প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও অপ্রতুল

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশে নারীরা যথেষ্ট অবদান রাখলেও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে তাঁদের অংশগ্রহণ এখনও অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে তিন দিন ব্যাপী আয়োজিত ‘ব্যাংকার-এসএমই নারী উদ্যোক্তা সমাবেশ ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা-২০১৮’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠানে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, দেশে এসএমই খাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসএমই খাতে মাধ্যমে বর্তমানে দেশে তৈরি পোশাক খাতসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, দারিদ্র দূরীকরণ, কর্মসংস্থান, দেশজ শিল্প উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশে নারীরা যথেষ্ট অবদান রাখলেও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে তাঁদের অংশগ্রহণ এখনও অপ্রতুল। তাই নারীদের আরো নতুন নতুন সম্ভাবনার দিকে নজর দিতে হবে। বহুমুখী পণ্যের উৎপাদক হতে হবে। তবেই সমাজে নারীর অংশগ্রহণ বহুগুণে বেড়ে যাবে। সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান বাড়বে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারীদের সবধরণের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের এগিযে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে শুধু কাঁথা সেলাইয়ের মতো কুটির শিল্পে গন্ডিবদ্ধ থাকলে হবে না। ডেকেয়ার সেন্টার, শপিংমল বা আরো বড় কোন নতুন বিষয়ের উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

ব্যাংকারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিলে তা কখনও ডিফল্ট হয় না। নারীরা জানে তাদের ঋণ কীভাবে শোধ দিতে হয়। তাই ব্যাংকারদেরও নারীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়া উচিত। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে নারীরা ক্ষমতায়নে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হবে মর্মে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, নারীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরো এগিয়ে আসতে হবে। এসএমই খাতের ২৫ শতাংশ ঋণের মধ্যে নারীর জন্য নির্দিষ্ট ১০ শতাংশ ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনেকে নারী উদ্যোক্তার নামে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক যাচাই-বাছাই করেন। তারা বোঝার চেষ্টা করেন নারীর পেছনে কোনো পুরুষ সহযোগিতা করছে কীনা, বা পুরুষ উদ্যোক্তা হয়ে নারীর নামে ঋণ নিচ্ছে কী না। কিন্তু ঘটনা যাই-ই হোক ব্যবসায়ে নারীর অবদান থাকলেই ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হবে। এতোটুকু দেখলেই হবে ঋণটা উঠে আসবে কী না।

তিনি বলেন, আগামী ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানো দরকার । সেজন্য সমাজের প্রতিটি কাজে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান বাড়ছে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে আজ নারীর অংশ বাড়ছে। আমাদের গ্রামীণ পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটা আরো বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম বলেন, বর্তমানের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২০ শতাংশ। আগামী ২০২১ সালে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশ হতে এটা ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। আর তা করতে হলে নারী উদ্যোক্তাদের আরো বেশি পণ্যের উৎপাদন ও সমাজের উন্নয়ন এগিয়ে আসতে হবে।

আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের উদ্যোগে প্রায় ২৫ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রায় ১৪ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

Top