সবাইকে ছুটি দিয়ে হাউজ বন্ধ করে চলে যাবো

“আমরাতো ভালোই আছি। ভালোই চলছে। কাজ ছাড়া আজাইরা বসে আছি। সবাইকে ছুটি দিয়ে হাউজ বন্ধ করে চলে যাবো। সুস্থ জায়গায় মানুষ থাকে। অসুস্থ জায়গায়তো মানুষ থাকতে পারে না। শেয়ারবাজার এখন মা বাপ ছাড়া হয়ে গেছে। কোনো গার্ডিয়ান নাই। যার কোনো গার্ডিয়ান নাই তারতো কোনো ভবিষ্যত নাই।” কথাগুলো খুবই হতাশার সঙ্গে বলছিলেন এক সিকিউরিটিজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

আরেক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী জানালেন, “বাজারের এই অবস্থায় বিএসইসির কাছে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। ফোন দিলে কোনো রেসপন্স করছে না। এ মার্কেটে আমাদের টিকে থাকা এখন দায় হয়ে গেছে।”

বর্তমান বাজার নিয়ে সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভদ্র ভাষায় হতাশা প্রকাশ করলেও বিনিয়োগকারীরা যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তা বলার মতো না।

কথায় আছে “জিনিষ যায় যার, ঈমান যায় তার”। কারো কোনো কিছু চুরি হলে তার সন্দেহের দৃষ্টি থেকে কেউ বাঁচতে পারে না। প্রতিদিন সকালে মার্কেটে এসেই যদি সূচকের পতন চোখে পড়ে তখন বিনিয়োগকারীদের মাথা ঠিক থাকে না। অশ্রুসজল চোখ নিয়ে হাউজের ট্রেডারদের দিকে তাকিয়ে থাকে আর চোখের ভাষায় বলতে থাকে নানা অপ্রকাশিত কথা।

বর্তমান বাজারকে কেন্দ্র করে কোনো নেতিবাচক ইস্যু নেই। এখানে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীন আসবে না হয় ভারত আসবে। নয়তো নতুন করে দরপত্র আসবে। গাছে বেল পাকিলে তাতে কাকের কিছু আসে যায় না। এটা কোনো ইস্যু নয়। গেলো জানুয়ারি মাসে যে এডি রেশিও আতঙ্ক ছিলো সেটাকে এমনভাবে প্রভাব ফেলানো হয়েছিল যে ঐখান থেকে উঠে আসতে সময় লেগে যাচ্ছে। আইসিবি, লংকাবাংলার মতো বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ সেল প্রেসার এসেছে সেই তুলনায় ক্রয় প্রেসার আসছে না। ২০১০ সালের পর থেকে মার্কেটে যে পরিমাণ শেয়ার আসছে সেই তুলনায় সূচকের অবস্থান যেখানে থাকার কথা তার ধারে কাছেও বর্তমানে নেই। মার্কেটে ক্যাপিটালের যদি দুই শতাংশও ট্রেড হয় তাও ৮০০ কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন হওয়ার কথা। কিন্তু দৈনিক লেনদেন এমন অবস্থায় এসে ঠেকেছে যে বেশিরভাগ সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ইতিমধ্যে খরচ কমিয়ে আনতে অনেক কর্মচারীকে চাকরি থেকে ছাটাই হতে হয়েছে।

সূচকের একেকটি পয়েন্টের পতন যেনো বিনিয়োগকারীদের বুকে একেকটি সেলের মতো বিদ্ধ হচ্ছে। শেয়ার বাজারে ব্যবসা করে যারা জীবনযাপন করছেন শুধু তারাই নন যারা কষ্টে শিষ্টে কিংবা ধারদেনা করে গত ৭ বছর ধরে এখানে বিনিয়োগ করছেন তাদের অনেকেই শারিরিকভাবে কাবু হয়ে পড়েছেন। ৭ বছরেই যেনো তাদের বয়স ২০ বছর এগিয়ে গেছে।

এখন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ওপর। লাখো বিনিয়োগকারীর অভিভাবক হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসময় বসে থাকতে পারে না। কারণ বাজার ভালো থাকলে যেমন বিএসইসির প্রশংসা হয় তেমনি বাজার একটানা মন্দাবস্থায় থাকলে তার বিপরীত হয়। তাই লাখো মানুষের রুটি রুজির এই বাজারকে টেনে তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

৩ Comments

  1. শিশির said:

    সকল হাউজ, dsc,csc, শেষতক বিএসইসি সবাই হল প্রতারক। তারা যারা রক্ষক, বেশী ভাগ সময় তারা ভক্ষক এর ভূমিকা পালন করে।
    # এমন সব কোম্পানি অনুমোদন প্রদান করে যেগুলুর কোন ভিত্তি নেই,

  2. শিশির said:

    # যেগুলু বাজারে আসার পর প্রথম বছর বোনাস দিলেও, পরবর্তী বছর থেকে শূন্য ডিভিডেন্ড দিতে থাকে।
    # যখন কিছু খারাপ কোম্পানি শেয়ার এর দাম ২/৩ গুন বেড়ে যায়, সবাই (সকল রক্ষক রা) নিজেরাই বিনিয়োগ করে লাভবান হয়, তা বাজারে হিউমার ছড়িয়ে এবং ছোট ছোট বিণিয়োগ কারীদের ধরিয়ে দিয়ে সটকে পরে।

  3. শিশির said:

    # গত কয়েক বছর ধরে এমন কিছু কোম্পানিরর শেয়ার এর দাম ২/৩ বা ১০ গুন বেড়েছে, যেগুলু হয়ত বন্ধ বা বিগত ১০/১৫ বছরে লাভ দেওয়ার ইতিহাস নাই।
    # বিএসইসি এমন কিছু কোম্পানি কে অনুমোদন দিয়েছে যাদের ঠিকানা, বা ভিত্তি নাই।
    সবাই হল চোর।

*

*

Top