ডিএসই’র কৌশলগত অংশীদার বিষয়ে টিআইবি’র বক্তব্যে বিএসইসি’র প্রতিবাদ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: ‘ডিএসই’র কৌশলগত মালিকানার অংশীদার বাছাইয়ে অবৈধ হস্তক্ষেপে টিআইবি’র উদ্বেগ: জড়িতদের জবাবদিহি ও সংশ্লিষ্ট দরদাতাদের কালো তালিকাভুক্তির আহবান’ শিরোনামে ১৬ ফেব্রুয়ারি ট্রান্সপরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রদত্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৭ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নজরে এসেছে এবং এ ব্যাপারে বিএসইসি’র বক্তব্য নিম্নরুপ:

প্রথমত: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর কৌশলগত ‍বিনিয়োগকারী নিয়োগ সংক্রান্ত কোন প্রস্তাব বিএসইসি এখনও পায় নাই। যার ফলে প্রস্তাব সমূহ কিরুপ, তার শর্ত সমূহ কি কি এবং দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় কি, তা না জেনে বিএসইসি এর পক্ষে প্রস্তাব সমূহের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করা এখনও সম্ভব হয় নাই।

তবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এবং ডিএসই’র সাথে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিএসইসি জানতে পেরেছে যে, উক্ত কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্বাচনে দুটি কনসোর্টিয়াম আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ডিএসই কর্তৃপক্ষ এই দুইটি কনসোর্টিয়ামকে নিয়ে একাধিকবার বিএসইসি’র সাথে বাজার ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে। বিএসইসি এ বিষয়ে অত্যন্ত আনন্দিত যে, ডিএসই’র শেয়ার ক্রয়ে আমাদের দুইটি বড় প্রতিবেশী দেশের দুই কনসোর্টিয়াম এর আগ্রহ বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের উজ্জল ভবিষ্যৎ নির্দেশ করে। বিএসইসি বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতোদিন যা বলে আসছিলো এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

টিআইবি শুধুমাত্র সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উপর ভিত্তি করে যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিবৃতি প্রকাশের আগে টিআইবি, বিএসইসি’র সাথে কোনরুপ যোগাযোগ করেনি বা বিএসইসি’র কোন বক্তব্য জানার চেষ্টা করেনি। টিআইবি এর মত একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনভাবেই বিএসইসি এটা আশা করে না।

বিএসইসি এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারা সবার জ্ঞাতার্থে নিম্নে উল্লেখ করছে: আইনের ১২ ধারায় বলা হয়েছে শেয়ারহোল্ডিং এর সীমা, ইত্যাদি-(১) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ এর ক্ষেত্রে-

(খ) কোন কৌশলগত বিনিয়োগকারী, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, উহার মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের শতকরা ২৫ ভাগ পর্যন্ত ধারণ করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন, জনস্বার্থে, এই সীমার অধিক শেয়ার ধারণ করিবার জন্য কোন কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে।

অতএব, এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, যখন বিএসইসি, ডিএসই থেকে সব তথ্য সহ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাবে, তখনই বিএসইসি এর পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই টিআইবি যেভাবে তার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি’র বিরুদ্ধে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও অবৈধ চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এনেছে তাতে বিএসইসি অত্যন্ত মর্মাহত। বিএসইসি’র সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ ব্যতীত টিআইবি এর মত প্রতিষ্ঠান যে ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছে, তা অত্যন্ত আপত্তিকর।

টিআইবি কিভাবে জানলো যে, বিএসইসি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজসে বা প্রভাবান্বিত হয়ে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে। এ ধরণের প্রমাণ টিআইবি’র কাছে থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য বিএসইসি টিআইবি-কে অনুরোধ করছে।

টিআইবি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে যে, ‘দর প্রস্তাব মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেক পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের তদবির ও চাপ প্রয়োগ যেমন নজিরবিহীন ও আইনবিরুদ্ধ, বিএসইসি কর্তৃক তাতে প্রভাবিত হয়ে বাছাই প্রক্রিয়াকে কলূষিত করে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ইন্ধন যোগানো তেমনি বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।’ সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই না করে এ ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য টিআইবি’র গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যে প্রস্তাব বিএসইসি এখনো পায় নাই এবং প্রস্তাব সম্পর্কে এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নাই, সে ক্ষেত্রে টিআইবি কি তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছে তা ব্যাখ্যা করলে বিএসইসি এর পক্ষে জবাব দেওয়া সুবিধাজনক হতো।

বিএসইসি আশা করে টিআইবি ভবিষ্যতে এ ধরনের একতরফা ও ভূল তথ্যে উপর ভিত্তি করে ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে যোগাযোগ ব্যতিরেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও আস্থা ক্ষুন্ন করে পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকবে।

বিএসইসি’র উপর অর্পিত আইনানুগ দায়িত্বের আলোকে তার কর্মকান্ড স্বচ্ছতার সাথে পরিচালন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজার তথ্য জাতীয় স্বার্থকে সবসময় সমুন্নত রাখবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top