কাজে অসন্তুষ্ট: দুই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করবে বিএসইসি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এজন্য দুই এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এ উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএসইসির নির্দেশনায় ২০১২ সালে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগ গঠনের ৬ বছর পর প্রথমবারের মতো এর কার্যক্রম পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিদর্শন শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগের উন্নয়নে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির তথ্যানুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট সুশাসনসহ সার্বিক নজরদারির উদ্দেশ্যে ২০১২ সালে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগ গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার ৬ বছরেও যে উদ্দেশ্যে বিভাগটি গঠন করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়নি বলে মনে করছে কমিশন। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট সুশাসন ও নজরদারির প্রশ্নে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। তাই গত ৬ বছরে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে চায় বিএসইসি।

এজন্য গত ৬ মার্চ বিএসইসির পক্ষ থেকে ডিএসই-সিএসইর কাছে পরিদর্শনের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বিএসইসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার ও সহকারী পরিচালক মো. বণি ইয়ামিন খানের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির আগামী ২১ ও ২২ মার্চ ডিএসইর করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগ পরিদর্শন করার কথা জানানো হয়। আর সিএসইতে বিএসইসির উপপরিচালক মো. মিরাজ উস-সুন্নাহ ও সহকারী পরিচালক মওদুদ মোমেনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ পরিদর্শনে যাবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট সুশাসন ও নজরদারির বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সক্ষমতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এজন্যই দুই স্টক এক্সচেঞ্জের করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিদর্শন শেষে বিভাগটির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি এর সক্ষমতা বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত, সেটিও জানা যাবে। এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট সুশাসন ও সার্বিক নজরদারি জোরদারে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

এদিকে, করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শনের বিষয়টিতে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ডিএসই ও সিএসই। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরো আগেই নেয়া প্রয়োজন ছিল। এমনকি প্রতি বছর স্টক এক্সচেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন করা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সক্ষমতা ও দুর্বলতার বিষয়গুলো উঠে আসে, যার ফলে বিভাগের উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top