অনেক আশার খোরাক এখনো পুঁজিবাজারে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে ২০ মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে নেতিবাচক মনোভাব ও নিম্নমুখী সূচকে বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। এরজন্য তারল্য সংকট এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন অসঙ্গতিকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এখনো পুঁজিবাজারকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আশার আলো লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সম্প্রতি সময়ে আন্তজার্তিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশ সফরে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এজন্য ব্যাংক খাতে সুশাসন ও সমন্বয়ে কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে।

গেল সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদল ডিএসই পরিদর্শনে আসেন। এ সফরকালে ডিএসই’র বিভিন্ন অর্জনের প্রশংসাও করেন। এই বৈঠকেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা ব্যাপকভাবে উঠে আসে। তারাও বাজারকে ঘিরে ডিএসই’র নতুন পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানায় ও তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ধারণা করা যাচ্ছে, সামনে বাজার নেতিবাচক মনোভাব কাটিয়ে এসকল আশার বানীতে ঊর্দ্ধমুখী হবে। বাজারে যে আতঙ্ক বা অস্থিরতা রয়েছে তা দূর হবে। গেল সপ্তাহের শেষে লেনদেনের পরিমাণ কমলেও অস্থিরতা ও ভীতি কাটিয়ে শেয়ার বিক্রয় প্রবনতা অনেকটা কমেছে। ডিএসইর তথ্য মতে, বাজারের পিই রেশিও কিছুটা কমেছে। এতে বিনিয়োগের ঝুঁকির পরিমাণও কমেছে। যেকোন মুহূর্ত্বে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এমনটাই আশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

দেশের অর্থনৈতিক দিকে থেকে পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বাজার হচ্ছে অনেক প্রত্যাশার জায়গা। সর্বোপরি সকল মহলের সচেতন সহায়তা ও বিনিয়োগকারীদের সচেতন বিনিয়োগই এই আশা ও প্রত্যাশার বাজারকে ঊর্দ্ধমুখী হতে সহায়তা করবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলও বাজারকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

সম্প্রতি ডিএসই’র কৌশলগত অংশীদার নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। ডিএসই চীনকেই অংশীদার করার জন্য বিএসইসিকে অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছে। মূলত কৌশলগত অংশীদার পেলে ডিএসইর কী পরিবর্তন বা দেশের মূল পুঁজিবাজারকে কিভাবে প্রভাবিত করবে এ নিয়ে বিনিয়োগকারীর মধ্যে বেশ অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশনের পর এর ৪০ ভাগ শেয়ার থাকবে তার মূল মালিকদের হাতে এবং ৬০ ভাগ শেয়ার আছে এক্সচেঞ্জের কাছে। এই ৬০ ভাগ শেয়ার এর ২৫ ভাগ কৌশলগত অংশীদারদের দেয়ার বিধান আইনে রয়েছে। যেকোন বিদেশি-দেশি প্রতিষ্ঠান এ ২৫ ভাগ বিনিয়োগের জন্য উপযোগী। বর্তমানে ডিএসই চীনকে কৌশলগত অংশীদার করতে প্রস্তাব দিয়েছে যা মূলত বাজারে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়। তাছাড়া চীন ইতিমধ্যে জানিয়েছে তারা অংশীদার হলে পুঁজিবাজারকে প্রযুক্তিগতভাবে আরো উন্নত হতে সহায়তা করবে। অংশীদার হলে তারা ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদে একজন সদস্য যুক্ত হবেন যা বাজার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী নতুন পরিকল্পনাও হয়তো বাস্তবায়িত হবে।

উল্লেখ্য যে, কৌশলগত অংশীদার ইস্যুতে বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বা বাজারের উত্থান-পতনে কোন প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকবে না। তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে প্রভাবিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে বাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিতে কৌশলগত অংশীদার এর ভূমিকা থাকবে বলে আশা করা যায়।

সম্প্রতি বিএসইসি এক বার্তায় জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার নির্বাচনে ডিএসইকে ৮ জুন পর্যন্ত আরো তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার জন্যই ডিএসই আরো সময় চেয়ে আবেদন করার প্রেক্ষিতেই কমিশন তিন মাস সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। এখন কমিশন কর্তৃক যদি চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব অনুমোদন পায় তবে আসন্ন তিন মাসের মধ্যে ডিএসই তার কৌশলগত অংশীদার প্রাপ্তির সকল চুক্তি সম্পন্ন করবে।

 

লেখক: তামান্না প্রিয়ান,এমবিএ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top