হট আইটেমে লো-পেইড আপের ৫ কোম্পানি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বর্তমান পুঁজিবাজারে যেখানে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার দর তলানিতে এসে ঠেকেছে তখনই দুর্বল ও স্বল্প পরিশোধিত মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। লোকসানি ও ঝুঁকিপূর্ণ পিই রেশিও থাকা স্বত্ত্বেও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী এসব কোম্পানি নিয়ে কয়েকদিন পরপরই কারসাজি করে যাচ্ছে। আর এই চক্রের ফাঁদে পড়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

জানা যায়, তালিকাভুক্ত মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্স এর শেয়ার দর এই কয়েকদিন আগেও (২৯ মার্চ) ৭৮৭ টাকা ছিলো। কয়েকদিনের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর এখন ১৫৬০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৪৬ লাখ টাকা এবং পিই রেশিও ২৭৪১! অর্থাৎ ভয়ঙ্কর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া স্বত্ত্বেও এ কোম্পানির শেয়ার দর আকাশচুম্বী হচ্ছে। এদিকে লো-পেইড আইপের আরো কিছু কোম্পানিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এগুলোর শেয়ার দর দিন দিন বেড়ে চলেছে।

টানা তিন কার্যদিবস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে সোনালী আঁশের শেয়ার দর। গত ১০ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিলো ২১৭ টাকা। সেখানে বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। আজ এ কোম্পানির শেয়ার দর ৮.৭৩ শতাংশ বা ২২.৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনালী আঁশের পরিশোধিত মূলধন ২ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং পিই রেশিও ১৮৪.২৮।

এদিকে জেড ক্যাটাগরি ও লোকসানি কোম্পানি হওয়া স্বত্ত্বেও কিছুদিন পর পর দুলামিয়া কটনের শেয়ার দর নাড়াচাড়া দিয়ে উঠছে। গত বছর কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিলো ফেসভ্যালুর নিচে মাত্র ৭.৮০ টাকা। সেখানে একবছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪২.৬০ টাকা। একবছরের ব্যবধানে এতো বিশাল পরিমাণ রিটার্ন দেয়া কোম্পানির সংখ্যা বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। দুলামিয়া কটনের পরিশোধিত মূলধন ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

জেমিনি সী ফুডের শেয়ার দর আজ ৪.৯৪ শতাংশ বা ২১.৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বশেষ ৪৫৬.৪০ টাকায় অবস্থান করছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও পিই রেশিও ৮৯.৮৫।

স্টাইল ক্রাফট লিমিটেডের শেয়ার দর আজ ৬.২৫ শতাংশ বা ১০৯.২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বশেষ ১৮৫৬.৫০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৯ লাখ টাকা এবং পিই রেশিও ৭৫.০৪। অবশ্য স্টাইল ক্রাফট প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের হ্যান্ডসাম ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে। ভালো মৌলভিত্তি কোম্পানি হওয়া স্বত্ত্বেও কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন অত্যন্ত কম। কোম্পানির মোট ৯ লাখ ৯০ হাজার শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে মাত্র ৩০.৮০ শতাংশ বা ৩ লাখ ৪ হাজার ৯২০টি শেয়ার। এতো কম পরিমাণ শেয়ারে যে কেউ বেশির ভাগ শেয়ার কিনে নিলে শেয়ার সংকট তৈরি হয়ে যায়। এতে ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শেয়ার দরও বৃদ্ধি পায়।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top