দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে অনেক বাধা রয়েছে। তাই বিশ্বব্যাংক এর উন্নয়নে সহায়তা করতে আগ্রহী। সম্প্রতি পুঁজিবাজার সম্পর্কে নিজেদের পর্যালোচনাসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে বিশ্বব্যাংক মিশন কাজ করতে চায়। প্রথমত, সমমূলধন ও ঋণভিত্তিক সম্পদের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা পর্যালোচনা করা; দ্বিতীয়ত, পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রকল্প পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করা।

তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ উপকরণ, স্পেশাল পারপাস বন্ড, নন-সভেরিন বন্ড, বিভিন্ন সিকিউরিটাইজেশনসহ পুঁজিবাজারের অবকাঠামোগত প্রকল্পে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম ও সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ঢাকায় একটি সম্মেলন করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএফসি-বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মূল্যায়ন হচ্ছে— এই দুটি পুঁজিবাজারের আকার অপেক্ষাকৃত ছোট এবং ব্যাপকভাবে সমমূলধনভিত্তিক। এই দুই পুঁজিবাজারের মোট মূলধনের পরিমাণ দেশের জিডিপির মাত্র ২২ শতাংশ, যেখানে ভারতের পুঁজিবাজারের মূলধনের পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজার দেশটির জিডিপির ৯৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫৫ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঋণ বাজার দেশটির জিডিপির প্রায় ১৫৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ডিএসই-তে সবমিলিয়ে ৫৬৭টি তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মধ্যে ৩০০টি স্টক ২২১টি সরকারি ট্রেজারি বন্ড (যেগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে সক্রিয় নয়) এবং দুটি কর্পোরেট বন্ড রয়েছে। সবগুলো সিকিউরিটিজের বাজার মূলধনের পরিমাণ ৫১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সব ঋণ সিকিউরিটিজ হিসাবে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং দুটি কর্পোরেট বন্ডের মূলধন বাজারের ০ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের বাজার পরিচালনার জন্য কোনো কেন্দ্রীয় ক্লিয়ারিং কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) নেই। সিসিপির অনুপস্থিতিতে স্বচ্ছতার মান নির্ধারণকারী কোনো তাৎপর্যপূর্ণ বিধিমালা নেই। ফলে সীমান্ত লেনদেনের উন্নয়নে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আস্থার অভাব রয়েছে।

আঞ্চলিক বিনিময় সহযোগিতার অনুপস্থিতি বাজারে গতিশীলতা ও বৃদ্ধির সম্ভাব্য পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় বিনা দ্বিধায় এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারিং পদ্ধতিতে লেনদেন ছাড়া সীমান্ত লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়বে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে খুব সহজে স্বল্প সুদে দ্রুত ঋণ পাওয়া গেলেও পুঁজিবাজার থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি খুব জটিল, ব্যয়বহুল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

সংস্থাটির দাবি যে কোনো ঋণ গ্রহণের উদ্যোগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক বেশি সময় নেয়। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলোর মানও দুর্বল।

বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থা মূলত ব্যাংক নির্ভরশীল এমনটি জানিয়ে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বলছে, শতকরা ৮০ ভাগ ঋণ আসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে। তবে ব্যাংকিং খাতের এই ঋণ নির্ভরতাও খুব একটা কাজে আসছে না। কারণ, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে নির্দিষ্ট সুদে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা নেই। ব্যাংকগুলো মূলত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ দিতে পছন্দ করে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

Top