যে কারণে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার হিসাব ক্রয় মূল্যে হচ্ছে না

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবের ক্ষেত্রে শেয়ারের কেনা দাম বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এক্সপোজার হিসাবের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যের হিসাব অনুসরণ করলে তাতে আন্তর্জাতিক ঋণমানে পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, বর্তমানে তারল্যের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তার অন্যতম কারণ ফারমার্স ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছে না- এমন খবরে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলন। এটি ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৪০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক খাত ও শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়, শেয়ারবাজারে এক্সপোজার হিসাবের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ‘মার্ক টু মার্কেট’ পদ্ধতি প্রচলিত। আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডিস এবং এসঅ্যান্ডপির রেটিং দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। কোনো কারণে এ অবস্থান থেকে সরে এলে ঋণমানে বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে পড়তে পারে। আমদানি ও রফতানির খরচ বাড়তে পারে। বিদেশি ঋণ নিতে বেশি সুদ ব্যয় করতে হবে। এ কারণে এ পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে না।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না। সমন্বিত পদ্ধতিতে তথা সাবসিডিয়ারিতে বিনিয়োগসহ ব্যাংক ও তার সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানি মিলে এসব উপাদানের ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করা যাবে। তবে সম্প্রতি শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার হিসাব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে হওয়ায় শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ কমে গেছে। তারা ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে এ হিসাব চান।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top