ডিএসইতে ৪০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ১ বছরের সর্বনিম্নে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ  কোম্পানির শেয়ারের দাম গত ১ বছরের সর্বনিম্নে অথবা সর্বনিম্নের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। সর্বনিম্নে অবস্থান করা এই ৪০ শতাংশ কোম্পানির সবগুলোই বলতে গেলে “A” ক্যাটাগরির শেয়ার। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ১২০টির উপর কোম্পানি রয়েছে যেগুলো ৫০০০ ইনডেক্সে যে দাম ছিল তার নিচে অবস্থান করছে। আর কিছু কিছু কোম্পানি রয়েছে যা তার অতীত রেকর্ডের সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে। যা একটি লক্ষণীয় বিষয়। যেমনঃ-

☛ Square Textile ৫০০০ ইনডেক্সে দাম ছিল ৭০ টাকা। আর এখন ৫৮০০ ইনডেক্সে শেয়ারটির দাম ৫৪ টাকা। যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে।

☛ Olympic Accessories (OAL) ৫০০০ ইনডেক্সে দাম ছিল ২৫ টাকা। আর এখন ৫৮০০ ইনডেক্সে দাম ১৭ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ারপর সর্বনিম্নে অবস্থান করছে।

☛ BENGALWTL ৫০০০ ইনডেক্সে দাম ছিল ৫০ টাকা। আর এখন ৫৮০০ ইনডেক্সে দাম ৩৫ টাকা।

☛ FEKDIL ৫০০০ ইনডেক্সে দাম ছিল ২২ টাকা। আর এখন ৫৮০০ ইনডেক্সে দাম ১৭ টাকা। উদাহরণ দিলে এমন অনেক শেয়ারের নাম বলা যাবে।

বেশির ভাগ “A” ক্যাটাগরির শেয়ার গুলো ৫০০০ ইনডেক্সে যে দাম ছিল তার চেয়ে নিচে থাকার পরও বর্তমানে ইনডেক্স ৫৮২৭ অবস্থান করার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান হচ্ছে “ব্যাংক সেক্টর” এবং হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার। যেমনঃ-

☛ GP = ৫০০০ ইনডেক্সে এরদাম ছিল ২৮৩ টাকা। আর বর্তমান দাম ৪৯০ টাকা।

☛ BATBC = ৫০০০ ইনডেক্সে দাম ছিল ২৫০০ টাকা। বর্তমান দাম ৩৫০০ টাকা।

বর্তমান বাজারের আরও একটি ভয়াবহ খারাপ দিক হচ্ছে অধিকাংশ “Z” ক্যাটাগরি এবং দুর্বল মৌলভিত্তি কোম্পানি গুলো সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হওয়া। শুনলে অবাক হতে হয়, অধিকাংশ এসব দুর্বল মৌলভিত্তি কোম্পানি শুধু গত ১ বছরের মধ্যে নয় বরং গত ১ যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে। যেমনঃ-

☛ MONNOCERA গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

☛APEXFOODS গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

☛ KAY&QUE গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

☛ ZEALBANGLA গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

☛ DULAMIACOTগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

☛ SAVAREFR গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

☛ SHYAMPSUG গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করছে।

উপরে উল্লেখিত শেয়ারগুলো ছাড়াও বেশির ভাগ “Z” ক্যাটাগরি এবং দুর্বল মৌলভিত্তি কোম্পানি গুলোর দাম বিপদ জনক অবস্থায় অবস্থান করছে। বর্তমান ভারসাম্যহীন বাজারকে পুঁজি করে একটি দুষ্ট চক্র বিনিয়োগকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে জাঙ্ক শেয়ার ছাড়া গতি নেই”। কিন্তু একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না যে “সব কিছুর শেষ আছে”। কাউকে না কাউকে শেয়ার গুলো ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে ঐ দুষ্টু চক্রটি। এখন চিন্তা করুন —- ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে অবস্থান করা শেয়ার গুলো কিনে যদি একবার ধরা খান তাহলে এমনও হতে পারে আপনাকে আরও ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে আবার সেই কেনা দাম ফিরে পেতে।

উপরের আলোচনার একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বর্তমান ইনডেক্সের যে ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি তা সব কোম্পানির প্রতিচ্ছবি নয়। তাই ইনডেক্সের পতন দেখলেই হাতে থাকা ভালো কোম্পানির শেয়ার যেগুলো সর্বোচ্চ নিম্নদামে রয়েছে সেগুলো বিক্রি করা হবে সবচেয়ে বোকামি। ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনে যারা গত ৬ থেকে ৮ মাসে লোকসানে রয়েছেন তাদের বলবো ধৈর্য্য ধরতে। বাজার স্বাভাবিক হয়ে গেলে ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে আপনি আপনার লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। আশা করছি খুব সহসাই আমারা একটি স্বাভাবিক বাজার দেখতে পাবো।

পরিশেষে শুধু একটি কথাই বলবো সর্বোচ্চ নিম্নদামে থাকা ভালো শেয়ার গুলো বিক্রির ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা মাথায় আরও একবার চিন্তা করবেন। আর হাতে টাকা থাকলে গত ১ বছরের সর্বোচ্চ নিম্নদামে থাকা শেয়ার গুলো আস্তে আস্তে কিনতে থাকুন। বাজার স্বাভাবিক হয়ে গেলে সর্বোচ্চ নিম্নদামে থাকা শেয়ার গুলো ২০% থেকে ৩০% লাভ দিয়ে যাবে।

 

তানভীর আহমেদ।

শেয়ার বিনিয়োগকারী

উত্তরা, ঢাকা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

 

আপনার মন্তব্য

Top