ঋণ-আমানত অনুপাত সমন্বয়ের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) সীমা পুনর্নির্ধারণ করলেও নতুন নির্দেশনা মানার জন্য ব্যাংকগুলোকে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এর আগে ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী ব্যাংকিং থামাতে গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ-আমানত অনুপাত সীমা পুনর্নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারবে। আর ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত।

২০১৯ সালের শুরু থেকে সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা ঋণ দিতে পারবে। আর ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা পর্যন্ত। দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত উল্লেখিত হারের চেয়ে বেশি রয়েছে, সেগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্রমান্বয়ে নির্ধারিত মাত্রায় আবশ্যিকভাবে নামিয়ে আনতে হবে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে সাধারণ ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ নির্ধারিত আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকেরই এডিআর ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় ঋণ-আমানত অনুপাত পুনর্নির্ধারণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডি রেশিও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য একটি গাইডলাইন মেনে চলা হয়। সেই গাইডলাইন মেনে এই রেশিও নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা, এনপিএলসহ (নন-পারফরমিং লোন) বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেছিলেন, ইতোমধ্যে ২০টি প্রচলিত ধারার ব্যাংক তাদের ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা অতিক্রম করেছে।

অবশ্য মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে গত ৩ জানুয়ারি ব্যাংকার্স সভায় এডিআর কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে প্রথাগত ব্যাংকগুলোর এডিআর কমিয়ে আনার জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। কিন্তু ওই সভার পর ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়ে এডিআর না কমানোর অনুরোধ করেছিল। গভর্নরের কাছে লেখা এবিবির চিঠিতে এমডিরা বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এডিআর নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদ হার বাড়বে। কারণ, বাড়তি আমানত সংগ্রহের জন্যই ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ বাড়িয়ে দেবে। এতে ব্যাংক ব্যবস্থায় নতুন আমানত আসবে, তাও নয়। শুধু এক ব্যাংকের আমানত আরেক ব্যাংকে যাবে। ফলে যে ব্যাংক আমানতের সুদ বাড়াবে, বিদ্যমান আমানতকারীরা অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে সেই ব্যাংকে খাটাবে। আবার আমানতের সুদ বাড়লে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ হারও বাড়িয়ে দেবে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে।

গভর্নরকে লেখা এবিবির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নীতিমালা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে চাইলে ব্যাংকগুলোর চলমান ঋণ বিতরণ চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে। বিশেষ করে চলতি মূলধন ঋণ, গ্রাহকের পক্ষে আমদানি বিলের অর্থ পরিশোধ ও চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে গ্রাহক তথা রফতানিকারক, এসএমই ও করপোরেট গ্রাহকদের তহবিল সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তখন এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ব্যাংকগুলোর পক্ষে কঠিন হবে। বিশেষ করে নির্বাচনি বছরে তা আরও কঠিন হবে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকে যদি পরিবর্তিত এডিআর নীতিমালা বাস্তবায়ন করতেই হয়, তবে কমপক্ষে একবছর সময় দিয়ে সেটা বাস্তবায়নে যাওয়া উচিত।

এদিকে এডিআর ইস্যুতে গত কয়েকদিন ধরে শেয়ারবাজারে বড় ধরণের পতন চলছে। এতে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা এডিআর রেশিও নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নমনীয় হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন তারা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top