শেয়ারবাজার লেজেন্ড ড্যান জেঙ্গার: দুই বছরে ১০ হাজার ডলার থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ মুনাফা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে যারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তাদের মধ্যে ড্যান জেঙ্গার অন্যতম। তার চমকপ্রদ জীবনী সবাইকেই অভিভূত করে। একজন পুল কনট্রাক্টর কিভাবে শেয়ার মার্কেটে ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে উপনীত করে সেই তত্ত্বের রহস্য খুঁজে না পেয়ে এক বাক্যে ড্যানকে নিয়ে সবাই ভাগ্যেরই প্রশংসা করে যাচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবনী

ডেনিয়েল জে. জেঙ্গার লস অ্যাঞ্জেলসের সেন ফার্নান্দো ভ্যালীতে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা একজন ফিজিশিয়ান এবং মা একজন সাইকোলজিষ্ট। কলেজ পর্যন্ত গিয়েই পড়াশোনায় আর বেশিদূর যায়নি ড্যান জেঙ্গার। কয়েক বছর ক্লোরাডো এবং ইডাহো’তে স্নো স্কী (বরফ স্কীইং খেলা) খেলেন। তার বয়স ২০ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত ড্যান বিভিন্ন পেশায় যেমন বেল হপ,ক্যাব ড্রাইভার এবং প্রিপ কুকের কাজ করেন। অবশেষে তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের ফিরে আসেন এবং একটি ল্যান্ডসক্যাপ কোম্পানিকে চাকরী করেন। অতপর ক্যালিফোর্নিয়া কনট্রাক্টর লাইসেন্স নিয়ে তিনি বেভারলি পাহাড়ে নিজস্ব তত্বাবধানে একটি সুইমিং পুল তৈরি করেন।

তার মা এলায়েন স্টক মার্কেটে জড়িত ছিলেন এবং তিনি তার মায়ের সঙ্গে স্টক মার্কেটে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৮ সালে একদিন ডেন দেখেন একটি কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়ে মাত্র ১ ডলারে নেমে এসেছে তিনি সেই শেয়ারে প্রথম বিনিয়োগ করেন। কয়েক সপ্তাহ পর ড্যান সেই শেয়ারটি ৩ ডলারে বিক্রি করেন। সেই থেকেই ড্যান জেঙ্গারের শেয়ার মার্কেটে পথ চলা শুরু হয়।

যেজন্য বিখ্যাত

মাত্র দুই বছরের মধ্যে ড্যান জেঙ্গার তার ১০ হাজার ডলার পুঁজিকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে বৃদ্ধি করেন। শেয়ারের চার্ট প্যাটার্ন, প্রাইস এবং ভলিউম ছাড়া শেয়ার মার্কেটে ইনভেষ্টের জন্য তার বাড়তি আর কিছু ছিলো না। ড্যান শুধু সুইমিং পুল তৈরিতেই অভ্যস্ত ছিলেন। কিভাবে শেয়ার মার্কেটে লেনদেন করতে হয় সে বিষয়ে তিনি শুধু ১০ বছর শিক্ষাই নিয়েছেন। তার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট তিনবার বাতিল হওয়ার পরেও তিনি ঘুরে দাঁড়ান এবং মাত্র ১০ হাজার ডলারকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে উপনীত করেন। আর এটি বিশ্বের এখনো পর্যন্ত কেউ করে দেখাতে পারেনি।

ড্যান জেঙ্গারের শেয়ার ব্যবসায়ের নিয়ম:

০১। আপনার স্টকের পারফরমেন্স ভালো অবস্থায় রয়েছে কিনা আগে তা নিশ্চিত হতে হবে।

০২। বেজ অথবা প্যাটার্নের ট্রেন্ড লাইনের ওপর যখন শেয়ারটি অগ্রসর হয় তখন ক্রয় করতে হবে। কি পরিমাণ শেয়ার মুভমেন্ট করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং অবশ্যই ট্রেন্ড লাইনের ৫ শতাংশ উপরে গেলেই আর কেনা যাবে না। একমাসে গড়ে কি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলো সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

০৩। ট্রেন্ড লাইন অথব ব্রেকআইট পয়েন্টের মধ্যে রিটার্ন আসলে যত দ্রুত সম্ভব শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নিতে হবে। তবে বেশি দামি শেয়ারে ২ শতাংশ স্টপ লস যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

০৪। ব্রেকআউট পয়েন্টের ১৫-২০ শতাংশ মুভমেন্ট করলেই হাতে থাকা শেয়ারের ২০-৩০ শতাংশ বিক্রি করে দেয়া উত্তম।

০৫। শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করুন এবং মন্দা শেয়ারগুলোর যখনই মুভমেন্ট কমে যায় তখনই এগুলো থেকে বের হয়ে আসুন। কারণ সেসব শেয়ারই ভালো যেগুলোর মুভমেন্ট ভালো।

০৬। মৌলভিত্তির গ্রুপ বা ক্যাটাগরি চিহ্নিত করুন এবং এসব গ্রুপের ভালো শেয়ারগুলো ধরে রাখুন।

০৭। সামগ্রিক মার্কেট যদি খারাপ অবস্থায় থাকে এবং হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির অযোগ্য হয়ে যায় তাহলে নতুন করে হাই ট্রেন্ড লাইন সম্পর্কে জানুন,শিখুন এবং শেয়ার থেকে বের হওয়ার জন্য রিভার্সাল প্যাটার্ন সম্পর্কে জেনে নিন।

০৮। যতক্ষণ না ক্যাপিটাল মার্কেট, বিভিন্ন চার্ট এবং নিজের আবেগ সম্পর্কে মাস্টার হচ্ছেন ততক্ষণ মার্জিন ঋণের দিকে যাবেন না। মার্জিন ঋণ আপনাকে পুরো বাজার থেকেই বের করে দিতে পারে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top