অর্থ সঙ্কটে আইসিবি: আড়াই হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়তে চায়

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: একক গ্রাহক ঋণ সীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) এর কারণে অর্থ সঙ্কটে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এ জন্য কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না। তাই অর্থ সঙ্কট কাটাতে দীর্ঘ মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় আইসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ।

আইসিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বন্ড ছাড়ার বিষয়টি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বন্ডের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অনুযায়ী কোন ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি একক কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

জানা যায়, পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেওয়ার বিশেষ উদ্দেশ্যে আইসিবি গঠন হয়েছিল। এতোদিন সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট আইসিবি’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে যতখুশি ঋণ নিতে পারতো আইসিবি। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনার মাধ্যমে আইসিবি-কে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিটের আওতায় নিয়ে আসে। এতে যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ ১৫ শতাংশের বেশি ছিল আইসিবি-তে তাদের টাকা পরিশোধ করে সমন্বয় করতে হয়েছিল। পরিণতিতে পুঁজিবাজারে সেল প্রেশার বেড়ে যায় এবং সূচকের বড় পতন ঘটে।

আইসিবি’র কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে ব্যাংকের নির্দেশনার পূর্বে বিশেষ করে সরকারি ব্যাংক আইসিবি-তে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেছে। নির্দেশনার কারণে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট সমন্বয়ের জন্য শেয়ার বিক্রি করে ব্যাংকগুলোকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই সময় আইসিবি প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। বর্তমানে একক গ্রাহকে এক্সপোজার লিমিটের কারণে বড় কোন ফান্ড পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পুঁজিবাজারের সঙ্কটকালে আইসিবি বড় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে গত বৃহষ্পতিবার ডিবিএ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে আইসিবি’র ক্ষেত্রে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিটের কড়াকড়ি তুলে দেওয়ার দাবী জানানো হয়েছে। বিষয়টির সমাধানে অর্থমন্ত্রীর কাছেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, আইসিবি গঠন করা হয়েছে পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসিবি-কে দুর্বল করছে। এতে পুঁজিবাজারের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারী।

গত বছরের নভেম্বরে ডিএসই প্রধান সূচক সর্বোচ্চ ৬৩৩৬ পয়েন্ট ছিল। কিন্তু বর্তমানে সূচক নামতে নামতে ৫৫৮০ পয়েন্টে ঠেকেছে।

উল্লেখ্য, আইসিবি’র দীর্ঘমেয়াদি ঋণ মান ‘এএএ’। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৪৬১ কোটি টাকা প্রকৃত মুনাফা করেছে। পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ ক্যাশ এবং ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top