শেয়ারবাজারে তারল্য সংকটের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকই দায়ী

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে অব্যাহত দর পতনের কারণ হচ্ছে তারল্য সংকট। বাজারে এ ধরনের তারল্য সংকটের জন্য একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করেছে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা ব্যাক্তিরা। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথাই জানান ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন (ডিবিএ) ও মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতৃবৃন্দরা।

এর আগে বিকেলে সাড়ে ৩টায় ডিএসইর শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠক করেন ডিবিএ ও বিএমবিএ নেতৃবৃন্দরা।

বৈঠক শেষে ডিবিএ’র সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনেছি। তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা যায়, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংককের কারণেই হচ্ছে। কারণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীদের থেকে যে সাপোর্ট আমরা পেতাম; সেটা এবার পর্যাপ্ত নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা ও অসহযোগিতার কারনে পুঁজাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে না। ব্যাংক এক্সপ্রোজার লিমিট, বাংকের ঋণ ও আমানতের সুদ আনুপাতের ( এডিআর রেশিও) জটিলতা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ডিবিএ সভাপতি আরো বলেন, আমরা (সংগঠন) বারংবার বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেছি এক্সপ্লোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের (ক্রয় মূল্য) ভিত্তিতে গননা করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেট প্রাইজের ভিত্তিতে তা গননা করছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোন শেয়ারকে এক্সপ্লোজারের আওতায় গননা করছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।

বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর রেশিও সমন্বয় করলেও তার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে সাপোর্ট দিতে আমরা আইসিবিকে বরাবরই শক্তিশালী অবস্থান নিতে দেখেছি। তবে খোদ আইসিবিকেই যদি দুর্বল করে রাখা হয়; তাতে সাপোর্ট লেবেলও দুর্বল হয়ে যায়। বর্তমানে আইসিবির কাছেও পর্যাপ্ত মূলধন নাই। তাই তারাও বাজারে সাপোর্ট দিতে পারছে না। আর এজন্য বিনায়েগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়শনের সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, শেয়ারবাজারে ফান্ডের সংকট রয়েছে। ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা চেষ্টা করলেও বাজারে পজেটিভ ট্রেন ফিরিয়ে আনতে পারছে না। এমনকি শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি পজেটিভ অবস্থানে রাখা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারকে টেনে থুলতে পারছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জেগে ঘুমাচ্ছে। দেশের অর্থমন্ত্রী নিজেও বাংলাদেশ ব্যাংককে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহযোগিতায় করার জন্য বলেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তা করছে না।

এডিআর রেশিও বিষয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, ব্যাংকগুলোর এডিআর রেশিও ৬ মাসের মধ্যে সমন্বয় করার কথা বলা হলেও পরে এক সার্কুলারের মাধ্যমে এটির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে এডিআর রেশিও মেয়াদ বাড়লেও বাজারে তা নিয়ে এক প্রকার অস্থিরতা বিরাজ করছে।

নাসির উদ্দিন আরো বলেন, দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। তারা তাদের সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বানিয়োগ বাড়াতে পারে তাহলে পুঁজিবাজার অনেকটাই ইতিবাচক অবস্থায় উঠে আসবে। সরকারী ব্যাংকগুলো ফান্ডের মাধ্যমে যাতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ায় এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এগিয়ে আশার জন্য আহবায়ন করে এ জন্য তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়েছি বলে জানান তিনি। এর মধ্যে কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার বিবেচনা, একই বিনিয়োগ দৈত গণনা, বন্ডে বিনিয়োগকে এক্সপোজারের বাইরে দেখা। এসব বিষয়ে আমরা এখনো তেমন সাড়া পায়নি। আশা করছি বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেলে শেয়ারবাজারও ইতিবাচক হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

One Comment;

  1. শিশির said:

    সব দায় বাংলাদেশ ব্যাংক এর উপর চাপায় দিলে চলবে?
    # যখন একধারে জাং /বাজে শেয়ার গুলু ২/৩ গুন বাড়ে তখন কেউ দেখে না।
    # বিএসইসি যখন ভিত্তিহীন বাজে কোম্পানি গুলুকে অনুমোদন দিয়ে বাজারে নিয়ে আসে তখন সবাই চুপ করে থাকে।

*

*

Top