ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় পুঁজিবাজার

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই পুঁজিবাজার প্রচন্ড চাপের মুখে রয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৫০০ পয়েন্টের নিয়ে চলে আসার পরই বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করেছে। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিনে বাজারে বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে ১০৮ পয়েন্ট বেড়ে সূচক ৫৫৯৭ পয়েন্টে দাঁড়ানো এবং ৪৭০ কোটি টাকার দৈনিক লেনদেনের চিত্র যেন মন্দের ভালো হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন বাজার সংশ্লিষ্ট মহলের তৎপরতা ও অর্থ মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে এখনো আশার আলো দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বিক দিক বিবেচনা করে যদি যথাযথ উদ্যোগ নেয় তবে ব্যাংকখাতসহ সকল ক্ষেত্রেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাব নির্ধারণে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে গণনার প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তবে ব্যাংকের তারল্য সংকট নিরসনে তারা উদ্যোগী হবে বলে আশা করা যায়। এ বিষয়ে কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এদিকে বিশ্ব পুঁজিবাজারেরও বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে গেল বৃহস্পতিবার এশিয়ান মার্কেটও ছিলো বেশ ঊর্দ্ধমুখী। জাপানের মার্কেট ছিল তার শীর্ষে ১.৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে। তাছাড়া চায়নার সানহাই কম্পোজিটের ০.২৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হাংশেস ০.২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ক্রমাগত দরপতনের সাথে বিনিয়োগকারীরা বেশ ভীতিকর পরিস্থিতিতে রয়েছেন। তবে ব্যাংকখাতে ঊর্দ্ধমুখী মনোভাব ও আসন্ন ব্যাংকের ভালো ডিভিডেন্ড বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী হতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

গেল সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিম্নমুখী বাজারে নিরাপদ অবস্থা হিসেবে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। এটিও বাজারের আস্থা ফেরার লক্ষণ। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে একটি শঙ্কামুক্ত বাজারের আশায় রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের তৎপরতায় খুব শিগগিরই দেশের পুঁজিবাজার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে অপ্রয়োজনীয় গুজবকে ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীরা প্রভাবিত হয় যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। তবে বিনিয়োগকারীরা গুজব পরিহার করে যাচাই বাছাই সাপেক্ষে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বিনিয়োগ নিরাপদ থাকতে পারে। আর সচেতন বিনিয়োগকারীরা সচেতনভাবে বুঝে শুনে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিলে এ বাজার থেকে মুনাফা তোলা অসম্ভবের কিছু নয়।

গতকাল অর্থমন্ত্রী ব্যাংকারদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার বিষয়টি আর্থিক খাতের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাছাড়া আগামী দিন বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের সকলের সাথে অর্থমন্ত্রীর সভা হওয়ার বিষয়টি পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাতকে গতিশীল করবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: তামান্না প্রিয়ান।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top