাহে ১১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top