ডিএসইর মোবাইলে অ্যাপে ৩১ লাখ শেয়ার লেনদেন

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের সাথে তাল মিলিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যেমে লেনদেনের নতুন মাত্রা যুক্ত করে। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ দুই বছরে ডিএসই মোবাইল অ্যাপে লেনদেন হয়েছে ৩১ লাখ ৬ হাজার ৮৭৯টি শেয়ার। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই’র তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ মোবাইলে লেনদেনের অ্যাপ ‘ডিএসই মোবাইল’ চালু হলেও শুরুতে তেমন কোন প্রচারণা করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমানে প্রযুক্তিপ্রেমী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অ্যাপভিত্তিক লেনদেনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রতি মাসেই নতুন নতুন বিনিয়োগকারী এ সেবার আওতায় আসছেন। এই অ্যাপ চালু হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান হারে মোবাইলে লেনদেন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

২০১৬ সাল ৯ মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত ডিএসইর মোবাইল ব্যবহারে ২৭ হাজার ১৬৯ জন বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করেছে। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত লগইন করেছে ৬ হাজার ৩৫০ জন। এছাড়া এ দুই বছরে ডিএসই মোবাইল অ্যাপে লেনদেনের মোট অর্ডার পড়েছে ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯১টি। এর মধ্যে কার্যকর হয়েছে ৩১ লাখ ৬ হাজার ৮৭৯টি।

এদিকে, ডিএসই মোবাইল অ্যাপসে গত বছরেরর তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। ২০১৭ সালের ৯ মার্চের তুলনায় এর ব্যবহারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৬১ শতাংশ। ২০১৭ সালে মোবাইলে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৪১১ জন।

উল্লেখ্য, ‘ডিএসই মোবাইল’ অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে নিজের বিও হিসাবে সিকিউরিটিজ কেনাবেচার আদেশ দিতে পারছেন। পোর্টফোলিওর রিয়েল টাইম আপডেট থেকে শুরু করে, বিও হিসাবের খুঁটিনাটি তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণের জন্য গ্রাফ-চার্টসহ নানা সুবিধা রয়েছে অ্যাপটিতে।

ডিএসইর মোবাইল অ্যাপে মোট তিন ধরনের সংস্করণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভার্সন ব্রোকার হাউজ এবং বাকি দুটি ভার্সন বিনিয়োগকারীদের জন্য। বিনিয়োগকারীদের দু’টি ভার্সনের মধ্যে একটি হচ্ছে ডিএসই-মোবাইল ভিআইপি। এটি দিয়ে সরাসরি লেনদেন করা যাবে না। বিনিয়োগকারী মোবাইলে শুধু তার পোর্টফোলিও দেখতে পারবেন। অন্যটি হচ্ছে ডিএসই-মোবাইল ট্রেডার। এ ভার্সন ব্যবহার করে বিনিয়োগকারী নিজে লেনদেন করতে পারবেন। তবে কোনো বিনিয়োগকারী বাজার দামের চেয়ে বেশি দামে ট্রেড অফার করলে ব্রোকারেজ হাউজের ট্রেডার সেই আদেশ বাতিল করতে পারেন। কিন্তু বাজার দামের আদেশ দিলে তা বাতিল করার ক্ষমতা ট্রেডারের থাকে না।

ব্রোকারেজ হাউজ থেকে নিবন্ধন করে আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে এ অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে। সেজন্য বিনিয়োগকারীকে নিজ নিজ ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ইউজার আইডি (ব্যবহারকারীর পরিচয়) এবং পাসওয়ার্ড (গোপন নম্বর) নিতে হবে। এরপর লেনদেন চলাকালে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে ঢুকে এমএ প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে শেয়ার বেচাকেনার অর্ডার দেওয়া যাবে। এ অর্ডার কার্যকর হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মোবাইলে একটি বার্তা আসবে।

তবে যারা একাধিক বিও হিসাব পরিচালনা করেন তাদের প্রতিটি বিও অ্যাকাউন্টের জন্য পৃথক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিতে হবে। যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড সেলফোনের পাশাপাশি আইফোনের মাধ্যমে এটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top