বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে পুঁজিবাজারে এসেছি: এহসানুল হাবীব

দেশের তৈরি পোষাক খাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ্যাস্’কোয়ার নিট কম্পোজিট লি:। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক কোম্পানিটি ইতিমধ্যে শেয়ার দর নির্ধারণের জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এহসানুল হাবীব। তিনি ইউএসএ থেকে ব্যবসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। কোম্পানির টেকনিক্যাল এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নে তিনি নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে নিরলস কাজ করছেন। সম্প্রতি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের প্রতিবেদকের সঙ্গে এহসানুল হাবীব তার কোম্পানির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের পাঠকদের উদ্দেশ্যে আলোচনার চুম্বক অংশ প্রকাশ করা হলো:

শেয়ারবাজারনিউজ: সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কোম্পানির বিক্রি বাবদ আয় থেকে প্রকৃত মুনাফার মার্জিন কমেছে। কিন্তু আপনাদের সন্তোষজনক হারে বেড়েছে। এর কারণ কি?

এহসানুল হাবীব: তৈরি পোশাক কোম্পানিতে অনেক কাপড় পরিত্যক্ত হয়। যেমন ১০০ কেজি কাপড় কেটে তার থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করা হয়। বাকি ৩০ শতাংশ কোন কাজে আসে না। কিন্তু কোম্পানিকে পুরো ১০০ কেজি কাপড়ের খরচ বহন করতে হচ্ছে। তাই এমন অপব্যয় ঠেকিয়ে উৎপাদন খরচ কমাতে আমরা কোম্পানিতে স্বয়ংক্রিয় আধুনিক রোবটিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি। এতে হাতের কোন ছোঁয়া ছাড়াই কাপড় কেটে পোশাক তৈরি হচ্ছে। আমাদের কারখানায় কাপড়ের অপব্যয় খুবই কম। আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে আমাদের অন্যান্য খরচও কমে গেছে। তাই কোম্পানির প্রকৃত মুনাফার হার সন্তোষজনক ভাবে বাড়ছে। আগামীদিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: শিল্পখাতে আমাদের দেশে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এর সংকটও রয়েছে। এর জন্য অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। এমন অবস্থায় আপনাদের পরিস্থিতি কি?

এহসানুল হাবীব: কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে আমরা নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমাদের কেন্দ্রটি কেপটিভ পাওয়ার, ফুয়েলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৫ মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমাতে আমরা সোলার প্যানেল স্থাপন করবো। এর মাধ্যমে আমাদের কারখানায় দৈনিক ৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। বৈদেশিক সংস্থার অর্থায়নে সোলার প্যানেল বসানো হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বাংলাদেশ উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নাম লেখাতে যাচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এমন অর্জনে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে শুল্ক সুবিধা হারানো। আর এমন হলে পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টিকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

এহসানুল হাবীব: দেখুন যক্তরাষ্ট্রে আমরা জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি না। তাছাড়া ব্রেক্সিটের কারণেও আমাদের চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেমে নেই। প্রতি বছর এ খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তাছাড়া সারা বিশ্বে আমাদের দেশের মত কম মূল্যে পোশাক তৈরির সক্ষমতা অন্য দেশের নেই। তাই আমি মনে করি এমন চ্যালেঞ্জ আমরা খুব ভালভাবেই পার করতে পারবো।

শেয়ারবাজারনিউজ: বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বান্ধব কারখানা নির্মাণের সংস্কৃতি চলছে। আমাদের দেশেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশ বান্ধব কারখানা নির্মাণের স্বীকৃতি পেয়েছে। আপনারাও নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কোন পরিকল্পনা করছেন?

এহসানুল হাবীব: পরিবেশ বান্ধব কারখানা নির্মাণ নিয়ে আমরাও কাজ করছি। ময়মনসিংহে আমাদের নতুন কারখানাটি হবে সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব। আমাদের কারখানাটি দেশের হয়ে প্রথমবারের মত গ্রীণ প্লাটিনাম সনদ অর্জন করবে। এছাড়া বিদ্যমান কারখানাগুলোকেও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব করে তোলা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। আপনাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও অনেক। চ্যালেঞ্জটি কিভাবে দেখছেন?

এহসানুল হাবীব: শুরু থেকেই এ্যাস্’কোয়ার গ্রুপ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছি। আমাদের কোম্পানির দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রতি বছর বিনিয়োগকারীদের ভাল মুনাফা দেয়ার সক্ষমতা ধরে রাখবে।

শেয়ারবাজারনিউজ কে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এহসানুল হাবীব: শেয়ারবাজারনিউজ-কেও  ধন্যবাদ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

Top