পরিচালকদের শেয়ার ধারণের বিষয়ে বিএসইসি নিশ্চুপ কেন

পরিচালকবৃন্দের এককভাবে দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির একদিনের গলাবাজী কি শেষ? ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বিএসইসির জারি করা নির্দেশনার পর থেকে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নানা ঘটনা ঘটে গেছে। তবুও ৪০ এর বেশি কোম্পানির পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করা এবং শতাধিক পরিচালকের এককভাবে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ না করে তারা বিএসইসির সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি কমিশনের ৬২৯তম সভায় এককভাবে দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যতাবাধকতা নিয়ে নতুন মোড় নেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএসইসির সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।

অথচ কমিশনের সিদ্ধান্তের  খবরে যে সমস্ত শেয়ার গুলোতে এককভাবে ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ নেই, সে সমস্ত শেয়ার গুলোর দাম কমতে দেখা গেছে।

নিম্নে কয়েকটি শেয়ারের উদাহরণ দেওয়া যাক যেমন-

ফাইন ফুড ৪৪/- টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। আর এখন বর্তমানে ৩৮.৭০/- টাকায় লেনদেন চলছে।
ফু-ওয়াং ফুড ২২/- টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। আর এখন বর্তমানে ১৮.৯০/- টাকায় লেনদেন চলছে।
ফু-ওয়াং সিরামিক ১৮.১০/- টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। আর এখন বর্তমানে ১৬.৭০/- টাকায় লেনদেন চলছে।
ইনটেক অনলাইন ২২/- টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। আর এখন বর্তমানে ১৯.৬০/- টাকায় লেনদেন চলছে।
অগ্নি সিস্টেমস ২৩.৯০/- টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। আর এখন বর্তমানে ২১.২০/- টাকায় লেনদেন চলছে।

এই ভাবে আরও অনেক গুলো কোম্পানির শেয়ার দরের একই অবস্থা। বাজারে গুজব রয়েছে, যাদেরকে শেয়ার কিনে নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে হবে তারা ইচ্ছে করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার দর কমাচ্ছে। এতে কম দরে শেয়ার কিনে তারা নিজেদের কোটা পূরণ করবে। তাদের এই হীন উদ্দেশ্যে দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

তাই আর কালক্ষেপন না করে অতিদ্রুত পরিচালকবৃন্দের এককভাবে ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিনিয়োগকারীদের পক্ষে অবস্থান নেবে সেই প্রত্যাশাই করি।

 

লেখক:
আকাশ আহম্মেদ মামুন, ফেনী।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top