রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল

শেয়ারবাজার ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি আপিল করেন।

জানা গেছে, আপিল আবেদন বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহীদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আপিলের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। তবে, শুনানি কবে ও কখন হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আইনজীবীরা

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় এ ব্যাপারে হাইকোর্টে বৈঠকে করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এই বৈঠকে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, দুদক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

গতকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের ১২ দিন পর এ মামলার সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল আবেদন করা হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, এই মামলার দণ্ডিত আসামিদের পরস্পরের যোগসাজশে সরকারি এতিম তহবিলের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। খালেদা জিয়া সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

রায়ে আদালত আরও বলেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বগুড়ার গাবতলী থানার দাড়াইলে জমি কেনা হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো স্থাপনা তৈরি করা হয়নি। আগে কিংবা বর্তমানে কোনো সময়ই সেখানে এতিমখানা স্থাপন করা হয়নি। অর্থাৎ খালেদা জিয়া ও কামাল সিদ্দিকী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দিয়েছেন অথচ কোনো এতিমখানা তৈরি করা হয়নি। নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার অপরাধের দায় তাঁরা কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।

আর তারেক রহমান ও মমিনুর রহমান ওই ট্রাস্টের ট্রাস্টি হয়ে সরকারি টাকা থেকে চার লাখ টাকা তুলে নেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি কিনলেও সেখানে কোনো স্থাপনা তৈরি করেননি কিংবা কোনো এতিমখানা বানাননি। এভাবে তাঁরা টাকা আত্মসাৎ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন ওই কারাগারে আছেন। এ ছাড়া এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া মামলায় অপর চার আসামিকেও ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া অপর আসামিদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া এ মামলায় অপর যে চার আসামিকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তারা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top