কিভাবে বুঝবেন শেয়ারটি লাভজনক হবে কিনা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: কোন শেয়ারটি কিনলে লাভজনক হবে এমন বিশ্লেষণ প্রায় সব বিনিয়োগকারী করে থাকেন। কিন্তু কোন শেয়ারটি কিনে ষাঁড়ের পিঠে চড়া যাবে সে ধারণা নেয়া অনেকের পক্ষে কষ্টকর। তবে সাধারণত ৬টি পদ্ধতি অবলম্বন করলে লাভজনক শেয়ার চেনা যায়।

শেয়ার বাজার চাঙ্গা হওয়ার প্রথম দিকেই যদি বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে বড় ধরনের লাভ করার একটা সুযোগ থাকে। কিন্তু, এই সময়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করাটা অনেক সাহস ও ঝুঁকির ব্যাপার।

তবে, আপনাকে তো কেউ বলেনি পুরো মাংসের রোলটা একবারে খেয়ে ফেলতে। প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু করুন, পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।

শেয়ার বাজার যখন চাঙ্গা থাকে, তখন নিচের কিছু নিয়ম মেনে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। তাতে সাহস কম লাগবে, আবার ঝুঁকিও কম থাকবে।

> দর-কষাকষি করতে জানাঃ
পড়তি বাজারের শেষের দিকে প্রায় সব কোম্পানীর নির্ধারিত দামেই শেয়ার কেনার একটা ভাল সুযোগ থাকে। যেসব কোম্পানীর গ্রোথ মোটামুটি ভালোর দিকে এবং ধীরে ধীরে উন্নতি করছে, সেসব কোম্পানীর শেয়ার কেনায় ঝুঁকি অনেক কম। ভাল করে খোঁজখবর নিয়ে অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করতে পারেন।

> ভাল ফান্ডামেন্টাল শেয়ার খুঁজে বের করাঃ
যে কোম্পানীর শেয়ার কিনবেন বলে ভাবছেন। তাদের পণ্যের বিক্রি এবং বার্ষিক আয় কেমন? পণ্যের বেচা-কেনা কি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে? গত বছরের এই সময়টায় কি অবস্থা ছিল তাদের? আপনি নিজে কি ঐ কোম্পানীর পণ্য বা সার্ভিস নিয়ে সন্তুষ্ট? সোজা কথায় সাধারন মানুষের কাছে কোম্পানীর ভাবমূর্তি কেমন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভাল করে জেনে নিতে হবে।

> শেয়ারের দাম নয়, মূল্যকে গুরুত্ব দেয়াঃ
কিছু শেয়ার থাকে যা বিনিয়োগকারীদের আলোচনায় থাকে সব সময়। কিন্তু কোনটা কিনবেন আর কোনটা কিনবেন না, সেই ঝুঁকি কিন্তু নিতে হবে আপনাকেই।

হিসেব করে দেখুন কোন শেয়ার কিনবেন। যার বাজারমূল্য কম কিন্তু ভবিষ্যতে ভাল করবে এমন কিছু। নাকি কোন কারন ছাড়াই শেয়ার বাজারে নাম-ডাক আছে এমন বড় কোম্পানির শেয়ার?

> সঠিক সেক্টর/খাত বেছে নেয়াঃ
অর্থনীতির কোন খাত কোন সময় মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সেটা ঠিক করে নিতে হবে। দেখে নিন কোন কোন সেক্টরে লেনদেন ধীরে ধীরে বাড়ছে।

> নিজের পোর্টফোলিও গোছানোঃ
আপনার পোর্টফোলিও আপনাকেই গোছাতে হবে। ঠিক করে নিন কোন ধরনের শেয়ার কিনলে পোর্টফোলিও শক্তিশালী হবে। ১০-১২টা কোম্পানির শেয়ার কিনে পোর্টফোলিও ভরাবেন? নাকি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে
পোর্টফোলিওকে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি এই ৩ ভাগে ভাগ করে বিনিয়োগ করবেন।

> নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে আসুনঃ
বাজারের অবস্থা এখন চাঙ্গা নাকি মন্দা যাচ্ছে এসব কিন্তু কখনোই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনার বিষয় হতে পারেনা।

আপনাকে দেখতে হবে নিজের ভবিষ্যৎ। আজ থেকে কয়েক বছর পর আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান? এখন আপনার বয়স কত এবং অবসরে যাবেন কত বছর পরে? ব্যাক্তিগতভাবে আপনার অনেক চাওয়া পাওয়া থাকতেই পারে, সেগুলো কি পূরন হচ্ছে নাকি শেয়ার বাজারে সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করেই আপনার দিন কেটে যাচ্ছে? এখন যদি আপনার বয়স ৩৫ হয় তাহলে কম বেশি ঝুঁকি কিছুটা নেয়া যেতেই পারে। কিন্তু বয়স যখন ৬৫ হয়ে যাবে তখন?

সুতরাং, প্রতিটা পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top