লিষ্টিংয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানির যেসব যোগ্যতা থাকা উচিত

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যখন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় তখন সেটির বেশকিছু যোগ্যতা বা ক্রাইটেরিয়া থাকে। লিষ্টিংয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানি যেসব যোগ্যতা থাকা উচিত তা নিম্নে বর্ননা করা হলো:

ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা:

০১। পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ অর্থ অথবা ১৫ কোটি টাকা যেটি বেশি হবে সে পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে উত্তোলন করতে হবে।

০২। কোম্পানির বিদ্যমান পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ১৫ কোটি টাকা হতে হবে।

০৩। প্রসপেক্টাসে যে বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তারপর থেকে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর জন্য কোনো ম্যাটারিয়াল পরিবর্তন করা যাবে না।

০৪। ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির কোনো শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।

০৫। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস,১৯৮৭, আইএফআরএস/আইএএস,বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ওন অডিটিং, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন মেনে তৈরি করতে হবে।

০৬। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট দিয়ে কষ্ট অডিট করাতে হবে।

০৭। নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হবে।

০৮। সময়তো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন পরিপালন করতে হবে।

০৯। প্রসপেক্টাস তৈরিতে প্রয়োজনীয় সকল আইন কানুন মেনে চলতে হবে।

১০। আবেদনের সময় কোম্পানির কোনো রিটেইনড লস থাকতে পারবে না।

১১। সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক প্রণীত এ সংক্রান্ত গাইডলাইন সময়মতো পরিপালন করতে হবে।

১২। কোম্পানি বা কোম্পানির কোনো পরিচালক ঋণ খেলাপি হতে পারবে না।

ফিক্সড প্রাইসের ক্ষেত্রে

০১। যদি কোম্পানির বাণিজ্যিক উৎপাদন তিন বছর চালু হয় তাহলে পূর্ববর্তী অন্তত দুই বছরের কর পরিশোধের পর মুনাফা, অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পজেটিভ থাকতে হবে। যদি বাণিজ্যিক উৎপাদন তিন বছরের কম হয় তাহলে সদ্য প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পজেটিভ হতে হবে। যদি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু কিংবা কোনো আর্থিক বছর সম্পূর্ণ না করা হয় তাহলে কর পরিশোধের পর মুনাফা এবং নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো যেনো পজেটিভ প্রজেক্টেড হয়।

০২। যে পরিমাণ শেয়ার ছাড়া হবে তার অন্তত ৩৫ শতাংশ কোনো ফার্মে আন্ডার রাইট করাতে হবে।

 

বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে

০১। ন্যূনতম তিন বছরের বাণিজ্যিক উৎপাদন থাকতে হবে।

০২। সদ্য সমাপ্ত দুই বছরের কর পরিশোধের পর মুনাফা পজেটিভ হতে হবে।

০৩। সদ্য সমাপ্ত দুই বছরের নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পজেটিভ হতে হবে।

০৪। কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার এবং রেজিষ্টার টু দি ইস্যু ম্যানেজার আলাদা হতে হবে।

০৫। বিএসইসির অনুমোদিত ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি দিয়ে রেটিং করাতে হবে।

০৬। যে পরিমাণ শেয়ার ছাড়া হবে তার অন্তত ৩৫ শতাংশ কোনো ফার্মে আন্ডার রাইট করাতে হবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top