গুজবের প্রভাব ও সঠিক তথ্যের অভাবই বিনিয়োগকারীদের বাজার বিমুখ করছে

সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দৈনিক লেনদেন কমে যাওয়া ও সূচকের নিম্নমুখী প্রবনতায় বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আর এই দরপতনের নেপথ্যে গুজব ও সঠিক তথ্যের অভাব প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীরা বাজার বিমুখ হচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, আইসিবির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, মুদ্রানীতি, নির্বাচন, তারল্য সংকট, ডিএসই কৌশলগত অংশীদার চীন বা ভারত এসব ইস্যুতে বাজারে ক্রমাগত অস্থিরতা বিরাজ করেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বেশ বিভ্রান্ত হয়ে বাজারে বিনিয়োগের উৎসাহ হারাচ্ছেন। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে বিগত ২০ মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক ঋণ আমানত সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো এবং চীনকেই কৌশলগত অংশীদার করার দিকে ডিএসই’র উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এ দুই সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তা বাজারে সুবাতাস দিবে বলে আশা করা যায়।

এদিকে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রাখা নিরাপদ ভাবছেন। ধারণা করা হচ্ছে বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমুখী হওয়ার পেছনে এগুলোও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এসব গুজব ও অযৌক্তিক ভিত্তিতে অস্থিরতা তৈরি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা সচেতন অবস্থান নিলে এসব গুজব হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করলে এখনও পুঁজিবাজারকে ঘিরে ২০১৮ সালে অনেক প্রত্যাশা ও সুফল রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সকল মহলের সচেতন উদ্যোগ ও বিনিয়োগকারীদের সচেতন ভূমিকা। বিদেশি অংশীদার প্রাপ্তি ও আসন্ন ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশে ও শেয়ার প্রতি আয়ের কিছু ইতিবাচক প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যাবে। যদিও উল্লেখিত কারণে গেল কয়েক সপ্তাহে বাজারে বেশ কিছু কোম্পানির অনেক ভালো সংবাদের পরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তেমন দেখা যায়নি। তবে আশা করা যায় খুব শিগগিরই বিনিয়োগকারীরা গুজব এড়িয়ে বাজারে বিদ্যমান কোম্পানির আয়, লভ্যাংশ, ইপিএস ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

তামান্না প্রিয়ান, এমবিএ।

আপনার মন্তব্য

Top