এককভাবে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে না ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্কের ৭ পরিচালক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের এককভাবে দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনা রয়েছে। ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) জারি করা এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু তারপরও সে নির্দেশনা মানছে না শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত আইটি খাতের ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওর্য়াক লিমিটেড। এমনকি ১৪ জন উদ্যোক্তা-পরিচালকের মধ্যে পৃথকভাবে ৭ জনের কাছে নেই কোম্পানির ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার।  কোম্পানি সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধান অনুযায়ী, ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালকরা হলেন কাইসার আলি তালুকদার, মো. আকতারউজ্জামান, প্রফেসর মো. মোফতোফা আকবর, মির্জা আলী বেহেরুজি ইস্পাহানি, আব্দুলাহ হেল মোস্তাফা উদ্যোক্তা, নাজমা এনায়েত উল্লাহ খান, আনোয়ার হোসেন।

ডিএসই ওয়েবসাইড সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকের কাছে রয়েছে ২১.৬৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৭.৩৫ শতাংশ, বাকী ৬১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

দেখা গেছে, ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওর্য়াকের শেয়ারধারী ১৪ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মধ্যে মাত্র ৪ জনের কাছে ২ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে। তারা হলেন- চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন হক, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক সাজেদুল সিরাজ এবং স্পসর পরিচালক সুমন সেলিন হক।

গত জুন মাসের কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী দেখা যায়,  ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্কের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক কাইসার আলি তালুকদার, মো. আকতারউজ্জামান, প্রফেসর মো. মোফতোফা আকবরের  কাছে যথাক্রমে ৪ হাজার ৬০১টি, ৮ হাজার ৩১৮টি এবং ১০ হাজার ৮৬৭টি শেয়ার রয়েছে । যা মোট শেয়ারের যথাক্রমে ০.০৪ শতাংশ, ০.০৭ শতাংশ এবং ০.০৯ শতাংশ। এছাড়া কোম্পানির উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন, আব্দুলাহ হেল মোস্তাফা, নাজমা এনায়েত উল্লাহ খান এবং  মির্জা আলী বেহেরুজি ইস্পাহানির কাছে যথাক্রমে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৮টি, ২ হাজার ৬৬৮টি শেয়ার, ২০ হাজার ১৩১টি এবং ৯৯ হাজার ৭১৭টি শেয়ার রয়েছে। যা মোট শেয়ারের যথাক্রমে ১.৬৫ শতাংশ, ০.০২ শতাংশ, ০.১৮ শতাংশ এবং ০.৯১ শতাংশ।

বিধান অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের প্রত্যেকের (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যাতীত) পরিশোধিত মূলধনের দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক। তবে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানিই রয়েছে; যাদের পরিচালকদের প্রত্যেকেরই দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন না। এই অবস্থায় তারা কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ বিষয়ে একাধিক বাজার সংশ্লিষ্ট সাথে কথা বললে তারা জানায়,  তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের অধিকাংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকায় বাজারে শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত শেয়ারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। প্রত্যেক পরিচালকের হাতে ২ শতাংশ  ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার কথা থাকলেও আইনটি মানছে না অনেক কোম্পানির পরিচালক।

সম্প্রতি কমিশনের ৬২৯তম সভায় এককভাবে দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যতাবাধকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত সকল পরিচালকের জন্য সর্বদা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক। কাজেই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমূহের স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত যেসকল পরিচালক কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ না করে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিষয়টি এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হবে। উল্লেখিত শেয়ার ধারণ নিশ্চিতকরণের জন্য নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

Top