করযোগ্য লভ্যাংশ আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলো বিএমবিএ

NBR_BMBAশেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিগত দুই বছরের মতো এবারও প্রাক-বাজেট আলোচনায় কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর মতো ১৫ শতাংশ হারে কর দেয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি কর অধ্যাদেশে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে বিদ্যমান ধারার বাইরে নিয়ে ২৮(৩) ধারার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর এ সংগঠন। এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে করযোগ্য লভ্যাংশ আয়ের সীমা বাড়ানোর দাবিও জানায় সংগঠনটি।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় সোমবার বিএমবিএ’র সাথে মতবিনিময় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বরাবরের মতোই পুঁজিবাজারের বিদ্যমান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর শোচনীয় অকস্থার জন্য বেশকিছু ক্ষেত্রে কর রেয়াতরে দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে প্রথমেই উঠে আসে কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর বিষয়টি। এর পাশাপাশি কির নীতির পরিবর্তন, নেগেটিভ ইক্যুইটি’র সুদের ওপর কর রেয়াত ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের মতো আলোচিত বিষয়গুলো উঠে আসে আলোচনায়।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ২০১৩ অর্থবছর থেকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে কর্পোরেট ট্যাক্সের পরিমান সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে এনে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসা প্রকৃতি অনেকটা একই হওয়ায় তখন থেকেই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে থেকে দাবি ওঠে তাদের ট্যাক্সের পরমান কমিয়ে আনার জন্য। আগের অর্থ বছরগুলোতে এবিআর বিএমবিএ’র এ দাবিতে কর্ণপাত না করায় এ বছরের দাবিতেও প্রথমেই এই ট্যাক্সহার পুণঃমূল্যায়ণ করে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি উঠে আসে।

এছাড়াও, বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ অনুযায়ি মার্চেন্ট ব্যাংকের অবস্থা পুণঃবিবেচনা করে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ২৮(৩) ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠে আসে। এর পাশাপাশি কর অধ্যাদেশে নেগেটিভ ইক্যুইটির ক্ষেত্রে তা অনুমোদিত ব্যয় হিসেবে দেখানোর সুযোগ না থাকায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যে দুরবস্থার মধ্যে পড়ছে তা থেকে উত্তোরনের জন্য সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ২৯নং ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

এদিকে, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে হওয়া লোকসানের সমন্বয়ের সময় নির্ধারিত না করে দেয়ার জন্য এনবিআরের প্রতি আহবান জানিয়েছে বিএমবিএ। আর এ সময়ের মধ্যে রিয়েলাইজড মুনাফার সাথে আগোর লোকসানের সাথে তা সমন্বয়ের প্রস্তাবনা দেয়া হয়। এ সুবিধা পেলে মার্চেন্টর ব্যাংকগুলো দ্বৈত করের চাপ থেকে পরিত্রান পাবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, সাধারন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায়ও দটি দাবি উঠে আসে বিএমবিএ’র প্রস্তাবনায়। আলোচিত ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স পুরোপুরি প্রত্যাহার নবা করে এর পরিমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তবনা দেয় বিএমবিএ। এর পাশাপাশি ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর নির্ধারিত কর সীমা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়। বাজারে সাধারন বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট কাটাতে এই সীমা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন মার্চেন্ট ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ও/তু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top